জিত্-এর কথা ভিত্তিহীন, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্তই সেদিন হয়নি

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:০২
মু খো মু খি গতকাল প্রকাশিত কলকাতার নায়ক জিত্ তার ইন্টারভিউতে বলেছিলেন তিনিও হিন্দি ছবির পক্ষে নন। তবে কলকাতা ও বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের এই যৌথ মত-বিনিময় নিয়ে তার মতামতের বিরূদ্ধাচরণ করলেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিশা সওদাগর। জিত্ এবং প্রসেনজিত্-এর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে পুরোটাই ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিলেন তিনি। সাম্প্রতিক এই ইস্যু এবং ক্যারিয়ারের নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন অভিনেতা মিশা সওদাগর। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন রবি হাসান। আপনিতো এবার জাতীয় পুরস্কার পেলেন। এর অনুভূতিটা একটু জানতে চাই। এটা আল্লাহর কাছে অনেক শুকরিয়া। যারা এবারের জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন তাদের সবার প্রতি অভিনন্দন রইল। যারা যারা পেয়েছেন তার অধিকাংশই আমার গুরুজন এবং গুণীজন। তারা সবাই এই পুরস্কারটা ডিজার্ভ করেন। আমি ‘গেরিলা’ ছবিতে অভিনয়ের কারণে পেয়েছি। ছবিটি সর্বমহলে প্রশংসিত। আন্তর্জাতিক মানের একটি ছবি। আমার পুরস্কারটি এই ফিল্মের পুরো পরিবারের অর্জন। তাদের সবার সহযোগিতাতেই এটা আমি পেয়েছি। আর আমি কিছুদিন ধরেই ভাবছি যে, ঘুরে ঘুরে একই ঘরানার ছবি এখন থেকে আর করব না। এ জীবনে অনেক ছবি করেছি। আমার তো মনে হয়, যদি পুরো পৃথিবীতে জরিপ করা হয় তাহলে দেখা যাবে খল নায়ক চরিত্রে সর্বাধিক ছবি একমাত্র আমারই। এখন থেকে ভালো ভালো প্রোডাকশনের সঙ্গে নিজেকে জড়িত রাখব। একান্ত বাধ্য না হলে এ ধরনের ছবি করব না। খুব বেছে বেছে কাজ করব। এবার এটা শুধু চলচ্চিত্র না, নাটক ও বিজ্ঞাপনের বেলায়ও। এমন সব কাজ করতে চাই এখন থেকে, যেন সবাই প্রশংসা করে, কাজটি আন্তর্জাতিক মানসম্মত হয়। কিছু দিন আগে কলকাতা থেকে কয়েক জন অভিনেতা ও প্রযোজক ঢাকায় এসেছিলেন। ঢাকায় কলকাতার ছবি এবং কলকাতায় ঢাকার ছবি চালানোর বিষয়েই মূলত অলোচনা করতে এসেছিলেন। এ বিষয়টি নিয়ে কিছু বলুন... এই আলোচনার বিষয় যে, শুধু এ দেশে-ও দেশের ছবি এক্সচেঞ্জ তা নয় কিন্তু। এখানে আরও অনেক বিষয় জড়িত ছিল। আমাদের প্রযোজক-পরিচালক ও শিল্পী এবং তাদের প্রযোজক-পরিচালক ও শিল্পী একসঙ্গে মিলেমিশে কাজ করারই প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে সেদিন। এ নিয়ে আরও একটা আলোচনা সভা হবে, আর সেটা হবে কলকাতায়। তাদের কাছ থেকে নিমন্ত্রণ এলেই আমাদের একটা টিম সেখানে যাবে এবং ফাইনাল কিছু একটা হবে। তাহলে কী বাংলাদেশের চলচ্চিত্র কলকাতায় এবং কলকাতার চলচ্চিত্র বাংলাদেশে চলবে এ বিষয়টি মিথ্যা? না এ ধরনের কিছুই হতে যাচ্ছে না। এ বিষয় নিয়ে কোনো আলোচনাও হয়নি। তারপরও একটা প্রসঙ্গ উঠেছিল সেই প্রসঙ্গে আমরা বলেছিলাম যে, আপনারা ছবি বানান ১০ থেকে ১৫ কোটি রুপি খরচ করে, সেখানে আমরা একটা ছবি নির্মাণ করি সর্বোচ্চ দেড় কোটি টাকায়। অনেক তফাত্। তাদের ড্রেসআপ, লোকেশন সবকিছুতেই তারা অনেক ম্যাচিউরড, সেই দিক থেকে আমরা তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতেও পারব কি না সন্দেহ আছে। তাই এই চলচ্চিত্র বিনিময়ের বিষয়টি গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। আরেকটা বিষয়ও আলোচনায় উঠেছে যে, আমাদের দেশের শিল্পীর অভিনয় মান এবং তাদের দেশের শিল্পীর অভিনয় মান নিয়ে যদি প্রতিযোগিতা করা হয় তাহলে আমরাই জিতব। আর সেই অভিনয়ের মানের জন্যই সবাই যৌথভাবে কাজের আলোচনা হয়েছে। আমি তো এক বাক্যে বলতে পারব, যদি আমাদের শাকিব খানের পাশে তাদের সব হিরোকে দাঁড় করানো হয় কেউ শাকিব খানের পাশে নায়কের মতোই মনে হবে না। গতকাল আমাদের ‘বিনোদন প্রতিদিন’-এ কলকাতার এ সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক জিত্-এর সাক্ষাত্কার প্রকাশ হয়েছে। এই সাক্ষাত্কারে জিত্ তো অনেকটা নিশ্চয়তা দিয়েই বলেছেন যে, এ দেশের ছবি কলকাতায় এবং কলকাতার ছবি বাংলাদেশে চলবে। তাহলে কী এ কথা ভিত্তিহীন? অবশ্যই ভিত্তিহীন। আমরা এ ধরনো কোনো কিছুতে সাইন করিনি। এ ধরনের কোনো চুক্তিতে যাইনি। আলোচনায় আমাদের মন্ত্রীমহোদয় ছিলেন, পরিচালক সমিতি, শিল্পী সমিতি, প্রযোজক সমিতিসহ অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। জিত্ এই কথাটি কেন বলেছেন আমি ঠিক জানি না, তবে জিত্-এর কথা পুরোপুরি ভিত্তিহীন। ছবি এক্সচেঞ্জের মোটেও হচ্ছে না। এবং আগামী ৫/১০ বছরেও এটা হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে আমি জানি। আর আমাদের সরকার বা প্রধানমন্ত্রী যদি নতুন কোনো গ্যাজেট বা আইন তৈরি করেন তাহলে হয়তো হতে পারে, কিন্তু এখনকার আইন ও সাম্প্রতিক আলোচনায় এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়নি। এবারে আপনার শিল্পী সমিতির বর্তমান অবস্থা প্রসঙ্গে একটু জানতে চাই— বর্তমান শিল্পী সমিতির অবস্থা মনে করি ভালো। আমার প্ল্যানিং নিয়ে এসেছিলাম, যথেষ্ট সতর্কতার সাথে এগিয়ে যাচ্ছি এবং সফল হচ্ছি। যেগুলো কথা দিয়েছিলাম তার সবগুলোই রেখেছি। আগামী জুন-এ শেষ হবে আমাদের দায়িত্ব, এর তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে। আমরা আমাদের কাজ নিয়ে আমরা পরিপূর্ণ সন্তুষ্ট। আমরা ১০০-এর মধ্যে ৮০ ভাগ করে ফেলেছি, ৯০ হবে তারপরও ১০ ভাগ কমই বললাম। তারপর ১০ লাখের উপরে আমরা অনুদানই দিয়েছি। আরও তো অনেক কার্যক্রম করেছিই। যা অনেকেই জানেন। এখনতো আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক ভালো ছবি হচ্ছে। দর্শকরাও হলমুখী হচ্ছে। তারপরও এর সংখ্যা খুবই হাতে গোনা। দেখা যায় বছরে দুয়েকটা। কিন্তু ছবি তো মুক্তি পাচ্ছে অনেকগুলোই। বাকিগুলো গ্রহণযোগ্যতা না পাওয়ার কারণ কী বলে মনে হয় আপনার কাছে? এর অনেকগুলো কারণ। আমরা হলে রিপিট দর্শক খুব কম পাচ্ছি। যে যত্ন নিয়ে একটা গান করা উচিত সেই যত্ন নিয়ে আমাদের সেই গানগুলো করা হয় না। যেমন, জেমসের গান বা হাবিবের গান বা ন্যান্সির গান ফিল্মে আমরা দিতে পারছি না। এই গানের ব্যাপারে খুবই উদাসীন, স্ক্রিপ্টের ব্যাপারে আমাদের কোনো আগ্রহ নেই, ভালো নয় চিত্রনাট্য, রয়েছে শিল্পী সংকট। এক মুখ মানুষ কতবার দেখবে। প্রতিদিন মোরগ পোলাও ভালো লাগে না। আর আমাদের ইমিডিয়েট ফিল্ম ইনস্টিটিউট দরকার। যেখানে নতুন শিল্পী, নির্মাতা প্রতি বছর বছর পাওয়া যাবে। সরকারিভাবে একটা হচ্ছে। তারপরও বেসরকারিভাবেও দরকার। আমাদের তো এসব কিছুই নেই। আমরা কীভাবে কলকাতার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামি। আরেকটা জিনিস বলতে চাই যেমন, গল্প হচ্ছে মুম্বাই বা লন্ডনের প্রেক্ষাপটে, অথচ এই মুম্বাই বা লন্ডনের শুটিংটুকু এফডিসিতেই স্বল্প খরচে সেট বানিয়ে করা হচ্ছে। এই বিষয়টা কি হাস্যকর মনে হয় না আপনার কাছে? আমি এটার পক্ষে কখনও বলব না। আমি মনে করি যে এটা তার ওই লোকেশনে গিয়েই শুটিং করা উচিত। এটি এফডিসিতে বানালে তখন দর্শকদের সঙ্গে চিট করতে হবে। আর একটা চিট শট আর অরিজিনাল শটের মধ্যে অনেক তফাত্ আছে। আমি মনে করি এটা বোম্বেতেই শুট করা উচিত। আর যদি টাইটানিকের মতো হয় তাহলে অন্য বিষয়।