দিনটি ছিল বুধবার। ১৯ ডিসেম্বর। শীত বেশ ভালভাবেই প্রকৃতিতে প্রভাব খাটাতে শুরু করেছে। আর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থীরাও তাদের সারা বছরের পড়ালেখার হিসাব শেষ করে ইয়ার ফাইনাল পরীক্ষার মাধ্যমে। আর তাই সবার মন চাচ্ছিল একটু অচেনা-অজানায় ঘর ছেড়ে দল হারিয়ে ঘুরে বেড়াতে।
ঠিক যেমনটি চাওয়া তেমনটি পাওয়া হল অবশেষে যখন সকাল ১১টায় ক্যাম্পাসের একটি বাস পুরাতন কলাভবনের সামনে এসে গেট মেলে ধরে সবাইকে সিট নেয়ার আমন্ত্রণ জানাল। সবাই অবশ্য অনেক আগেই হাজির হয়েছিল ডিপার্টমেন্টে এবং অধীর হয়ে অপেক্ষা করছিল কখন বাস আসবে। আকাশের অবস্থাটা খুব একটা ভাল ছিল না সেদিন। সূর্য মামাটা মনে হয় অসন্তুষ্ট ছিল। কারণ সূর্য বের হতে গিয়ে থমকে দাঁড়িয়ে ছিল। এক সময় সূর্য মামা একটু উঁকি মারল আর তাতেই সবাই উল্লসিত হল। মুহূর্তেই বাসে সিট নেয়ার ধুম পড়ে গেল। সামান্য পরেই বাস ছেড়ে দিল কুমিল্লার উদ্দেশ্যে। আমাদের সাথে ছিল দু’জন শিক্ষক।
বাসের মধ্যে শুধু গানের প্রথম কলির প্রথম শব্দটা উচ্চারণ করতে যে সময় কিন্তু সবাই গলা মেলাতে কোন রকম দেরি করে না। কারো কারো মনে হল আমরা কোন শিল্পী গোষ্ঠীই হবো। কেউ আবার আমাদের ছেলেমি কাণ্ড দেখে ফিক করে হেসে দেয়। মূলত আমাদের এই সফর ছিল ফিল্ডওয়ার্ক। ময়নামতি এলাকার প্রত্নস্থানগুলো জরিপ করাই আমাদের উদ্দেশ্য ছিল। সিদ্ধান্ত হল আমরা বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমীর (বার্ডের) হোস্টেলে রাত্রি যাপন করবো। আর দিনের বেলায় বিভিন্ন প্রত্নস্থানে জরিপ করবো।
সন্ধ্যা ৬টায় আমরা বার্ডে পৌঁছলাম। রাতে আমরা বার্ডের হোস্টেলে থাকলাম সবাই। পরদিন সকালে ভোরে বের হয়ে সারাদিন আমরা শালবন বিহার, ময়নামতি জাদুঘর, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, ইটাখোলা মুড়া দেখলাম। সন্ধ্যায় আবার আমরা বার্ডে ফিরে এলাম। পরদিন শুক্রবার সকালে রূপবান মুড়া, ২য় বিশ্বযুদ্ধে ভারতীয় উপমহাদেশে নিহতদের সমাধি ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি, লতিকোট মুড়া, রাণী ময়নামতির প্রাসাদ ভাল করে দেখলাম। ছবি তোলার হিড়িক পড়ত প্রায়ই। সবাই অনেক মিশে গিয়েছিলাম। দু’এক জনের মাঝে শীতল দ্বন্দ্ব ছিল তাও শেষ হয়ে গেল।
