অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেছেন পড়া মানে আনন্দ, পড়া মানে বিকাশ। আনন্দ পাওয়ার জন্য, নিজেদের বিকশিত করার জন্য অর্থাত্ জীবন বিকাশের জন্য আমাদের বেশি করে বই পড়তে হবে। গতকাল রমনা পার্কে অনুষ্ঠিত বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের দেশভিত্তিক উত্কর্ষ (বই পড়া) কার্যক্রমের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান উদ্বোধনকালে তিনি একথা বলেন।
তিনটি পর্বে বিভক্ত অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী, শাহজালাল প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লেখক ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ট্রাষ্টি বোর্ডের সদস্য এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহবুব জামিল, কথা সাহিত্যিক আনিসুল হক, গ্রামীণ ফোনের হেড অব কর্পোরেট রেসপন্সিবিলিটি দেবাশীষ রায়।
অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন সুন্দর বাসস্থানের জন্য যেমন প্রশস্থ জায়গা দরকার তেমন মানুষের জীবনের জন্য প্রশস্ত হূদয়ের দরকার, বই আমাদের সেই হূদয়ের সন্ধান দেয়।
পুরস্কার প্রাপ্তদের উদ্দেশে ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ২০৫০ সালে বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে। সেই দেশের নেতৃত্ব দেবে তোমরা। তোমরাই আগামীদিনে ইউরোপ-আমেরিকাসহ সারাবিশ্বের নেতৃত্ব দিবে। এজন্য বই পড়ে নিজেদের যোগ্য করে তুলতে হবে।
অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন আজ তোমাদের আলোতে আলোকিত হয়েছে রমনা পার্ক। আগামীদিনে সারা বাংলাদেশ তোমাদের আলোয় আলোকিত হবে। মোবাশ্বের হোসেন বলেন, তোমরা এই প্রজন্মের মুক্তিযোদ্ধা। তোমরা দেশের দারিদ্র্য ক্ষুধা, অশিক্ষা, দুর্নীতি, অপশাসন ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে একটি সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।
মাহবুব জামিল বলেন, তোমরা বই পড়ার মাধ্যমে নিজেদের পবিত্র মানুষ হিসেবে গড়ে তুলে আমাদের এই পবিত্র মাতৃভূমিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আনিসুল হক বলেন, সেরা দেশের নেতৃত্ব দেয়ার জন্য বই পড়ে তোমাদের সেরা হতে হবে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগরীর ৮১টি স্কুলের ৬০৬৭জন ছাত্র-ছাত্রী মূল্যায়ন পরীক্ষায় কৃতিত্বের পরিচয় দিয়ে পুরস্কৃত হয়েছে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পরিচালক শরিফ মোঃ মাসুদ। গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় ১৮ ও ১৯ জানুয়ারি দুইদিনব্যাপী এই পুরস্কার বিতরণী উত্সবের আয়োজন করা হয়।
