ক্যাম্পাসের ডায়েরি

নিজেদের খুঁজে পেতে যমুনার তীরে

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০১৩, ১৯:২৬
‘যমুনার জল দেখতে কাল/স্নান করিতে লাগে ভাল’— এই গানটিকে প্রতিপাদ্য করেই উদযাপিত হয় দিনটি। যমুনার তীরে এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে অনেক জটিলতার সৃষ্টি হলেও অবশেষে বাস্তবায়ন করতে পারায় মহাখুশি লোক-প্রশাসন বিভাগের ৪০তম ব্যাচের বন্ধুরা। দিনের শুরুতেই প্রচণ্ড ঠাণ্ডাকে উপেক্ষা করে সব বন্ধুরা উপস্থিত হয় আল-বেরুনী হলের সামনে। সবার চোখেই ছিল আনন্দের এক মহোত্সব। সকাল ৮.৩০ মিনিটের মধ্যেই ক্যাম্পাস ছেড়ে যমুনা রিসোর্টের দিকে রওয়ানা হই। বাস ছাড়ার সাথে সাথেই শুরু হয় বিভিন্ন ধরনের লোকসঙ্গীত। এর মধ্যে হুমায়ূন আহমেদের সিনেমায় ব্যবহূত গানেই ছিল বেশি। লোকসঙ্গীত ছাড়াও বাসের মধ্যে জুটি বেঁধে বসার দৃশ্যটা ছিল আকর্ষণীয়। এছাড়াও বিশিষ্ট নারীবাদি হিসেবে পরিচিত ইমরান, সোহান, মারুফ, ইভেন, রাকিব পালাক্রমে নারীদের সঙ্গ দেয়। আমাদের ক্লাস প্রতিনিধি ও এ অনুষ্ঠানের কনভেনর শাহিন হাফিজ সাহেব হলেও মাঝে মধ্যেই কারও কারও পাশে বসতে দেখা যায়। আমাদের বাস যমুনা রিসোর্টে পৌঁছে যায়। প্রথমেই আমরা যমুনা আনন্দ পার্কের সামনে ফটো সেশন করি। আমাদের সবার উচ্চতা তিন ফুটের উপরে হওয়ায় আমরা ঐ পার্কে প্রবেশ করিনি। গার্ডদের বলে এসেছি আমাদের বাচ্ছা-কাচ্ছা হলে তিনফুট হওয়ার আগেই তাদের ঐ পার্কে নিয়ে আসব। কারণ তিনফুটের নিচেদের টিকিট লাগে না। এর পর আমরা যমুনার তীর ঘেঁষে যমুনা সেতুর নিচে যাই। সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ আমাদের ঠিক সেতুর নিচে যেতে বাধা দেয়। আমরাও আর তাদের বাধা উপেক্ষা করে ভিতরে যাইনি। এরপর আমরা সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত জাদুঘরে যাই। সেখানে শুধুই পশু-পাখিদের শুঁটকি করে মেডিসিন দিয়ে রাখা হয়েছে। প্রত্যেকটা প্রাণীর গ্লাসের সামনেই তাদের কমেন্ট দেয়া আছে। শুরুতেই রাজহাঁসের বক্স। লেখা, ছবি তুলবেন? ৫০০ টাকা জরিমানা কিন্তু। ইঁদুরের গ্লাসের সামনে লেখা আছে; ‘ইঁদুরের বার্ষিক সমাবেশে এদের নেতা বলছে, প্রিয় বন্ধুরা আমরা বরাবরের মত এবারও দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। এ সাফল্যের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’ ভালই লাগল এই ভেবে যে, আমাদের কর্তা-ব্যক্তিরা দুর্নীতির মর্যাদা না বুঝলেও মৃত ওই বন্দী ইঁদুরগুলো ঠিকই চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। এভাবেই আনন্দ-উল্লাসের মধ্য দিয়ে কখন যেন সূর্য আমাদের বিদায় জানাল আমরা বুঝতেই পারলাম না। ফলে সুন্দর এই প্রকৃতির লীলাভূমিকে বিদায় জানিয়ে চলে আসতে হল। কারও ইচ্ছা না থাকলেও বাধ্য হয়েই ফিরে এলাম ক্যাম্পাসে। এখন সেই স্মৃতিকে ধারণ করেই বিভাগে জমে চরম আড্ডা। আর যারা এই ট্যুরে যায়নি তাদের চোখে ভেসে ওঠে ঈর্ষার ছাপ।