বন ও পরিবেশমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে রক্ষার জন্য আমাদের বিকল্প কর্মস্থান সৃষ্টি করতে হবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনে খাপ খাইয়ে নেয়া ও সহনীয় অবস্থা তৈরি’ বিষয়ক কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী একথা বলেন। বাংলাদেশ ভিত্তিক ইনস্টিটিউট অব মাইক্রোফাইনান্স (আইএনএম) এবং জাপানভিত্তিক ইনস্টিটিউট অব গ্লোবাল এনভায়রনমেন্টাল স্ট্র্যাটেজি (আইজিইএস) যৌথভাবে এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন করছে।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা এসবই এখন বাস্তবতা। আর এ অবস্থায় পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে খাপ খাইয়ে জীবনধারণের পথ খুঁজতে হবে। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের এক নির্দোষ শিকার। বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে যে দুর্গতির পথে পৃথিবী তাতে বাংলাদেশের ভূমিকা নেই বললেই চলে। কিন্তু এর সবচেয়ে বড় শিকারে পরিণত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশই। তবে এসব পরিবর্তন যে এখন বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। ফলে বাংলাদেশকে এর সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলা শিখতে হবে। মন্ত্রী বলেন, লবণাক্ততার কারণে যে এলাকায় ছাগল পালন অসম্ভব সেসব এলাকায় সহজেই ভেড়া পালন শুরু করা যায়। কিন্তু সাধারণ মানুষের সে ধারণা বা জ্ঞান নেই বলেই তা সম্ভব হচ্ছে না। এ ধরনের ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্পের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে এমন নতুন নতুন জীবিকা অর্জনে ভূমিকা রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে আইএনএম’র সভাপতি কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে নিয়ে সমন্বিত কার্যক্রম হাতে নিতে হবে।
ডিএফআইডি’র বাংলাদেশ প্রতিনিধি সারাহ ব্রুক কর্মসূচিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তন দারিদ্র্য নিরসনের প্রধান অন্তরায়। ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার পরিবারগুলোকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আইজিইএস, জাপান- এর প্রেসিডেন্ট হিদেউকি মোরি ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইএনএম’র নির্বাহী পরিচালক এম এ বাকি খলিলি।
