মজার স্মৃতি। ভালো বন্ধু। সুন্দর সময় পার। হৈ-হুল্লোর আড্ডা। একটির সঙ্গে অন্যটির মাখামাখি। সবই মনে পড়ে। মনে পড়ে যায়। প্রিয় ক্যাম্পাসের প্রাণের আড্ডা। চাইলেও মধুর সেই স্মৃতিকে বিস্মৃতি করা যায় না। সোনার ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখার মতো সে আড্ডা। জাদুর বাক্সে রাখা যায় আড্ডার দিনগুলো। আড্ডা নিয়েই এবারের আয়োজন।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মো: আরিফ হোসেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করেছেন তিনি। আড্ডা নিয়ে তিনি বলেন, ‘ফুরফুরে মেজাজের আড্ডায় সর্বদা মুখরিত থাকে ক্যাম্পাস। আড্ডা আর পড়াশুনায় ব্যস্ত থাকে সবাই। পড়াশুনা শেষে যখন ক্যাম্পাস ছেড়ে যায় তখন সঙ্গে করে নিয়ে যায় হাজার ধরনের আড্ডার স্মৃতি।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আড্ডা বড় ভালো লাগে আমার। তবে যার-তার সাথে আড্ডা দিতে ভালো লাগে না। প্রিয় মানুষের সাথেই আড্ডা দেই। চেনা মুখ, প্রিয় মুখগুলোর সাথে আড্ডা দিতেই বেশি মজা।’
একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রুহুল আমিন বলেন, ‘সারাদিন আড্ডা দিতে ভালো লাগে। সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি আড্ডা দেই আমরা। ৬টা বাজতে গেল। বুঝতেই তো পারছেন আড্ডা কত মজার হতে পারে।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী সোহেলী আক্তার মুক্তা বলেন, ‘আড্ডা বদলে দেয় অনেককে। আড্ডায় জড়িয়ে অনেকেই খুঁজে পেয়েছেন নতুন বন্ধু। কেউবা মনের মানুষ। আর আড্ডা অনেককে করে তুলছে আত্মবিশ্বাসী। বদলে দিয়েছে আচার-আচরণ।’
একই বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র মো: আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘অনেক আড্ডায় থাকলে মনে হয় আছি পরিবারের সাথেই। আড্ডার কারণেই ক্যাম্পাস মুখরিত হয়ে ওঠে প্রাণের মেলায়। আড্ডায় না আসতে পারলে অস্থির লাগে। ক্লাস কিংবা কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকি আমরা।’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ছাত্র এসএম নুরুল মোসাব্বির মনি বলেন, ‘শুক্রবারে আড্ডা বেশি জমে ওঠে। আড্ডার ফাঁকে চলে চায়ের কাপে চুমুক। কেউবা গিটার হাতে বসে যান। শুধু সমবয়সী না, বয়সে বড়দের সঙ্গেও আড্ডা জমে ওঠে। ক্লাস শেষে সবাই মিলে চায়ের দোকানে আড্ডা যেন সোনার ফ্রেমে বাঁধানো।’
একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী রাকিবা সুলতানা রত্না বলেন, ‘সামাজিক, রাজনৈতিক মূল্যবোধ সম্পর্কে নতুন ধারণা নেয়া থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত জীবনের অনেক কিছুই উঠে আসে এসব আড্ডায়। পক্ষে-বিপক্ষে চলে আলোচনা। সমান তালে চলে সমালোচনাও।’
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র লিপটন কুমার বলেন, ‘ক্যাম্পাসে আড্ডা মানে অফুরন্ত আনন্দ। আড্ডা ছাড়া ক্যাম্পাসের কথা কল্পনাও করা যায় না। বলা যায়, আড্ডাবিহীন ক্যাম্পাস যেন ক্যাম্পাসই না।’
একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অনির্বাণ রায় বলেন, ‘বর্তমানে অনেক প্রাক্তন ছাত্র বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত। আড্ডার কথা বললে তারা আজও হারিয়ে যান অতীতের ক্যাম্পাস জীবনে। মনের দুয়ারে উঁকি দেয় ক্যাম্পাস জীবনের অসংখ্য ঘটনা।’
বরিশাল ব্রজমোহন কলেজের দর্শন বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী কামরুন নাহার মাসুদ। আড্ডা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আড্ডার মাধ্যমে জানা-শুনার পরিধি বাড়ে। ক্যাম্পাসে আড্ডা মানে প্রাণ খুলে কথা বলা। আড্ডা মানে হাসি মুখ। আড্ডা মানে দুঃখ-কষ্ট ভাগাভাগি করে নেয়া। আড্ডা ছাড়া ক্যাম্পাস জীবন অচল।’
একই কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী নাজমুন নাহার সুমি বলেন, ‘সকালে-দুপুরে আড্ডা। বিকেলে-রাতে আড্ডা। হলে আড্ডা। ক্লাসের ফাঁকে আড্ডা। স্যার ক্লাসে না এলে তো সবাই মহাখুশি। ক্লাসে কিংবা বাহিরে এসে সবাই মিলে চলে জম্পেস আড্ডা। এভাবেই কেটে যায় ক্যাম্পাসের স্বপ্নের দিনগুলো।’
