আনন্দ ভ্রমণ

স্বপ্নপুরীতে এক দিন

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০১৩, ১৯:২৫
এ বছর মির্জাপুরের ডঃ আয়েশা রাজিয়া খোন্দকার উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বার্ষিক বন ভোজনের আয়োজন করেছিলেন। গত ১৩ জানুয়ারী রবিবার ছিল এই বন ভোজনের আয়োজন। বন ভোজনের স্থান ছিল দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার নয়নাভিরাম ও বিশাল এলাকা নিয়ে ঘেরা স্বপ্নপুরী। বন ভোজনের আয়েজক ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা যিনি বর্তমানে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব ডঃ খোন্দকার শওকত হোসেন,তার সহ ধর্মীনি যিনি বর্তমানে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ ডঃ আয়েশা বেগম, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ কাজী শাহজাহান আলী এবং বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খোন্দকার আনোয়ার হোসেনসহ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সদস্য এবং শিক্ষক কর্মচারী বৃন্দ। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ কাজী শাহজাহান আলী জানান,সমাজ সেবী ও শিক্ষানুরাগী ডঃ খোন্দকার শওকত হোসেন এই বিদ্যালয়ের নির্মাতা। যিনি শিক্ষার আলো বিতরনের জন্য নিজের একান্ত প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়টি ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠা করেছেন। বিঞ্জান,মানবিক ও ব্যাবসায় শাখা চালু থাকায় শিক্ষার পরিবেশ চোখে পরার মত। অল্প দিনের মধ্যে কারীগরী শাখা ও একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি শুরু হবে বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। অল্প দিনের ব্যাবধানে বিদ্যালয়ে একটি বিশাল চার তলা ভবন, একটি এক তলা ভবন নির্মান করেছেন। বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা প্রায় ৬শতাধিক। মনোরম পরিবেশ ,এলাকাবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষককদের অক্লান্ত শ্রমের ফলে এর ফলাফল অত্যান্ত সন্তোষ জনক। ১৩ জানুয়ারী বন ভোজনের দিন থাকলেও স্বপ্নপুরী স্থান দুর হওয়ায় ১২ জানুয়ারী রাতে তিনটি বাস ও একটি মাইক্রোবাস নিয়ে ছাত্র-ছাত্রী,শিক্ষক কর্মচারী এবং বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সদস্যরা মিলে রওনা হন। তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশা ভেদ করে রবিবার সকালে ছাত্র-ছাত্রীরা দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ স্বপ্নপুরীতে পৌছাল। রাস্তায় সারা রাত ছাত্র-ছাত্রীদের নাচ গান আর উত্সাহ আনন্দের কমতি ছিলনা। সকাল সারে নয়টায় নাস্তা করার পর এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয়ের ছাত্রী আশা ও সুমনার নৃত্য আর গান ছিল ও লা লা ও লা, সহকারী শিক্ষক আশুতোষের সংগীত ছিল পিড়িতির বাজার ভাল না, পরীক্ষার্থী জীবনের নৃত্য ছিল কোন বাড়ির মেয়েটা, ফিরোজের গান ছিল বহু দিনের পিড়িতি কৌতুক আর বিভিন্ন গল্প আড্ডায় পুরো এলাকা ছিল মুখরিত। এরপর স্বপ্নপুরীর ভিতরে চিড়িয়াখানা,যাদুঘর, নয়নাভিরাম পুকুর,সার্কাসসহ বিভিন্ন ইউনিট ঘুরে দেখে ছাত্র-ছাত্রীরা মুগ্ধ হয়। দুপুরে খাবরের সময় এসে যোগ দেন নবাবগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী অফিসার জনাব আহসান হাবীব এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। তাদের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া বন ভোজনের জন্য ছিল একটা বাড়তি আকর্ষণ। বিকেলে বন ভোজন শেষে ছাত্র-ছাত্রীরা উত্সাহ আনন্দ আর অন্য রকম অভিঞ্জতা অর্জন নিয়ে রাতে যার যার বাড়ি চলে যায় বলে তারা জানিয়েছে। বন ভোজনের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সোলাইমান, আবুল হাসেম, বাবু আশুতোষ, জাহিদ আলম, সুব্রত সরকার, নবীনুর হোসেন, স্তর্না, শেফালী নাজিম, নাজমুন্নাহার, খাদিজা আক্তার, ফিরোজ, ডলি ও আবু বকর।