দারুণ এক ম্যাচ উপহার দিয়েও শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবকে হারাতে পারেনি ব্রাদার্স ইউনিয়ন। এক গোলে এগিয়ে থাকা ম্যাচে ব্রাদার্স শেষ পর্যন্ত শেখ জামালের সাথে ড্র করে মাঠ ছাড়ে। ৮৯ মিনিটে বদলি স্ট্রাইকার সোহেল রানার সমতাসূচক গোলটি শেখ জামালকে লিগের প্রথমপর্বে হারের কালিমা থেকে রক্ষা করে।
ব্রাদার্স গতকাল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শেখ জামালের বিরুদ্ধে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করতে নেমেছিল। আর শেখ জামালও শীর্ষে উঠার জন্য ব্রাদার্সকে হারাতে মাঠে নামে। কিন্তু দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া ব্রাদার্স প্রথমপর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে আগুনের মতো জ্বলে উঠেছিল কাল। দারুণ খেলে ১৫ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে ব্রাজিলীয় গারসিয়া এন্ডারসনের গোলটিতে এগিয়েও যায় ব্রাদার্স (১-০)। কিন্তু ৮৯ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে থেকেও তারা দ্বিতীয় জয় থেকে বঞ্চিত হলো। গোলটা করেই ব্রাদার্স যেন সেই পুরোনো দিনে ফিরে এসেছিল। হঠাত্ করে ব্রাদার্সের অগ্নিরূপ দেখে স্টেডিয়ামে আসা কয়েক হাজার দর্শক অবাকই হয়েছেন। টানা ছয় ম্যাচ হেরে ফুটবল দর্শকদের দৃষ্টির দূরে চলে যাওয়া ব্রাদার্স কাল শেখ জামালকে চেপে ধরেছিল। নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার কিংসলে চিগোজি, স্বদেশি ডিফেন্ডার জাঙ্গাকাস, ব্রাজিলীয় স্ট্রাইকার এন্ডারসনদের সাথে অনিক, জামাল, খান শরিফ দলের সবাই ভালো খেলেছেন।
লিগের শুরু থেকে ম্যাচ হার হারতে হারতে মনোবল হারিয়ে ফেলেছিলেন ব্রাদার্সের ফুটবলাররা। সপ্তম ম্যাচে আরামবাগের বিরুদ্ধে জিতে মনোবল ফিরে পায় দলটির খেলোয়াড়রা। উজ্জীবিত দলটির বিরুদ্ধে জয় পাওয়ার জন্য কাল ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার মাইক গোল লাইনের কাছ থেকে বলে পা লাগাতে পারেননি। এরপর ফ্রি কিক পায় ব্রাদার্স। আবার সেই এন্ডারসন ফ্রি কিক করেন। কিন্তু শেখ জামালের গোলকিপার মোস্তাক দারুণভাবে পাঞ্চ করে বাইরে না ফেললে বল জালে জড়িয়ে যেত। গোল পাওয়ার জন্য স্ট্রাইকার বাড়িয়ে দেন শেখ জামালের নাইজেরিয়ান কোচ জোসেফ আফুসি। সানডে, মাইক ওতোজেরির সাথে ৮০ মিনিটে আলমগীর রানার পরিবর্তে সোহেল রানাকে নামান তিনি।
ব্রাদার্সের সামনে তখন জয়ের হাতছানি আর শেখ জামালের চেষ্টা সমতা ফেরানো। ৮৯ মিনিটে কেস্তার আকনের স্কয়ার পাস থেকে সোহেল রানা গোল করলে ১-১ ব্যবধান গড়ে শেখ জামাল। এরপর ইনজুরি টাইমে শেখ জামালের গিনির মিডফিল্ডার মো. কন্টের শট ব্রাদার্সের ক্রসবারের ভেতরের অংশে লাগলেও গোললাইন পার হয়নি। বল বাইরে চলে আসে। বেঁচে যায় ব্রাদার্স। এরপরই পাল্টা আক্রমণে শেখ জামালের গোলকিপার মোস্তাককে একা পেয়েও ব্যর্থ হয়েছেন ব্রাদার্সের কিংসলে।
সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্যের লুকোচুরির এই খেলায় দুই দলই জেতার সুযোগ পেয়েও সেটা কাজে লাগাতে পারেনি। তবে ব্রাদার্সের গোলকিপার সুবজ দাস রঘু কয়েকবার মাঠে পড়ে থেকে সময় নষ্ট করেছেন। রেফারি জসিম উদ্দিন সেটা এড়িয়ে যাওয়ার কারণে ম্যাচ শেষে শেখ জামালের খেলোয়াড়রা তাকে ঘিরে ধরেছিলেন কম সময় খেলানোর কারণে।
শেখ জামালের কোচ আফুসি জানিয়েছেন, এক পয়েন্ট নিয়েও তিনি সন্তুষ্ট। ব্রাদার্সের নাইজেরিয়ান কোচ লাডিবাবা লোলা সংবাদ সম্মেলনে আসেননি। সহকারী কোচ আরিফুর রহমান পান্নু কথা বলেছেন। শেখ জামাল আট (৫ জয়, ৩ ড্র) খেলায় ১৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে। সমান ম্যাচে ব্রাদার্সের পয়েন্ট চার।
আজকের খেলা:মুক্তিযোদ্ধা:আবাহনী (গোপালগঞ্জ স্টেডিয়াম, বেলা আড়াইটা)।
