খাদ্য পুষ্টিমানে পিছিয়ে বাংলাদেশ

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৩৬
দানাদার খাদ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ এবং সহজ প্রাপ্তির সুযোগ সৃষ্টি করা গেলেও খাদ্যের পুষ্টিমানের বিবেচনায় বাংলাদেশ বেশ খানিকটা পিছিয়ে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘স্টেট অব ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন ইন বাংলাদেশ: ২০১১’ শীর্ষক স্টেকহোল্ডার মিটিং-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সার্ভিলেন্স রিপোর্ট প্রকাশ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ব্র্যাক ও হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল সরকারের পরিসংখ্যান বিভাগের সহায়তায় এ সার্ভিলেন্স পরিচালনা করে। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ২০০৭ ও ২০০৮ সালে খাদ্য সংকটের কারণে পাঁচ বছরের কম বয়সী ৪১ থেকে ৪৩ ভাগ শিশু কম ওজনের হতো। কোন কোন প্রতিবেদনে ২০১০ সালে এ হার ইতোমধ্যেই ৩৬ ভাগে নেমে এসেছে বলে প্রতিফলিত হচ্ছে। তবে সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০১৫ সালের মধ্যে এ হার ৩৩ ভাগে কমিয়ে আনার বিষয়ে সরকার আশাবাদী। বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা বিনিয়োগ পরিকল্পনায় পুষ্টির বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, এ পরিকল্পনার আলোকে কমিউনিটি নিউট্রিশন, খাদ্য নিরাপত্তা, নিউট্রিশন ডাটাবেজ ও সার্ভিলেন্সকে আগামীতে অগ্রাধিকার খাত হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বিভিন্ন সামাজিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। শিশুদের স্কুলে যাওয়ার হার বৃদ্ধি, স্যানিটেশন ও নিরাপদ পানির ব্যবহার বৃদ্ধি, আয়োডিন ঘাটতি হ্রাস ও ভিটামিন-এ’র ব্যবহার বৃদ্ধি এবং দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মঙ্গা প্রতিরোধ করা হয়েছে। এছাড়াও সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচির আওতা বাড়ানো হয়েছে এবং খাদ্য নিরাপত্তার জন্য সরকারি গুদামের ধারণ ক্ষমতাও আগের তুলনায় উল্লেযোগ্য পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্র্যাকের প্রধান নির্বাহী ড. মাহবুব হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন পরিসংখ্যান বিভাগের সচিব নজিবুর রহমান, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অ্যাম্বাসেডর অ্যান্ড হেড অব ডেলিগেশন উইলিয়াম হান্না, হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনালের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিচালক ন্যান্সি হ্যাসলো, ব্র্যাক ইউনিভারসিটির জেমস পি গ্র্যান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের ডিন ড. তিমোথে ইভানস। সার্ভিলেন্স রিপোর্টের মূল বিষয়াবলি উপস্থাপনা করেন ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড সার্ভিলেন্স প্রজেক্টের প্রকল্প ব্যবস্থাপক ড. আকরাম হোসেন।