বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) শুরুর প্রথম ম্যাচে বড় ধাক্কা খেল খুলনা রয়েল বেঙ্গলস। পাকিস্তানি খেলোয়াড় নেই বলে এমনিতেই দলটির সেরা একাদশ সাজানোই কঠিন হয়ে পড়েছিল। সঙ্গে প্রথম ম্যাচেই প্রতিপক্ষ ছিল কাগজে-কলমে অন্তত সবচেয়ে শক্তিশালী দল ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস। ফল যা হওয়ার তাই হয়েছে। পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ওয়াইজ শাহ’র তাণ্ডবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে ৬২ রানের বড় ব্যবধানে খুলনাকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ঢাকা।
সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ওয়াইজ কাল ঢাকার পক্ষে ৮৪ রান করেছেন। মাত্র ৪৮ বলে চারটি চার ও ছয়টি ছক্কা মেরেছেন তিনি। এই ম্যাচ খেলে যথারীতি খুবই উত্ফুল্ল ওয়াইজ শাহ, ‘টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটটা আমি উপেভাগ করি। সেটা বিশ্বের যেকোন জায়গায় হোক। এমনকি কেপ টাউনে তাদের টি-টোয়েন্টি ম্যাচও খেলতে গিয়েছি। তবে এই মাসে আমি বসে ছিলাম। যখন এখান থেকে সুযোগ আসল, আমিও সেটি লুফে নিলাম। ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের অংশ হতে পেরে আমি আনন্দিত।’
১১ বলে ২২ রান করে মোহাম্মদ আশরাফুল ফিরে যাওয়ার পর নেমেছিলেন ওয়াইজ শাহ। উইকেটে সঙ্গী পেয়েছিলেন এনামুল হক বিজয়কে। ৯০ রানের জুটিও গড়েছেন তারা। ৩৯ বলে ৫০ রান করা বিজয় ফিরে গেলেও সাকিব আল হাসানকে সঙ্গে নিয়ে দলের স্কোর দুশো পার করেছেন ওয়াইজ। ১৪ বলে ২৭ রান করে অপরাজিত ছিলেন সাকিব। একটা দল যখন দুশো’র উপরে রান তুলে ফেলে প্রতিপক্ষের জন্য চেজ করাটা কঠিন হয়ে পড়ে। কাল ম্যাচ শেষে এই অসহায়ত্বের কথা স্বীকার করেছেন খুলনার অধিনায়ক শাহরিয়ার নাফীস, ‘একটা দল দুশো করে ফেললে তাদের জন্য জয়টা সহজ হয়ে যায়। আমরা আজ (কাল) ভালো ব্যাটিং করতে পারিনি। এমনকি বোলিংও ভালো হয়নি।’
খুলনার প্রধান সমস্যা হয়েছে পাকিস্তানিরা না খেলায়। বিপিএলে সবচেয়ে বেশি পাকিস্তানি ছিল এই দলে। অথচ টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র একদিন আগে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) অসম্মতির কারণে শেষ মুহূর্তে তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। নাফীস বলেন, ‘আমাদের রেজিস্ট্রি করানো খেলোয়াড়ই ছিল আর ১১ জন খেলোয়াড়। তাদের নিয়েই নেমেছি আমরা। বাকি দুইজন বিসিবির মাধ্যমে যোগাড় করা হয়েছে। একটি দলে আটজন খেলোয়াড়ের বিকল্প খোঁজা সত্যিই কঠিন কাজ। তবে আমাদের বিশ্বাস আমরা গুছিয়ে নিতে পারবো।’
২০৪ রান করা ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসকে জবাবটা দিতে পারতো খুলনা। কিন্তু পারেনি মোশাররফ হোসেন রুবেলের কারণে। চার ওভার বল করে এই স্পিনার ৯ রান দিয়ে নিয়েছেন চার উইকেট। নাজিমুদ্দিন ও রিকি ওসেলসকে বোল্ড করে ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে এক ওভারে পর পর দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগিয়ে তুলেছিলেন মোশাররফ। দলের সর্বোচ্চ রান এসেছে ওসেলসের ব্যাট থেকে (৩০)। আসিফ আহমেদ রাতুলের ২৯ ও নাজিমুদ্দিনের ২৭ রান দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এদের কল্যাণে স্কোর বোর্ডে উঠেছে ১৪২ রান। বোলিংয়ে রুবেল এবং ব্যাটিংয়ে ওয়াইজই ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দিয়েছেন। ম্যাচ সেরা ইংল্যান্ডের ওয়াইজ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস ২০ ওভারে ২০৪/৪ (ওয়াইজ শাহ ৮৪, এনামুল ৫০, সাকিব অপ: ২৭, আশরাফুল ২২, কোব ১৭, ডলার ৩/৪০, রেজা ১/৪২)।
খুলনা রয়েল বেঙ্গলস ২০ ওভারে ১৪২/৮ (ওসেলস ৩০, আসিফ আহমেদ রাতুল ২৯, নাজিমুদ্দিন ২৭, ফরহাদ ১৭, মোশাররফ ৪/৯, লোকুয়ারাচ্চি ২/২৯, সাকিব ১/২৭)।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: ওয়াইজ শাহ (ঢাকা)।
ফল: ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস জয়ী ৬২ রানে।
দ্বিতীয় বিপিএলের প্রথম
প্রথম বল: নাবিল সামাদ
প্রথম চার: জশুয়া কব
প্রথম ছয়: জশুয়া কব
প্রথম উইকেট: ডলার মাহমুদ
প্রথম হাফ সেঞ্চুরি: এনামুল হক বিজয়
প্রথম মেডেন: মোশাররফ হোসেন রুবেল
প্রথম জয়: ঢাকা গ্লাডিয়েটর্স
প্রথম ম্যাচ সেরা: ওয়াইজ শাহ
