চারিদিকে কুয়াশার সাদা চাদরে মোড়া। উত্তরের হিমশীতল বাতাস। নীরব প্রকৃতি। কনকনে শীত। গরম ভাঁপা পিঠা। ঝরে পড়া পাতা। হরেকরকম পাখির কলরব। এভাবেই আসে শীত। শীতের এই ছোঁয়া লাগে ক্যাম্পাসেও। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শীতের ছোঁয়া কিছুটা অন্যরকম।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মার্কেটিং বিভাগের সালমা ডলি শীত নিয়ে বলেন, গোল হয়ে বসে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে সময় কাটানোর উপযুক্ত সময় শীতকাল। পড়ন্ত বিকাল অথবা সকালের নরম রোদে আড্ডা দেয়ার মজাটাই অন্যরকম।
দর্শন বিভাগের শারমিন, পপি, সীমা জানান, ‘ক্যাম্পাসে শীত মানেই আলস্য। দেরি করে ক্লাসে যাওয়া।’ তবে শীতের আড্ডা দেয়াটা আসলেই উপভোগ্য। শীত আসার পর আড্ডা বসে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় । নতুনরা এভাবে রোদে বসে আড্ডায় মেতে ওঠে দলে দলে।
নতুন করে বন্ধুত্ব, বন্ধুদের নিয়ে পিঠা খাওয়া। আর রং-বেরঙের পোশাক পরে দলবেঁধে আড্ডাবাজি, বনভোজনের আয়োজন করা আরো কত কি! এসবই শুধু শীতকালের আয়োজন বলে জানালেন হ্যাপি, অনামিকা, সাদ্দাম ও প্রিয়া। এবারের শীতে ওরা ক্যাম্পাসের আলোচিত দল। শীতের আগমনেই নাকি ওদের বন্ধুত্বে সূচনা বলে অনেকের ধারণা।
ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী রাজেন শাহ্ ও ববি বলেন, ‘গোল হয়ে বসে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে সময় কাটানোর উপযুক্ত সময় শীতকাল। আর রেলওয়ে স্টেশন চত্বরে বিকালে মজার মজার ভাঁপা পিঠা খেয়ে খেয়ে গল্প জমানোর তো কোনো জুড়িই নেই।’
এনায়েত উল্লাহ্ বলেন, ‘শীতের সকালে ঘুম থেকে উঠে ক্লাস করা প্রায়ই সম্ভব হয় না। অনেক শিক্ষার্থীই এখন আর রাত দশটার পর খুব বেশি হলের বাইরে থাকে না।
রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থবর্ষের ছাত্র আহসান হাবিব ও সুমন আহমদ বলেন, ‘শীত আসে আনন্দ আর ভ্রমণের বার্তা নিয়ে। বছরের অন্যান্য দিনের তুলনায় এমন দিনে বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে হৈ-হুল্লোড় বেশি করার সুযোগ মেলে ক্যাম্পাসে।’
শীতকালের চবি ক্যাম্পাসের আড্ডা ভিন্ন ধরনের। বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দীয় লাইব্রেরি, মুক্তমঞ্চ, হতাশার মোড়, বোটানিক্যাল গার্ডেন, ঝুলন্ত সেতু, মেয়েদের হলের সামনে সবখানেই চলে আড্ডাবাজদের সকাল-বিকাল আড্ডা। সন্ধ্যা হলেই হলের গেমরুমে সময় কাটায়। শীতের কারণে শিক্ষার্থীরা টেবিল টেনিস, ক্যারম, দাবা, কার্ড খেলার প্রতি ঝুঁকে পড়ে বেশি। শীতের সাজ-সজ্জা, ভাঁপাপিঠা খাওয়া আর সুনামী গার্ডেনে রোদের আড্ডা ক্যাম্পাসের সকলকেই ভিন্নভাবে নাড়া দেয়।
