ড্যারেন স্যামি (অধিনায়ক), ডোয়াইন ব্র্যাভো, টিনো বেস্ট, ড্যারেন ব্র্যাভো, জনসন চার্লস, নারসিং ডিওনারিন, ক্রিস গেইল, জেসন হোল্ডার, সুনীল নারিন, কিয়েরন পোলার্ড, কিয়েরান পাওয়েল, কেমার রোচ, আন্দ্রে রাসেল, রামনারেশ সারওয়ান, ডেভন থমাস।
রামনরেশ সারওয়ান গত বছর ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের সবচেয়ে আলোচিত ক্রিকেটার। ওয়ানডে দল থেকে বাদ পড়ার পরেই তাকে নিয়ে আলোচনার ঝড় বয়ে যায়। কিন্তু দীর্ঘ ১৮ মাসের খরা কাটিয়ে আবারো দলে ফিরে এসেছেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে পার্থে শুরু হওয়া পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের দলে তাকে ফিরিয়ে এনেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড।
যে ১৮ মাস সারওয়ান দলের বাইরে ছিলেন সেই সময়টার শুরুতে তিনি জাতীয় দলের কোচিং স্টাফদের কাছ থেকে মানসিকভাবে আঘাত পেয়েছেন। যা তাকে খুবই দুঃখ দিয়েছে বলে সারওয়ান দাবি করেন। ২০১০ সালে সারওয়ানকে কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকা থেকে বাদ দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড। কিন্তু সবচেয়ে বড় বিতর্ক দেখা দেয় তার ফিটনেস নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের সাথে মতবিরোধ দেখা দিলে। মূলত ফিটনেসের দোহাই দিয়েই তাকে চুক্তি থেকে বাদ দেয়া হয়েছিল। যা পরবর্তীতে জনসম্মুখে প্রকাশ পেলে সারওয়ানকে নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। সেপ্টেম্বরে প্রকাশ পায় সারওয়ান ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড থেকে এ ব্যাপারে ক্ষতিপূরণ বাবদ ১ লক্ষ ৬১ হাজার ডলার পেয়েছেন।
এদিকে গত গ্রীষ্মে ইংল্যান্ড সফরের দলে সারওয়ানকে ডাকা হলেও তিনি সেখানে খেলতে অস্বীকৃতি জানান। তার পরিবর্তে তিনি ইংলিশ কাউন্টি লিস্টারশায়ারের হয়ে খেলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। ঐ সময়ই প্রথমবারের মত জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার পরে কোচিং স্টাফদের সাথে তার বিরোধের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। গত বছর মে মাসে বিবিসি স্পোর্টসকে সারওয়ান বলেছিলেন, ‘‘এই কোচ আমার সম্পর্কে কিছু নেতিবাচক কথা বলেছেন যা আমাকে মানসিকভাবে খুব ব্যথিত করেছে। মানসিকভাবে আমি খুব ভেঙ্গে পড়েছি। এটার সাথে খেলার কোন সম্পর্ক নেই। শুধুমাত্র কতিপয় ব্যক্তি আমাকে মানসিক আঘাত করেছে। এর ফলে আমার আত্মবিশ্বাসেও প্রভাব পড়েছে। তবে আমি এখন সব সমস্যা পিছনে ফেলে নতুন করে সব কিছু শুরু করেছি। একটা পর্যায়ে আমি এত বেশি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম যে সবকিছু আমার মধ্যে থেকে হারিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এখন আর সেই অবস্থা নেই। আমি আর কখনই এসব নিয়ে কোন কিছু বলব না। আমি এমন একটা অবস্থায় বন্দী হয়ে গিয়েছিলাম যে তিনদিন ধরে ঘরের বাইরে বের হইনি। কিন্তু আবারো খেলায় ফিরে আসতে আমার বাবা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছেন।” মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়া সারওয়ান সব কিছু পিছনে ফেলে যখন ইংল্যান্ডে খেলতে যান তখন নিজেকে ফিরে পাবার জন্য বেশ কষ্ট করেছেন। তারই ফলস্বরূপ লিস্টারশায়ারের হয়ে সীমিত ওভারের ম্যাচে ৩৬.৭৫ গড়ে ২৯৪ রান এবং প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ৪০.৯১ গড়ে ৯৪১ রান করেন। যদিও ক্যারিবিয়ান ঘরোয়া টি২০তে সমপ্রতি তিনি নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি। গায়ানার হয়ে চার ম্যাচে তিনি ৮, ১, ২ এবং ৭ রান করেছেন।
এদিকে মেলবোর্ন রেনেগেডসের হয়ে বিগ ব্যাশ লীগে খেলতে নামা মারলন স্যামুয়েলসের গুরুতর মুখের ইনজুরি তাকে অস্ট্রেলিয়া সফরের দল থেকে ছিটকে দিয়েছে। দলকে যথারীতি নেতৃত্ব দিবেন ড্যারেন স্যামি। এই সিরিজে পাঁচটি ওয়ানডে ম্যাচ ছাড়াও একটি টোয়েন্টি২০ ম্যাচ রয়েছে। আগামী ২৬ জানুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল অস্ট্রেলিয়া পৌঁছাবে এবং ২৯ জানুয়ারি ক্যানবেরায় প্রধানমন্ত্রী একাদশের বিপক্ষে একটি অনুশীলন ম্যাচে অংশ নেবে। -বাসস
