দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার। সকাল ৭টা। শীতের এক চমত্কার সকাল। সূর্য মামা কুয়াশা ভেদ করে উঁকি দেওয়ার প্রচেষ্টায় লিপ্ত। এক মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ। এই সময়ে আমরা সবাই চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার চত্বরে। আমাদের সবার প্রিয় হুমায়ুন স্যার সবার উপসি্থিত ঠিক আছে কীনা দেখে নিলেন। তারপর সবাইকে নির্ধারিত বাসে উঠার নির্দেশ দিলেন। গন্তব্য ফেনীর সোনাগাজীর আঞ্চলিক হাঁস ফার্ম। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পোল্ট্রি উত্পাদন বিভাগের অধীনে পোল্ট্রি উত্পাদন ( হাঁস, কোয়েল ও কবুতর) কোর্সের আওতায় এ শিক্ষাসফর।
একটানা ছুটে চলছে বাস। পেছনে ফেলে যাচ্ছে দোকানপাট, গাছপালা, ধানের ক্ষেত। বাসের মধ্যে কেউ ঘুমাতে ব্যস্থ। কেউবা জানালা দিয়ে বাইরের প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখছে। আর বাসের পিছন দিকে কয়েকজন মিলে গান ধরল , যা অন্য সবাইকে আমোদিত করল। দুপুর ১২ টায় আমরা আমাদের গন্তব্যে এসে পৌছলাম। সোনাগাজী আঞ্চলিক হাঁস খামার ও প্রজনন কেন্দ্রের সম্মানিত পরিচালক আমাদের স্বাগত জানালেন। ফার্মে বিদ্যমান হাঁসের প্রজাতি, পালন পদ্ধতি, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, লিটার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে তিনি আমাদের বিস্তারিত জানালেন। এরই ফাঁকে আমাদের অনেকে ফটোসেশনে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। আমাদেরকে হাঁসের বাচ্চা ফুটানোর পদ্ধতি দেখানো হল। সাথে সাথে বেইজিং, জিনডিং, খাকি ক্যাম্পবেল প্রজাতির হাঁসের বাচ্চাও দেখানো হয়। এতদিন বই পড়ে অর্জিত জ্ঞান প্র্যাকটিক্যালি দেখার সুযোগ পেয়ে আমরা অভিভূত হলাম। সর্বশেষে আমাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিলেন তিনি। আর সর্বক্ষণ আমাদের সাথে থেকে উপদেশ, পরামর্শ দিয়ে গেছেন আমাদের হুমায়ূন স্যার। দুপুর ১.৩০টার সময় আমাদের হাঁস খামার পরিদর্শন শেষ হল। এরপর লাঞ্চের পালা। সাথে করে নিয়ে যাওয়া খাবার পরিবেশন করা হল সবার মাঝে।
খামার পরিদর্শন তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন আমাদের পুরো বিকাল অবসর। । বাস এবার ছুটে চলল নতুন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। বিকাল ৪টায় আমরা পৌছে গেলাম গন্তব্যে।চারদিকে পাহাড় আর তার চারপাশে বাঁধ দিয়ে জমা রাখা হয়েছে পানি। এরপর আমরা বোটে করে ছুটলাম ঝর্ণার উদ্দেশ্য। ১০ মিনিটের নৌকা ভ্রমন শেষে পৌছে গেলাম ঝর্ণার পাদদেশে। পাহাড়ের গা ছুয়ে আসা পানি অনবরত পড়ছে হ্রদে। এক মনোমুগদ্ধকর দৃশ্য। কিছুক্ষণ চলল আমাদের ফটোসেশন পর্ব। এক সময় ডাক পড়ল, আবার উঠে পড়লাম বোটে, ফিরে এলাম বাসে।
