বিপিএলে খেলোয়াড় না দেয়ার কারণ হিসেবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) সমপ্রতি যুক্তি দিচ্ছিল—এ ব্যাপারে তাদের আগে কিছু জানানো হয়নি। কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কঠোর ভাষায় কাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে। একই সঙ্গে পিসিবির আচরণ ও তাদের কর্মকর্তাদের সামগ্রিক কথাবার্তায় নিজেদের হতাশা প্রকাশ করেছে বিসিবি।
বিসিবি পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আসা অভিযোগের জবাব দিয়ে বলেছে, ‘পিসিবির সামপ্রতিক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেখে বিসিবি অত্যন্ত বিস্মিত ও হতাশ হয়েছে। তারা এখানে অভিযোগ করেছে, পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের বিপিএলের দ্বিতীয় আসরে রেজিস্টার্ড করার ব্যাপারে পিসিবিকে আগে কিছু জানানো হয়নি। এক্ষেত্রে আমরা আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করতে চাই। আমরা ২০১২ সালের ৫ ডিসেম্বর সব জাতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে একটি চিঠি দিয়ে বিপিএলের দ্বিতীয় আসরের জন্য খেলোয়াড়দের এনওসি দেয়ার অনুরোধ করেছি। এরপরও বিভিন্ন সময় পিসিবি ও বিসিবির মধ্যে নানা মাধ্যমে যোগাযোগ হয়েছে। কিন্তু পিসিবি ১৬ জানুয়ারির আগে এ ব্যাপারে কোনো মতই জানায়নি। শেষ মুহূর্তে খেলোয়াড়দের এনওসি দিতে পিসিবি আপত্তি করে বিসিবি, বিপিএল ও দল মালিকদের বিব্রতকর এবং কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলেছে।
পরিষ্কার ভাষায় এই সমালোচনার জবাব দেয়ার পর বিসিবি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পিসিবি কর্মকর্তাদের গত কিছুদের আরও কিছু অভিযোগের জবাব দিয়েছে। বলেছে, ‘পিসিবির বিভিন্ন সংকটের সময় বিসিবি সবার আগে পাশে দাঁড়িয়েছে, ২০০৮ সালে পৃথিবীর কোনো দেশ যখন রাজি হচ্ছিল না, তখন বাংলাদেশ জাতীয় দল পাকিস্তানে ৫টি ওয়ানডে ও একটি টি-টোয়েন্টি খেলে এসেছে। বাংলাদেশ প্রথম বিপিএলে পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের জন্য অকাতরে দুয়ার খুলে দিয়েছে, যেখান থেকে পাকিস্তানি খেলোয়াড়রা খেলার অর্থে ও আর্থিক দিক থেকে উপকৃত হয়েছে।’ সবশেষে বিসিবি পরিষ্কার বলে দিয়েছে, তাদের পাকিস্তান সফর করার পুরোপুরিই ইচ্ছা আছে ও ছিল। তারা আন্তরিকভাবেই চেষ্টা করেছে। কিন্তু খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার সঙ্গে কোনোরকম আপোষ করা সম্ভব নয় বলে তারা সফরে যেতে পারেনি। তবে বিসিবি আশা করে, সম্পর্ক আসছে দিনে আরো ভালো হবে। দৃশ্যত দুই বোর্ডের কথাবার্তায় কী তা মনে হচ্ছে?
