মিট দ্যা প্রেসে ডিসিসিআই

সম্পদ ব্যবস্থাপনাই নয় শিল্প উত্পাদন এবং বিনিয়োগ বাড়ানোও অন্যতম চ্যালেঞ্জ

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০১৩, ১৯:৩১
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কঠিন একটি বছর পার করার পরে নতুন আরেকটি বছর শুরু হয়েছে। চলমান রাজনৈতিক অবস্থা, অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক চাহিদা কম থাকায় এবং গ্যাস-বিদ্যুতের অভাবে চলতি বছরের শিল্প ও সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি কমে যাবে। একইসঙ্গে দেশে বিনিয়োগ পরিস্থিতি সন্তোষজন না হওয়ায় এ অর্থবছরের প্রাক্কলিত জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনও কঠিন হবে। তাই ২০১৩ সালের প্রধান চ্যালেঞ্জ শুধু আর্থিক ব্যবস্থাপনায়ই নয়, প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে উত্পাদনশীল বিশেষ করে শিল্প উত্পাদন ও সেবা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোটাই প্রধান চ্যালেঞ্জ। তবে অল্প কিছু বিষয় ঠিক রাখতে পারলে এ সময়ে এদেশের অর্থনীতির জন্য ব্যাপক সম্ভাবনাও রয়েছে। গতকাল ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাস্ট্রির (ডিসিসিআই) নতুন পরিচালনা পর্ষদের প্রথম মিট দি প্রেসে এসব কথা বলা হয়। ডিসিসিআই সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় ডিসিসিআই সভাপতি মোঃ সবুর খান সহ-সভাপতি নেসার মাকসুদ খান, সহ-সভাপতি আবসার করিম চৌধুরীসহ অন্যান্য পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন। ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, চলত অর্থবছরে (২০১২-১৩) কাঙ্খিত জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য দেশী ও বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। দ্রুত উত্পাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বাড়লে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার লক্ষ্যগুলোর অর্জন সম্ভব হবে। আর এজন্য অর্থনৈতিক-কূটনৈতিক দক্ষতা ও সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। দেশী-বিদেশী সম্পদকে বিনিয়োগের জন্য সঞ্চালিত করতে হবে এবং উত্পাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করার পাশাপাশি অনুত্পাদনশীল খাতে সম্পদের অপচয় বন্ধ করতে হবে। অর্থনৈতি উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কোন বিকল্প নেই এজন্য রাজপথে শক্তির মহড়া দেখানো থেকে বিরত থাকার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান ডিসিসিআই সভাপতি। তিনি বলেন, সার্বিকভাবে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য সহায়ক নয়। বেসরকারি খাত মনে করে দেশের বৃহত্ স্বার্থে সকল রাজনৈতিক দল সহনশীল মনোভাবের পরিচয় দিবেন। যে দলই ক্ষমতায় থাকুকনা কেন জাতীয় ইস্যুতে উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ দেশের জন্য একটি ভালো নির্দেশিকা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। হরতাল থেকে বিরত থেকে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক এক স্টাডিতে দেখা যায় একদিনের হরতালের কারণে দেশের অর্থনীতির ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। পনের দিনের হরতালের কারণে যে পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয় তা দিয়ে অনায়াসেই একটি পদ্মা সেতু তৈরী করা সম্ভব। দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে ঢাকা চেম্বার বেসরকারি খাতের উন্নয়নের জন্য কাজ করছে এবং এক্ষেত্রে ডিসিসিআইয়ের নানাবিধ কার্যক্রম এবং চলতি বছরের ডিসিসিআই কি কি কাজ করতে চায় সে বিষয়ের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণী তুলে ধরেন ডিসিসিআই সভাপতি। পরে চলতি বছরের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বেশ কিছু সুপারিশও তিনি তুলে ধরেন। এসব সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে দেশর জন্য সমস্যাগুলো সম্ভাবনায় পরিণত হবে। এসব সুপারিশের মধ্যে অন্যতম হলো বেসরকারি খাত রক্ষায় সরকারি দল এবং বিরোধী দল উভয়কেই রাজনীতি করার জন্য রাজপথে না আসা। প্রয়োজনে তাদেরকে রাজনৈতিক কার্যক্রমের জন্য ঢাকার বাহিরে অথবা ঢাকার ভিতরে আলাদা খোলা জায়গা চিহ্নিত করার মাধ্যমে রাজনৈতিক কর্মকান্ডের জন্য ব্যবসা-বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত না করা। নতুন যেসব শিল্প-কারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুত সংযোগ দেয়া, নতুন উদ্যোক্ত তৈরিতে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল নীতিমালা তৈরী, রপ্তানি বাড়াতে রপ্তানি বাজার ও পণ্য বৈচিত্রকরণের উদ্যোগকে অগ্রাধিকার প্রদান, জ্বালানি ও বিদ্যুতের উত্পাদন খরচ হ্রাস করে ভর্তুকির সমন্বয় করা, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহ করা, ব্যাংক ঋনের সুদের হার কমানো, শেয়ার বাজারকে শক্তিশালী করা এবং বাংলাদেশী পণ্যের আমেরিকার বাজারে জিএসপি সুবিধা প্রাপ্তির বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা।