অনেক রাতে বাসায় ফিরেছি। কাজের জন্য বেশির ভাগ সময়ে অনেক রাত হয়ে যায়। সহধর্মিণীকে বললাম, খুব সকালে ঘুম থেকে ডেকে তোলার জন্য। আমাকে ৯টার মধ্যেই পৌঁছাতে হবে। আমার এক্সসাইটমেন্ট দেখে প্রশ্ন করলো কেন? তুমিতো এতো সকালে কোথাও যাও না ব্যাপার কি? তোমাকে খুব উজ্জীবিত মনে হচ্ছে। দ্বিগুণ উত্সাহ নিয়ে বললাম, স্কুল জীবনের বন্ধুদের সাথে দেখা হবে। কতোদিনের পুরনো বন্ধু। কে কোথায় আছে জানি না। প্রায় দুই যুগ হয়ে গেল স্কুল ছেড়েছি। মনে হচ্ছে আমি আবার সেই দিনগুলোতে ফিরে যাবো। শাহজাহানপুর রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় আমার ছেলেবেলার ১০ দশটি বছর যেখানে কেটেছে।
চোখে আনন্দের জল চিকচিক করছিলো। সবারই একি প্রশ্ন ‘বন্ধু কি খবর বল, কতোদিন দেখা হয়নি’। এরপর সময় বাড়ে বন্ধুদের সংখ্যা বাড়ে কিছু নাম মনে করতে না পেরে জিজ্ঞেস করতে হয়। অনেক কথা, অনেক আড্ডা, পুরনো স্মৃতি। শুরু থেকেই চলে ফটোসেশন। স্কুলের কৃষ্ণচূড়া গাছগুলোকে খুব আপন মনে হলো। এখনো দাঁড়িয়ে আছে। শহীদ মিনার যেটা আমাদের সময় তৈরি করা হয়েছিল। সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে আমাদের আদিল ভাইকে দেখে। আমাদের আদিল ভাই চটপটি, বাটারবন, আচার বিক্রি করতো। এখনো আদিল ভাই এই ব্যবসাই করে। আদিল ভাইয়ের সাথে সবাই মিলে ছবি তুললাম। কেউ কেউ আদিল ভাইকে বাড়তি কিছু বকশিস দিলো। স্কুল জীবনের বন্ধু যাদের সাথে দশটি বছর সময় কাটিয়েছি এই বন্ধুরা অন্তরের গহীনে বসে আছে। পরে আমার আরো অনেক বন্ধু হয়েছে কিন্তু এই বন্ধুদের মতো কেউই সেরকমভাবে মনের গহীনে জায়গা করতে পারেনি, আসলে পারে না।
অনেক বন্ধু আছে যারা দেশের বাইরে অবস্থান করছে। এই মুহূর্তে মনে পড়ছে গোলাম মোহাম্মদ পলাশ, রেজা, তারেক, শিমুল। মনে পড়ছে উন্মেষ, জাকারিয়া, পাভেল, মিলনসহ আরো অনেকের কথা। ছোটবেলার বন্ধুরা এখন বিভিন্ন জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমাদের সবচেয়ে বেশি পরিচিত শামীম শাহেদ, সিরাজুল ইসলাম মুকুল, ভালো অবস্থানে আছে আবদুস ছালাম জিটু, মো. নূরে আলাম সিদ্দিক, মো. খসরু লিটন, ইসমাইল চৌধুরী, আলি আহমেদ মিঠু, আরো অনেকে। পরের ব্যাচের মোজাম্মেল হক চঞ্চল, রোজিনা ইসলাম জেনে খুব ভালো লাগলো। এই স্কুলের কৃতী সন্তান আরো অনেকে আছে যাদের সাথে আমার পরিচয় নেই। তাদের নাম উল্লেখ করতে পারলাম না।
