বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) শুরুর আগে খেলোয়াড়দের শতকরা ২৫ ভাগ পারিশ্রমিক দেয়ার কথা থাকলেও এখনো ছয় ফ্রাঞ্চাইজি তা পরিশোধ করেনি। বরং বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলরের কাছে তারা চিঠি দিয়ে ফের সময় বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে।
ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিকের ব্যাপারে কয়েক দফায় তারিখ পরিবর্তনের পর ইতোমধ্যে বিপিএল টুর্নামেন্ট শুরুও হয়ে গেছে। কিন্তু বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলরের কাছে ফ্রাঞ্চাইজিগুলো খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক পরিশোধের শর্ত পূরণ করেনি। গতকাল শনিবার বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলরের চেয়ারম্যান আফজালুর রহমান সিনহা এর সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, ‘ফ্রাঞ্চাইজিগুলো আমাদের কাছে সময় চেয়েছে। আমরা তাদেরকে সময় দিয়েছি। কিন্তু আমার জানামতে, দুই একটি ফ্রাঞ্চাইজি ছাড়া বাকি ফ্রাঞ্চাইজি খেলোয়াড়দের পারিশ্রামিক পরিশোধ নিয়ে গড়িমসি করছে। আমরা সাত ফ্রাঞ্চইজির সাথে কাল (আজ) বৈঠকে বসবো। আশা করছি, কাল পারিশ্রমিক শোধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে’।
বিপিএলের প্রথম আসরে ফ্রাঞ্চাইজিগুলো পারিশ্রমিক দেয়ার ব্যাপারে খেলোয়াড়দের অনেক ভোগান্তিতে ফেলেছিল। অনেক ফ্রাঞ্চাইজি দ্বিতীয় আসর শুরুর সময় নির্ধারণের পরও গত আসরের পারিশ্রমিক পরিশোধ করেনি। পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) দায়িত্ব নিয়ে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক পরিশোধ করে।
বিসিবি এর সাথে শর্ত দেয়, টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ও শেষে শতকরা ২৫ ভাগ করে এবং আসরটি শেষ হওয়ার ছয়মাসের মধ্যে বাকি ৫০ ভাগ অর্থ শোধ করতে হবে। দৃশ্যত ফ্রাঞ্চাইজিগুলো বিসিবির এই শর্তও অমান্য করে। বিসিবি সভাপতি সংবাদ সম্মেলনে কড়া ভাষায় বলেছিলেন, সময়মত পাওনা পরিশোধ না করলে দলগুলোর ফ্রাঞ্চাইজি বাতিল করা হবে। কিন্তু বিসিবি সভাপতির এমন কঠোর ভাষাকেও ফ্রাঞ্চাইজিগুলো আমলে নেয়নি।
তবে কাল বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলরের চেয়ারম্যান ইঙ্গিত দিলেন, খুব শীঘ্রই বোর্ড সভাপতি খেলোয়াড়দের পাওনা পরিশোধের গড়িমসি করা ফ্রাঞ্চাইজিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবেন। তিনি বলেন, ‘বোর্ড সভাপতি দেশের বাইরে রয়েছেন। কাল (আজ) তিনি ঢাকায় আসছেন। বিষয়টির সম্বন্ধে তিনি অবগত। বোর্ড সভাপতি আবারো বলেছেন, ‘ফ্রাঞ্চাইজিগুলো শর্ত মোতাবেক টাকা পরিশোধ না করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে’।
কঠোর পদক্ষেপ কি হতে পারে জানতে চাইলে বিপিএল চেয়ারম্যান তা এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘আমরা কাল তাদের সাথে বৈঠকে বসছি। আমরা জিজ্ঞেস করবো কেন এত দেরি করছে তারা। তবে তাদেরকে সময় দেয়া হবে না’।
সাত ফ্রাঞ্চাইজিকে গত ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত খেলোয়াড়দের প্রথম কিস্তি পরিশোধের সময়সীমা নির্ধারণ করে দিলেও শুধু ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস ছাড়া বাকিরা কোন পাওনা পরিশোধ করেনি। ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস ইতোমধ্যে বিসিবিকে তিন কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি দিয়েছে। দুরন্ত রাজশাহীর চেয়ারম্যান মুশফিকুর রহমান মোহনও জানিয়েছেন, তারা বিসিবিকে প্রথম কিস্তির টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি দিয়েছেন। এরপরও খেলোয়াড়দের প্রথম কিস্তির টাকা পরিশোধ হয়নি।
