সেপ্টেম্বরে নেপালে অনুষ্ঠিতব্য সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের পর অক্টোবরে ঢাকায় আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের কথা ভাবছে বাফুফে। আগেই বাফুফে সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন জানিয়েছিলেন আরব আমিরাত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়াকে আনতে চান ঢাকায় । কিন্তু এখন তার চেয়ে শক্তিশালী দল ঢাকায় আনার কথা ভাবছে বাফুফে। বাহরাইন, কাতারকে ঢাকায় আনা যায় কিনা তা নিয়ে আলোচনা করা হবে বলে গতকাল জানিয়েছেন বাফুফে সভাপতি।
বাহরাইনে গালফ ফুটবল ফাইনাল দেখার জন্য বাফুফেকে আমন্ত্রণ পাঠিয়েছে সে দেশের ফেডারেশন। ১৮ জানুয়ারি সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন, সহ-সভাপতি তাবিথ আউয়াল যাবেন খেলা দেখতে। সেখানে অন্য দেশের ফুটবল সভাপতিরাও আসবেন। বাহরাইন গিয়ে কাজী সালাহউদ্দিন ফুটবল কূটনৈতিক আলোচনা করবেন। কিভাবে বাহরাইন এবং কাতারকে ঢাকায় আনা যায়। অন্যান্য দেশকেও ঢাকায় আসার জন্য আমন্ত্রণ জানাবেন।
ফুটবলে মহাযজ্ঞ নিয়ে নেমেছেন বাফুফে সভাপতি। এক দিকে ডাচ কোচদের জন্য দুই বছরে ব্যয় হবে বিশাল অর্থ। তার উপর আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টের জন্য বড় অংকের অর্থ। কোথা থেকে আসবে এই অর্থ সেটাই এখন বাফুফের মূল ভাবনা। টুর্নামেন্টের ব্যয় নিয়ে এখনই না ভাবলেও কোচদের জন্য দুই বছরে প্রায় আট থেকে দশ কোটি টাকা ব্যয় হবে।
কাজী সালাহউদ্দিন প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দিতে আপাতত তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের কাছে হাত বাড়িয়েছেন। বন্ধুদের প্রথমে বলেছেন ব্যক্তিগত প্রয়োজনে টাকা চাই। বন্ধু টাকা দিতে রাজি হওয়ায় পরক্ষণেই বলেছেন ফুটবলের প্রয়োজনে টাকা লাগবে। একশজন বন্ধুর কাছ থেকে ১০ লাখ করে টাকা নেয়ার চিন্তা করেছেন। এরই মধ্যে ৩০-৪০ বন্ধু বাফুফের নামে টাকা দিতে রাজি হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বাস্তব অর্থে ফুটবল দুনিয়ায় আট দশ কোটি টাকা দিয়ে সেই রকম ভালো কোনো কোচ আনা যায় না। এই অর্থ সামান্যই। কারণ এতো কম পারিশ্রমিক দিয়ে ফুটবল উন্নত দেশ থেকে কিংবা ভালো মানের খ্যাতনামা কোচ পাওয়া অসম্ভব। তারপরও জাতীয় ফুটবল দলের জন্য ডাচ কোচ আনতে গিয়ে অনেক সমালোচনা শুনতে হচ্ছে বাফুফে সভাপতিকে। কাজী সালাহউদ্দিন উদাহরণ টেনে বললেন, ‘বার্সেলোনার সাবেক কোচ পেপ গার্দিওলাকে দলে নেয়ার জন্য ম্যানচেষ্টার সিটিকে এক বছরের জন্য আয়কর বাদ দিয়ে দেড়শ কোটি টাকা দিতে হচ্ছে। ভেবে দেখুন সে তুলনায় আমরা কী খরচ করছি!’
