পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরানোয় আইসিসিকেই প্রধান ভূমিকা রাখতে হবে বলে একটা মত তৈরি হয়েছে। কিন্তু আইসিসির প্রধান নির্বাহী ডেভ রিচার্ডসন বলছেন, ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলোকে আবারও পাকিস্তানে খেলতে যাওয়ার ব্যাপারে রাজি করাতে উদ্যোগ নেয়ার মত অবস্থায় নেই আইসিসি।
২০০৯ সালে পাকিস্তান সফররত শ্রীলঙ্কা দলের বাসে সন্ত্রাসী হামলার পরে আর কোন টেস্ট খেলুড়ে দেশ পাকিস্তানে সফর করতে রাজি হয়নি। ঐ সন্ত্রাসী হামলায় ছয় পুলিশ কর্মকর্তাূসহ মোট সাত জন লোক মারা যান ।
বর্তমানে পিসিবি দাবি করছে, তাদের দেশ ক্রিকেট সফরের মতো নিরাপদ। সে উদ্দেশ্যে তারা নানামুখী চেষ্টাও করছে। কিন্তু গত শনিবার লাহোরে আইসিসির প্রধান নির্বাহী ডেভিড রিচার্ডসন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা (আইসিসি) নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ নই। আমি নিজেও কোন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ নই যে, চাইলেই আমি নিরাপত্তা অথবা খেলোয়াড়দের বিষয়ে কোন নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে পারব। এটা সম্পূর্ণভাবেই পিসিবির ব্যাপার যে, তারা কিভাবে অন্য দেশগুলোকে পাকিস্তানে খেলতে আসার ব্যাপারে আশ্বস্ত করবে। তাদেরই ঠিক করতে হবে যে, তারা কি করবে।’
শ্রীলঙ্কা দলের উপর সেই ভয়াবহ হামলার পরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের ‘হোম’ সিরিজগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাতে আয়োজন করতে বাধ্য হয়। তবে আরব আমিরাতে আসতে রাজি হলেও পাকিস্তানের শত নিরাপত্তা নিশ্চয়তার পরেও কেউই পাকিস্তানে আসতে রাজি হয়নি। কারণ হিসেবে সবাই দেখিয়েছে নিরাপত্তার ব্যাপারটি। ভারত, অস্ট্রেলিয়ার মত প্রথম সারির দেশগুলো তো বটেই বাংলাদেশও গত দশ মাসে দুই বার স্থগিত করেছে পাকিস্তান সফর।
এ ব্যাপারে রিচার্ডসন বলেন, ‘নিরাপত্তা হচ্ছে এমন একটি বিষয় যাকে কখনোই হালকাভাবে দেখার উপায় নেই। কোন্ জায়গায় খেলতে যাওয়া কতটা নিরাপদ কিংবা খেলতে গেলে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি জড়িত কিনা এসব বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা হাতে পাওয়ার পরেই কেবল সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব। আর বিষয়টি যেখানে পাকিস্তানে কোন দলের খেলতে যাওয়ার ব্যাপারে সেখানে আইসিসির কোন ভূমিকা নেই। এটা পুরোপুরিই নির্ভর করছে ঐ দেশের উপর। আর বিষয়টি যখন দ্বিপাক্ষিক পর্যায়ে আসবে তখন তারা নিজেরাই নিজেদের নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেবে।’
