বয়সটাকে কিভাবে হার মানাতে হয় তা এখন দাতে-ক্রুমের কাছ থেকে শেখা যেতে পারে। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের প্রথম রাউন্ডে জয় পাওয়ার ভেতর দিয়ে শুধু প্রতিপক্ষকে নয়, পরাজিত করলেন বয়সের এক রেকর্ডকেও।
জাপানের টেনিস তারকা কিমিকো দাতে-ক্রুম অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে ম্যাচ জিতলেন। জাপানের এক নম্বর এই তারকা ৪২ বছর বয়সে গতকাল মেলবোর্ন পার্কের বাইরে একটি কোর্টে তার থেকে ১২ বছরের ছোট ১২তম বাছাই নাদিয়া পেড্রোভাকে ৬-২, ৬-০ গেমে পরাজিত করে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেন। প্রচণ্ড গরমে এক ঘণ্টারও বেশি সময় নিয়ে দাতে এই জয় তুলে নেন। সঙ্গে সঙ্গে দখলে নিয়ে নিলেন রেকর্ডটাও।
এর আগে এই রেকর্ড ছিল বৃটেনের ভার্জিনিয়া ওয়েডের। ১৯৮৫ সালে ৪০ বছর ১৩৮ দিন বয়সে উইম্বলডন চ্যাম্পিয়ন জিতেছিলেন প্রথম রাউন্ডের ম্যাচ। তবে এখানেই থেমে যেতে চান না দাতে। এখন তার লক্ষ্য আরও বড়—এখন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। ২০০৪ সালে ৪৭ বছর বয়সে উইম্বলডন জিতে সেই রেকর্ডের মালিক বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মার্টিনা নাভ্রাতিলোভার দখলে। অবশ্য এসব রেকর্ড নয়, দাতে বলছেন; তার খেলা চালিয়ে যাওয়ার কারণ খেলাটা উপভোগ করা। তার কাছে এই বয়স স্রেফ একটা সংখ্যার চেয়ে বেশি কিছু না, ‘অবশ্যই আজকের ম্যাচে জিততে পেরে আমি দারুণ খুশি। কিন্তু আমি কখনই রেকর্ডের জন্য খেলি না। এমনকি যখন আমি হারি তখনও আমি সেটা উপভোগ করি। যদিও ম্যাচে পরাজিত হওয়াটা সবসময়ই কঠিন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। কিন্তু এই বয়সেও আমি খেলাটাকে দারুণ উপভোগ করি। ৪২ বছর আমার জন্য শুধু একটি নম্বর।’
তার সময়কার সব খেলোয়াড়ই অনেক আগেই টেনিসকে বিদায় জানিয়েছেন। কিন্তু দাতে এখনও আগের মতই পরিশ্রম করে চলেছেন। এখন সবার প্রশ্নটা হলো, কিভাবে নিজেকে ধরে রেখেছেন দাতে। তার এই ফিটনেসের রহস্যের পিছনে রয়েছে নাকি স্রেফ সহজ জীবনযাপন, ‘আমি প্রচুর খাই এবং ঘুমাই। গত রাতেও আমি দশটার আগেই বিছানায় গিয়েছি। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার মধ্যেই আমি রাতের খাবার শেষ করি। বাচ্চাদের মতই দশটার মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়ি। কারণ সব সময়ই ম্যাচের পরে এবং অনুশীলনের পরে আমি খুব ক্লান্ত থাকি। তাই ক্লান্তি দূর করতে আমাকে বিশ্রাম নিতেই হয়। সে কারণেই আমাকে প্রচুর ঘুমাতে হয়, পুষ্টিকর খাবার খেতে হয়, প্রচুর পানি পান করতে হয়। মূলকথা আমি খুব সহজ জীবনযাপন করি, এখানে বিশেষ কিছু নেই।’
১৯৮৯ সালে দাতের ডাব্লিউটিএ এবং গ্র্যান্ড স্ল্যামে অভিষেক ঘটে। ঐ সময় বর্তমানের অনেক খেলোয়াড়েরই জন্ম হয়নি। ১৯৯৬ সালে র্যাকেট তুলে রাখার পরে ২০০৮ সালে আবারো কোর্টে ফিরে আসেন জাপানীজ এই তারকা। অবসর কাটিয়ে ফিরে আসার পরে শীর্ষ ২০ খেলোয়াড়ের বিপক্ষে গতকালকের ম্যাচটি ছিল তার নবম জয়। শীর্ষ ১০ খেলোয়াড়ের মধ্যে তিনি প্রথম অস্ট্রেলিয়ার সামান্থা স্টোসারের বিপক্ষে জয় পেয়েছিলেন।
