সারা বিশ্বের নানা প্রান্তে আয়োজিত টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। আর এর জন্য তারা আয়োজন করতে যাচ্ছে পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল)। আর এই টুর্নামেন্ট আয়োজনের ব্যাপারে আশাবাদ জানিয়েছেন টুর্নামেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমান সারওয়ার বাট।
২০০৯ সালে পাকিস্তান সফররত শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলকে বহনকারী বাসের উপর ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পরে আর কোন টেস্ট খেলুড়ে দেশই পাকিস্তান সফর করেনি। তবে বিভিন্ন দেশের তারকা খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গঠিত অল স্টার একাদশ গত বছরের অক্টোবরে করাচিতে পাকিস্তান জাতীয় দলের বিরুদ্ধে দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মুখোমুখি হয়। ঐ ম্যাচে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়রা টুর্নামেন্টের আয়োজন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে। সেই সাফল্যই হয়তো পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) আশাবাদী করে তুলছে আইপিএল’র অনুকরণে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের এই নতুন লিগ চালুর ব্যাপারে।
টুর্নামেন্টের প্রধান ব্যবস্থাপক সালমান বলেছেন, ‘বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড় এবং আইসিসির সদস্য পদভুক্ত বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা এই টুর্নামেন্টে খেলার ব্যাপারে যে আগ্রহ দেখাচ্ছে তা দেখে আমরা অভিভূত। দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড়েরা টুর্নামেন্টে অংশ নেয়ার জন্য তাদের ইচ্ছার কথা আমাদের জানিয়েছে।’ পিসিবি আগামী মার্চ মাসের শেষ দিকে এই টুর্নামেন্ট শুরু করার কথা ভাবছে। বোর্ড আশা করছে টুর্নামেন্টে কমপক্ষে ৩০ জন বিদেশি খেলোয়াড় অংশ নেবে। এখনও নাম ঠিক না হওয়া পাঁচটি শহর ভিত্তিক দলের অধীনে খেলোয়াড়রা এই টুর্নামেন্টে অংশ নেবেন। আইসিসির সাবেক প্রধান নির্বাহী হারুন লরগাত পিএসএল’র উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন।
পিসিবি আশা করছে, এই টুর্নামেন্ট বিভিন্ন দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে এই বার্তা পৌঁছে দেবে যে অন্য কোন ক্ষেত্রে না হলেও অন্তত খেলোয়াড়দের জন্য পাকিস্তান নিরাপদ। সালমানও বুঝতে পারছেন টুর্নামেন্টে তাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তিনি বলেছেন, ‘খেলোয়াড়দের ভীতি দূর করার সবচেয়ে ভাল উপায় হচ্ছে তাদের জন্য সর্বোচ্চ মাত্রার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা। পিএসএল দারুণ একটা নিরাপত্তা ব্যবস্থাই করতে যাচ্ছে। যা নিশ্চিতভাবেই আইসিসি যে ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চায় তার সমমানের হবে। আমরা আমাদের নিজেদের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদেরও টুর্নামেন্টে যুক্ত করার পরিকল্পনা করছি।’ টুর্নামেন্টের মূল ভেন্যু হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে করাচি এবং লাহোরকে। লাহোরে ইতোমধ্যেই বিশ্বের ২৬টি দেশের অ্যাথলেটদের সমন্বয়ে একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
