ভুলে ভরা বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) নিয়ে খোদ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বিরক্ত। ইভেন্ট ম্যানেজম্যান্ট প্রতিষ্ঠান গেম অন স্পোর্টসের এলোমেলো উদ্বোধন অনুষ্ঠান করায় বিব্রত হয়েছেন বিসিবি’র শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা। বিপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বিটিভি ও ইএসপিএন-এ দেখানোর কথা থাকলেও কাল সারাদেশের কোথাও এই দুটি চ্যানেলে উদ্বোধন অনুষ্ঠান দেখা যায়নি। বিসিবি’র পক্ষ থেকে আগের দিন সম্প্রচারের তথ্য দিলেও কার্যত সেটি ছিল ভুল তথ্য। গতকাল শুক্রবার মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস বিরক্ত কণ্ঠে বললেন, ‘যে দুটি চ্যানেলের কথা আমরা বলেছি এটা গেম অন স্পোর্টস আমাদের জানিয়েছে। এটা তাদেরই ব্যর্থতা। আমাদেরকে তারা বোকা বানিয়েছে।’
বিপিএলের ইভেন্ট ম্যানেজম্যান্ট এই প্রতিষ্ঠানটি ছয় বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে বিসিবি’র সাথে। ছয় বছরে তারা বোর্ডকে দেড়শ কোটি টাকা দিবে। ভারতের অভিজ্ঞ ইভেন্ট ম্যানেজম্যান্ট প্রতিষ্ঠান বলেই বিসিবি দরপত্রের মাধ্যমে তাদেরকে বেছে নেয়। কিন্তু বিপিএলের দ্বিতীয় আসর শুরু হতে না হতেই তাদের অভিজ্ঞতার এমন হাল ধরা পড়েছে যা নিয়ে বিসিবিও বিস্মিত। কাল বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলরের চেয়ারম্যান আফজালুর রহমান সিনহাও গেম অনের উপর বিরক্ত, ‘আমরা নিজেরাও তাদের উপর বিরক্ত। তারা কাল (বৃহস্পতিবার) উদ্বোধন অনুষ্ঠানের মাঝপথে এক ঘণ্টা কেন দেরি করেছে এর জন্য আমরা তাদেরকে শোকজ করেছি। জানতে চেয়েছি এর সঠিক ব্যাখ্যা। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ করলে আমরা মোটা অংকের জরিমানা করবো বলেও জানিয়ে দিয়েছি।’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানের রানশিট অনুযায়ী যে অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল তার ছিটেফোঁটা লক্ষ্য করা যায়নি। ভারতের সুনিধি চৌহান কিংবা বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড দল ওয়ারফেজ মঞ্চে ওঠার কথা থাকলেও তারা শেষ পর্যন্ত মঞ্চে আসেনি। তবে চৌহান ঢাকায় পৌঁছেছেন কিনা তা নিশ্চিত করতে পারেনি গেম অন নিজেও। অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা সন্ধ্যা ছয়টায়, শেষ হওয়ার কথা রাত দশটায়। কিন্তু মঞ্চে সময়মত শিল্পীরা এসে পৌঁছাতে পারেননি বলে অনুষ্ঠানটি শেষ হয় রাত পৌনে বারোটায়। তবুও গেম অন স্পোর্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন গাঙ্গুলী বললেন, ‘আমার দৃষ্টিতে উদ্বোধন অনুষ্ঠান অনেক ভালো হয়েছে। যেটুকু সাজানোর চেষ্টা করেছি ভালোভাবে শেষ করতে পেরেছি।’ এই কথাগুলো বলেই অপর প্রান্ত থেকে টেলিফোনের লাইন কেটে দিয়েছেন তিনি। গত বছর ৩২ কোটি টাকা দিলেও এ বছর তারা ৪৮ কোটি টাকা দিচ্ছে বলে জানা যায়। মোটা অংকের টাকা দিয়ে বিপিএলের ইভেন্ট ম্যানেজম্যান্ট প্রতিষ্ঠানটির স্বত্ব পেয়ে কার্যত তারা বিসিবিকে বুড়ো আঙ্গুল দেখাচ্ছে। বিসিবি’র মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান উদ্বোধন অনুষ্ঠানটির প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে বলেছেন, ‘আমরা অনুষ্ঠানটির ব্যাপারে অখুশি।’ শুধু তিনি নন, বিসিবি’র সূত্র থেকে জানা গেছে, বোর্ডের এডহক কমিটির সব সদস্য গেম অনের কার্যকলাপে অসন্তুষ্ট। গেম অন স্পোর্টসের অঞ্জন ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক কাস্তুভ লাহিরি রয়েছেন। মূলত এই দুজনের পরিকল্পনায় বিপিএলের উদ্বোধন অনুষ্ঠান সাজানো হয়েছে। ছয় বছরের চুক্তি হলেও বিপিএলের প্রথম আসরে বোর্ডের সাথে তাদের চুক্তি ছিল না। বিসিবি’র এডহক কমিটি দায়িত্ব নেয়ার পর নতুন করে চুক্তি হয় তাদের।
এরকম একটি ব্যর্থ অনুষ্ঠান শুধু বোর্ডকেই নয়, সাধারণ দর্শকদের ঠকিয়েছে ইভেন্ট ম্যানেজম্যান্ট প্রতিষ্ঠান। উদ্বোধন অনুষ্ঠান সম্বন্ধে অনেক দর্শক কাল ইত্তেফাক অফিসে ফোন করে তাদের অসন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন। এমতাবস্থায় চুক্তির বিষয়ে নতুন করে চিন্তা করা যায় কিনা এমন প্রশ্নে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলরের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক বলেন, ‘চুক্তি আমরা বাতিল করতে পারি, কিন্তু বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে।’
গেম অন স্পোর্টসের অন্যতম পরিচালক কাস্তুভ লাহিরি বাংলাদেশের বহুল আলোচিত আইসিএল ক্রিকেটের অন্যতম রূপকার। জাতীয় দল থেকে সাত ক্রিকেটারকে বের করে আনার পিছনে গেম অনের এই পরিচালকের অবদান রয়েছে অনেক। অথচ তাদের উপরই বিসিবি আস্থা রেখেছে। শেষ পর্যন্ত বিপিএলের দ্বিতীয় আসর শুরু হতে না হতেই উল্টো বিব্রত হচ্ছে ক্রিকেট বোর্ড!
