দহনের রাত

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:১৪
বিবর্ণ সেমিজ শুরুতে ছিলাম অন্ধ—বেহালা হাতে নিমগ্ন ভিখারি। কিছুই বুঝিনি তখন—একাকিত্বের বেদনা, পৌষের বরফ দিন, আর বৈশাখের রুদ্র ঝড়। তুমি এসে খুললে কপাট, সেই চুমুটাই ছিল বেশি দরকারি। জ্যোত্স্নায় হাত বাড়িয়ে দিয়ে তুমি বলেছিলে চোখ মেলে দেখো—বেদনার নীল নয়, এই রং ভালোবাসায় প্রগাঢ়। সেই থেকে অন্ধ ভিখারিও রং চেনা শুরু করেছিল। গোলাপি আপেল হাতে, সেই মায়াবি মোহন রাতে। আজ আমি জ্যোত্স্নার রং ঢাকি জানালায় ঝুলিয়ে তোমার বিবর্ণ সেমিজ। মৃত নদী শিউলী চরাচর ছাপিয়ে এমন জ্যোত্স্না নামলে আমি জমা-খরচের খাতা মেলে বসি। তোমাদের হাসির কথা ভাবি, অভিমান আর কান্নার কথা ভাবি। আর এইসব ছন্দোবদ্ধ ধাঁধার ভেতর বেহালার সুরে বাঁধি বিরহের গান। নীল শাড়িতে সাগরদিদিকে অন্যরকম দেখাত। আর এখন আমার বুক চেপে ধরে বেদনার নীল। আমার মন খারাপ হলে পশ্চিমের রাস্তায় এক অদ্ভুত জানালা খুলে দাঁড়াত লাস্যময়ী শিউলী। আর আজ রাস্তা নয় শিউলীর জানালা বরাবর শুয়ে আছে একটি মৃত নদী।