বছরের প্রথম গ্রান্ড স্লাম টুর্নামেন্ট অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার লেটন হিউয়িট। তবে গতকাল সহজ জয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে পা রেখেছেন টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট নোভাক জোকোভিচ এবং মারিয়া শারাপোভা।
বিপুল দর্শক সমর্থন নিয়ে কোর্টে নামা হিউয়িট টুর্নামেন্টের প্রথম রাউন্ডে গতকাল রাতে মুখোমুখি হন সার্বিয়ার জ্যাঙ্কো টিপসেয়েরভিচের। ২০০১ সালের ইউএস ওপেন জেতা হিউয়িট শুরুটা ভালভাবে করলেও প্রথম সেটের মাঝামাঝি গিয়েই খেই হারিয়ে ফেলেন। টাইব্রেকারে জ্যাঙ্কো প্রথম সেট জেতার পরে দ্বিতীয় সেটেও এক পর্যায়ে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিলেন হিউয়িট। তবে প্রথম সেটের পুনরাবৃত্তি করে ৭-৫ ব্যবধানে দ্বিতীয় সেটেও জেতেন জ্যাঙ্কো । তৃতীয় সেটে হিউয়িট তার স্বভাবসুলভ লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দিলেও শেষ পর্যন্ত পেরে ওঠেননি আট নাম্বার বাছাই জ্যাঙ্কোর সাথে। ফলে ৭-৬ (৭-৪),৭-৫,৬-৩ সেটে হেরে হিউয়িটের পরাজয় নিশ্চিত হয়ে যায়।
টুর্নামেন্টের প্রথম দিনে পুরুষ এককে শীর্ষ বাছাইদের মধ্যে মাঠে নেমেছিলেন সার্বিয়ার নোভাক জোকোভিচ , চেক প্রজাতন্ত্রের টমাচ বার্ডিচ এবং স্পেনের নিকোলাস আলমেগ্রো। আলমেগ্রোকে জিততে ঘাম ঝরাতে হলেও সহজেই দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করেছেন বাকি দুজন।
২০১২ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে জেতার পরে নিজের শার্ট ছিড়ে সেই দারুণ উদযাপনের পরে এ বছরেও টুর্নামেন্টে নিজের প্রথম ম্যাচটি দারুণ ভাবে জিতে নোভাক জোকোভিচ জানিয়ে দিলেন এত সহজে মেলবোর্ন পার্কের রাজত্ব ছাড়ছেন না তিনি। রড লেবার এরেনায় প্রথম রাউন্ডে তার প্রতিপক্ষ ছিলেন ফ্রান্সের পল হেনরি ম্যাথিউ । ম্যাচের শুরু থেকেই দারুণ খেলতে থাকা জোকোভিচ তিনবার ব্রেক পয়েন্টের মুখোমুখি হয়ে তিনটি পয়েন্টই রক্ষা করতে সমর্থ হন। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিজের মেজাজ সামলে রাখা এই সার্বিয়ান পরে ম্যাচটি সহজেই জিতে নেন ৬-২,৬-৪,৭-৫ সেটের ব্যবধানে। জোকোভিচের সামনে এখন ইতিহাস গড়ার হাতছানি। ১৯৬৮ সালে টেনিসে ওপেন যুগ শুরু হওয়ার পরে টানা তিনবার অস্ট্রেলিয়ান জিততে পারেননি কেউই। নয়জনের রেকর্ড আছে টানা দুবার জেতার। তবে, ২০১১ এবং ১২ সালে জেতার পরে এবার জোকোভিচের সামনে হাতছানি দিচ্ছে সেই রেকর্ড। তাই জয়ের পরে ম্যাচের চেয়ে জোকোভিচকে বেশি কথা বলতে হয়েছে সে ব্যাপারেই। জোকোভিচও বলেছেন, খেলার প্রতি তার ভালবাসার কথা। বলেছেন এ ধরনের সম্মান তার জন্য কতটা তাত্পর্য বহন করে। তিনি বলেছেন, ‘যে কোন অর্জন আর বিশেষ করে যদি তা ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকে তবে তা আমার কাছে বিশাল তাত্পর্য বহন করে। আমি এই খেলাটাকে ভালবাসি। চার বছর বয়স থেকে এই খেলাটাই আমার ধ্যান জ্ঞান। খেলার প্রতি সেই তীব্র আকাঙ্ক্ষা থেকেই আমি খেলে যাচ্ছি। তবে আমার মনে হয় রেকর্ড নিয়ে এই মুহূর্তেই কথা বলাটা বোকামি। কারণ বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়ই রয়েছেন যারা শিরোপার যোগ্য দাবিদার।’
কলাম্বিয়ার সান্টিয়াগো গিরার্ল্ডোকে ২-৬,৬-৪,৭-৫.৬-৪ ব্যবধানে হারানো আমেরিকার রায়ান হ্যারিন দ্বিতীয় রাউন্ডে জোকোভিচের মুখোমুখি হবেন। পুরুষ এককে পঞ্চম বাছাই চেক প্রজাতন্ত্রের টমাস বার্ডিচ মাইকেল রাসেলকে হারিয়েছেন ৬-৩,৭-৫.৬-৩ ব্যবধানে। আর দশম বাছাই স্পেনের নিকোলাস আলমেগ্রো ৭-৫,৬-৭ (৪-৭),৬-২,৬-৭ (৬-৮),৬-২ সেটের এক ম্যারাথন ম্যাচে আমেরিকার স্টিভ জনসনকে হারান। তবে ব্রিসবেন ইন্টারন্যাশনালের ফাইনালিস্ট গ্রিগর দিমিত্রভ ৬-৪,৬-২,৬-৪ ব্যবধানে হেরে গেছেন ফ্রান্সের জুলিয়ান বেরেতুর কাছে।
নিজেদের প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দিয়ে বছরটা দারুণ ভাবেই শুরু করেছেন আমেরিকার ভেনাম উইলিয়ামস এবং রাশিয়ার মারিয়া শারাপোভা। সেন্টার কোর্টে দ্বিতীয় বাছাই শারাপোভা ৬-০,৬-০ ব্যবধানে হারান স্বদেশী ওলগা পাচকোভাকে। ২০০৮ সালে এই মেলবোর্নেই নিজের তৃতীয় গ্রান্ড স্লাম শিরোপা হাতে তোলা শারাপোভা ম্যাচ শেষে বলেন, ‘খেলতে নামার পরে আমি এই ব্যাপারটা মোটেই মাথায় আনিনি যে গত বেশ কিছু দিনে আমি খুব বেশি ম্যাচ খেলতে পারিনি। আমার ভাবনা ছিল শুধুই আমার প্রতিপক্ষকে নিয়ে। আমি খেলায় মনোযোগ দিয়েছি এবং অবশ্যই আগ্রাসী হতে চেয়েছি।’ ভেনাস উইলিয়ামস কাজাখস্তানের গ্যালিনা ভস্কোয়েভাকে হারিয়েছেন ৬-১,৬-০ ব্যবধানে। জয় পেয়েছেন টুর্নামেন্টের ষষ্ঠ বাছাই চিনের লি না, নবম বাছাই সামান্থা স্টোসুর এবং রাশিয়ার আন্দ্রেই কুজনেতসেভা।
