২০১১ সালের আদমশুমারি মতে বাংলাদেশে প্রবীণ ব্যক্তির সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৮ শতাংশ বা ১ কোটি। আধুনিক সুযোগ সুবিধা ও চিকিত্সা বিজ্ঞানের অগ্রগতির জন্য এদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ১০০ বছরের বেশি বয়সের ব্যক্তির প্রায় কোন অসুবিধা ছাড়াই বেঁচে থাকার উদাহরণ আছে। কিন্তু আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপটের প্রেক্ষিতে এই দীর্ঘ জীবনপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পড়তে হয় নানা অসুবিধায়। এই নাজুক ও প্রবীণ ব্যক্তিদের সেবাযত্ন প্রয়োজন। ‘নাজুক ও প্রবীণ ব্যক্তিদের সেবাযত্ন’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, আমাদের দেশে এখন প্রবীণদের পুনর্বাসন ও সেবাযত্নের প্রয়োজন। গতকাল ঢাকা ক্লাবের সহায়তায় ‘এজ ওয়েল ফাউন্ডেশন’ আয়োজিত এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন এজ ওয়েলের সভাপতি নাঈমা চৌধুরী কায়েস এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন তানভীর মাজহার ইসলাম পান্না। অনুষ্ঠানে নাজুক ও প্রবীণ ব্যক্তিদের জন্য দুটি গবেষণাপত্র ও তাদের কার্যক্রম উপস্থাপন করা হয়। উপস্থাপনে বলা হয় প্রবীণদের জন্য আগামী ৩ থেকে ৫ বছরে এজ ওয়েল ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় বাসস্থান ভাড়া করবে। এজ ওয়েলের সেবা কেন্দ্রে নিঃসঙ্গ প্রবীণ ব্যক্তিগণ ও বিপন্ন বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সেবা প্রদানে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করবে। যার মধ্যে প্রশিক্ষিত ব্যক্তির হাতে যত্ন, তাঁদের প্রয়োজন উপযোগী বাসস্থানে নিরাপদ আবাস, আগ্রহ অনুযায়ী সেবা কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা ও কাজ কর্মে অংশগ্রহণের সুযোগ, সুবিধামত সময়ে পরিবার ও বন্ধুদের দেখা সাক্ষাতের সুবিধা এবং যারা স্বল্প কালের জন্য থাকতে বা মেলামেশা করতে আসেন তাদের সাথে আলাপ আলোচনা, মতবিনিময়, গবেষণায় অংশগ্রহণ বা কোন কাজ শেখা (যেমন কম্পিউটার ব্যবহার, আর্থিক বা অন্য কোন দক্ষতা) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। তারা আরো জানান, এজ ওয়েল সেবা কেন্দ্র তিন বছরের প্রকল্প।
