যুগে যুগে নবী রসূলদের দাওয়াত

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:০৮
মানুষের জীবনে ও আল্ল¬াহ্র যমীনে আল্ল¬াহ্র দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য আল্ল¬াহর নির্দেশে নবী রাসূলদের মাধ্যমেই দাওয়াত পরিচালিত হয়েছে। আমাদের নবী (স.) পর্যন্ত সকল নবীর কাজের সূচনা হয়েছে দাওয়াতের মাধ্যমে। পবিত্র কুরআনে বিভিন্ন নবীর দাওয়াত সম্পর্কে বলা হয়েছে:‘হে নবী আমি তোমাকে সাক্ষী করে পাঠিয়েছি, তোমাকে বানিয়েছি জান্নাতের সুসংবাদদাতা ও জাহান্নামের সতর্ককারী। আল্লাহর অনুমতিক্রমে তুমি হচ্ছো আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী ও সুস্পষ্ট প্রদীপ।’ (সূরা আল আহযাব-৪৫-৪৬)। ‘হে বস্ত্র আচ্ছাদনকারী, উঠো আর সতর্ক কর এবং তোমার রবের শ্রেষ্ঠত্বে ঘোষণা দাও।’ (সূরা মুদ্দাসের ১-৩)। আমাদের নবী (স.) ও তাঁর জীবনের প্রথম গণভাষণে বলেন:‘হে মানব জাতি তোমরা ঘোষণা কর আল্লাহ ছাড়া সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী কেউ নেই। তাহলে তোমরা সফল হবে।’ (আল হাদীস)। ‘আমি নূহ (আ.) কে তার কাওমের নিকট পাঠিয়েছিলাম। তিনি কাওমকে ডাক দিয়ে বললেন, হে আমার কওম: তোমরা আল্ল¬াহর দাসত্ব কর, আল্ল¬াহ ছাড়া তোমাদের আর কোন ইলাহ নেই।’ (আল আরাফ-৫৯)।‘এবং আদ জাতির প্রতি আমি তাদের ভাই হুদ (আ.) কে পাঠিয়েছিলাম। তিনি বললেন-হে আমার দেশবাসী তোমরা আল্ল¬াহর দাসত্ব কর। তিনি ছাড়া তোমাদের কোন ইলাহ্ নেই।’(আল আরাফ-৬৫)।‘আমি অবশ্যই প্রত্যেকটি জাতির কাছে রাসূল পাঠিয়েছি, যাতে করে তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত করো এবং নাফরমান শক্তিসমূহকে বর্জন করো।’ (সূরা আন নাহল- ৩৬)। অনুরূপভাবে ছামুদ জাতির প্রতি তাদের ভাই ছালেহ (আ.) এবং মাদইয়ানবাসীদের প্রতি তাদের ভাই শোয়ায়েব (আ.) একইরূপ আহবান জানিয়েছেন। ‘হে রাসূল, যা কিছু তোমার ওপর নাজিল করা হয়েছে তোমার রবের পক্ষ থেকে তা তুমি পৌঁছে দাও, যদি তুমি তা না করো তাহলে তো রেসালাতের হক আদায় হবে না, আল্লাহ তোমাকে মানুষের অনিষ্ট থেকে বাঁচিয়ে রাখবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ কখনো কোন অবাধ্য জাতিকে পথ প্রদর্শন করে না।’ (সূরা আল মায়িদা-৬৭)। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন- একটি আয়াত হলেও আমার পক্ষ থেকে মানুষের কাছে পৌঁছে দাও। আর বনী ইসরাইলদের থেকে আলোচনা করো তাতে কোন দোষ নেই। তবে যে ব্যক্তি আমার ওপর ইচ্ছা করে মিথ্যা আরোপ করে (অর্থাত্ নিজের মনগড়া কথা হাদীস বলে চালিয়ে দেয়) তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম (বুখারী)। ‘তার কথার চাইতে আর কার কথা উত্তম হতে পারে, যে মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকে, সত্ কাজ করে এবং বলে আমি মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত’ (সূরা হামীম আস সিজদা-৩৩)। ‘তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল অবশ্যই থাকতে হবে, যারা ন্যায়ের আদেশ দিবে এবং অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখবে। আর সত্যিকার অর্থে তারাই সফলকাম হবে।’ (সূরা আল ইমরান-১১০)। ‘তোমরাই সর্বোত্তম জাতি, সমগ্র মানব জাতির কল্যাণের জন্যেই তোমদের পাঠানো হয়েছে। তোমরা দুনিয়ার মানুষদের সত্ কাজের আদেশ দেবে এবং অসত্ কাজ থেকে বিরত রাখবে এবং আল্লাহর ওপর ঈমান আনবে।’ (সূরা আল ইমরান-১১০)। ‘আমি যদি এদের যমীনে ক্ষমতা দান করি, তাহলে এরা নামায প্রতিষ্ঠা করবে, যাকাত আদায় করবে, সত্ কাজের আদেশ দিবে এবং অসত্ কাজ থেকে বিরত রাখবে, তবে সব কাজের চূড়ান্ত পরিণতি একান্তভাবে আল্লাহর এখতিয়ারভুক্ত’ (সূরা হজ্জ-৪১)।