নাটকীয় ম্যাচে জয় পেয়েছে দুরন্ত রাজশাহী।
শেষ ওভারে চিটাগাং কিংসের জয়ের জন্য যখন কেবল তিন রান দরকার, এরকম একটা সমীকরণে পরপর তিন বলে তিন উইকেট খুইয়ে উল্টো দুই রানে হেরে যায় চট্টগ্রামের দলটি। আর তাই মাত্র ৯৯ রান করেও দিনশেষে ম্যাচটি জিততে পেরেছে দুরন্ত রাজশাহী।
রাজশাহীর দলটির জন্য এবার পাকিস্তানিদের না পেয়ে সেরা একাদশ সাজানোই কঠিন হয়ে পড়েছিল। তারপরও শক্তিশালী চিটাগাং কিংসকে হারিয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) প্রথম ধাপ পার করলো রাজশাহী।
গতকাল শনিবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুপুরের ম্যাচটিতে ক্ষণে ক্ষণে মোড় বদলানোর পরও তামিম ইকবালের রাজশাহীর জন্য ম্যাচটি কঠিন ছিল। শেষ ওভার পর্যন্ত জেতার মতো অবস্থায় ছিল না রাজশাহী। তাই খেলা শেষে রাজশাহীর অধিনায়ক তামিম ইকবাল বলেন, ‘যখন শেষ ওভারে তিন রান প্রয়োজন, ওদের ছিল এক উইকেট, তখন মনে হয়েছে কিছু একটা হতে পারে। এছাড়া আমার চিন্তা ছিল শেষ ওভার পর্যন্ত ম্যাচটি টেনে নিয়ে যাওয়া’।
মাত্র ২৫ রানের ব্যবধানে তিন উইকেট ফেলে দিয়ে চিটাগাংকে মরণ কামড় দিয়েছিলেন মনির, তাইজুল ও নাঈম। অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও মেহরাব হোসেন ৩৯ রানের একটি ছোট পার্টনারশীপ গড়লে জয়ের খুব কাছে চলে আসে চিটাগাং। কিন্তু জাতীয় দলের পেসার আবুল হাসানের পেসে রিয়াদদের আরো তিন উইকেট পড়ে যায়। আর শেষ ওভারে শন আরভিনের দুইটি এবং একটি রানআউট হওয়ায় উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচটি জিতে যায় রাজশাহী। তবে দুশ্চিন্তা কমিয়েছিলেন রিয়াদ। ৪২ বলে ৪০ রান করেছেন তিনি, আউট হয়েছেন যখন দলের দরকার ১৩ রানের। কিন্তু শেষদিকে দলের এমন হাল হবে তা যেন চিন্তাই করেননি চিটাগাংয়ের এই অধিনায়ক। কাল ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘আমার আউটটি ছিল বাজে। বিশ্বাস ছিল আমরা জিততে পারবো। তবে ওরা ৯৯ রান করার পরও আমি ড্রেসিংরুমে বলেছি, এই রান চেজ করা সহজ হবে না। উইকেট কঠিন ছিল। লো স্কোরিং ম্যাচ বলেই কঠিন ছিল বেশি’।
উইকেট কঠিন প্রসঙ্গে রিয়াদ বলেন, ‘এরকম কঠিন নয় যে, ১০০ রান হবে না। আমরা আসলে পারিনি’। সরল স্বীকারোক্তি রিয়াদের। বিপিএলের প্রথম ম্যাচেই তুলনামূলক কম শক্তিশালী দল রাজশাহীর কাছে অঘটন তাদের। অন্যদিকে মাত্র দুইজন বিদেশি নিয়েও রাজশাহীর উড়ন্ত সূচনা দেখে নিজের ভিতরে আত্মবিশ্বাস বেড়ে গেছে তামিমদের। সায়মন ক্যাটিচের অনুপস্থিতিতে অধিনায়কত্ব পাওয়া তামিম কাল ব্যাট হাতে ১৬ বলে ১৭ রান করে বিদায় নেন। মুক্তার আলীর ব্যাট থেকে এসেছে সর্বোচ্চ ২২। ব্যাট হাতে যেটা পারেননি ফিল্ডিং করে সেটা পুষিয়ে দিয়েছেন রাজশাহীর অধিনায়ক। শেষ ওভারের চমত্কার রানআউটটি করেছেন তিনিই। প্রতিপক্ষ চট্টগ্রাম বলেই কি ফিল্ডিংয়ের প্রতি বাড়তি মনোযোগ? প্রশ্নটি শুনেই তামিমের হাসি। বললেন, ‘চট্টগ্রাম বলে নয়। আমি আগেও বলেছি, আমার প্রতিপক্ষ চট্টগ্রাম বলে খেলতে থাকি, তবে চাপ হবে আমার জন্য। আমি গত বিপিএলে খেলতে পারিনি। নিজেকে প্রমাণ করার জন্য এটা আমার দরকার ছিল। আর আমি দলের অধিনায়ক। আমি যদি অন্যদের তুলনায় ডাউন থাকি তাহলে অন্যদের কি হবে?’
মার্শাল আইয়ুবের ক্যাচটি ফেলে দিয়ে জিয়াউর রহমান দলের সর্বনাশ ডেকে এনেছিলেন। তবে সেটি পুষিয়ে দিয়েছেন আরভিন। শেষ ওভারে স্পিন না দিয়ে আরভিনকে বেছে নেয়ার মতো সাহসী কাজও করেছেন অধিনায়ক তামিম। অবশ্য এটা তার একক সিদ্ধান্ত নয় বলে জানালেন জাতীয় দলের এই ওপেনার। তিনি বলেন, ‘আরভিন টি-টোয়েন্টি খেলেছে। ওর অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে তার কাছে বল তুলে দিয়েছি। তাছাড়া আমি অমি ভাইয়ের সাথেও কথা বলেছি। দলের অন্যদের সাথেও আলোচনা করেছি যে শেষ ওভারটি আরভিনকে দেয়া যায় কিনা’।
আরভিনের রয়েছে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার প্রচুর অভিজ্ঞতা। খেলা শেষে শেষ ওভারে দুই উইকেট নেয়া আরভিন বলেন, ‘অবশ্যই দারুণ উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ হয়েছে আমাদের। তবে শেষ ওভার যে আমি করবো এবং টসে জিতলে ব্যাট করবো এটা আমাদের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ছিল’।
ঢাকার প্রথমপর্বে আজ বিপিএলের শেষ দুইটি ম্যাচে দুপুর দুইটায় বরিশাল বার্নার্স ও খুলনা রয়েল বেঙ্গলস এবং সন্ধ্যা ছয়টায় খেলবে দুরন্ত রাজশাহী ও সিলেট রয়েলস। আজকের খেলাগুলোর পর কাল দলগুলো খুলনার উদ্দেশে রওয়ানা হবে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
দুরন্ত রাজশাহী-২০ ওভারে ৯৯/৯ (মুক্তার ২২, তামিম ১৭, জিয়া ১৩, রিয়াদ ২/১৭, বোপারা ২/১৯)।
চিটাগাং কিংস-১৯.৩ ওভারে ৯৭/১০ (রিয়াদ ৪০, মেহরাব ১৮, আবুল ৩/২০, আরভিন ২/৬)।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: শন আরভিন।
ফল: দুরন্ত রাজশাহী জয়ী ২ রানে।
