চিড়িয়াখানার পরিবেশ পাল্টাতে বিশেষ প্রকল্প

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:১২
চিড়িয়াখানার খাঁচাবন্দী প্রাণীরা যাতে অনেকটা বন্য পরিবেশ পায়, সেজন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মিরপুরে অবস্থিত জাতীয় চিড়িয়াখানা ও রংপুর চিড়িয়াখানার বর্তমান পরিবেশ পাল্টে দেয়া হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে চিড়িয়াখানার প্রাণীরা ফিরে পাবে বনের পরিবেশ আর দর্শকরা পাবে উন্নত বিশ্বের আদলে ব্যতিক্রমী চিড়িয়াখানা। ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম দেশের দুই সরকারি চিড়িয়াখানাকে (ঢাকা ও রংপুর) বিশ্বমানে উন্নীত করতে এই প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে চিড়িয়াখানার কিউরেটর এবং ‘ঢাকা ও রংপুর চিড়িয়াখানা আধুনিকায়ন’ প্রকল্পের পরিচালক ডা. এ বি এম শহীদউল্লাহ জানান, বর্তমান চিড়িয়াখানার আঙ্গিক সম্পূর্ণ পাল্টে ভূপ্রাকৃতিক, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং প্রাণীবান্ধব করে গড়ে তোলা হবে। নতুন এই চিড়িয়াখানায় যেমন প্রাণীদের জন্য রাখা হচ্ছে সম্পূর্ণ বন্য পরিবেশ, তেমনি দর্শকদের জন্যও থাকবে অধুনিক সকল সুযোগ-সুবিধা। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে প্রকল্পের কাজ বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগকে দেয়া হয়েছে। আগামী ৫ থেকে ৬ মাসের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। জানা গেছে, এই প্রকল্পে ঢাকা চিড়িয়াখানার ১৮৬ একর জমিকে পুরোপুরি ব্যবহার করা হবে। ঢাকা চিড়িয়াখানার বর্তমান অবকাঠামো পরিবর্তন করে দর্শকদের জন্য একমুখি রাস্তা তৈরি করা হবে। চিড়িয়াখানা এলাকার উন্নয়নের মধ্যে রয়েছে প্রধান ফটক এবং অন্যান্য ছোট ফটক (শিশু পার্ক), সুরা দেয়াল, দিক-নির্দেশক, সব শ্রেণির মানুষের সহজে যাতায়াতের জন্য সিঁড়ি, দর্শকদের জন্য বসার ব্যবস্থা (ফুটপাত এবং পার্কে ছাউনি এবং ছাউনি ছাড়া), রেলিং, সড়ক দ্বীপ, রোড ডিভাইডার ও বিভিন্ন গাছের পাত্র, রাস্তায় এবং বাগানে আলোর ব্যবস্থা, ফুট ওভারব্রিজ, আন্ডারপাস, দর্শকদের জন্য আলাদা রাস্তা (একমুখি) এবং দেয়াল ও বনায়ন (ভূপ্রাকৃতিক)। প্রকল্প পরিচালকের দপ্তরের তথ্যমতে, চিড়িয়াখানার পশু-পাখির খাঁচাকে সম্পূর্ণভাবে বন্য আবহে তৈরি করতে একজন জাপানি জু-আর্কিটেকচার এবং একজন জু-কনসাল্টেন্টের সহায়তা নেয়া হবে। প্রচলিত পদ্ধতির প্রাণী খাঁচাকে বদলে আধা প্রাকৃতিক, প্রাণীবান্ধব ও তিনস্তরের নিরাপত্তা বলয় বিশিষ্ট খাঁচা তৈরি করা হবে। দর্শকদের জন্য খাঁচার নিরাপত্তায় স্টিল গ্রিলের সঙ্গে বিশেষায়িত কাঁচের আবরণ ব্যবহার করা হবে। এছাড়াও ব্যবহার হবে লোহার জাল। বিশেষ কাঁচের দেয়াল থাকায় দর্শকরা সবচেয়ে কাছ থেকে প্রাণীদের দেখতে পারবে। প্রত্যেক প্রাণীর নিজস্ব আবাসস্থলের মত পরিবেশ তৈরি করতে খাঁচার ভিতরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে স্ব-নিয়ন্ত্রিত বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা। এছাড়াও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ঢাকা চিড়িয়াখানায় বসানো হবে দুষ্প্রাপ্য প্রাণীদের দশটি ম্যুরাল। চিড়িয়াখানার কিউরেটরের দপ্তর, একটি প্রধান এবং চারটি নিরাপত্তা অফিস, প্রাণী হাসপাতাল ছাড়াও কর্মকর্তাদের জন্য নতুন একটি অফিসার্স কোয়ার্টারও তৈরি করা হবে এ প্রকল্পের আওতায়।