রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

বিতর্কের পাঠশালা

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০১৩, ১৮:৪৭
‘যুক্তির শাণিত স্রোতে আঁকি মুক্তির মহাকাল’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে বিতর্ক পাঠশালা নামে একটি বিতর্ক সংগঠনের যাত্রা শুরু হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০১১ সালের জানুয়ারি মাসে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের অতিথি কক্ষে আবাসিক শিক্ষক মো. শাতিল সিরাজের উপস্থিতিতে হল প্রাধ্যক্ষ আখতার ফারুকের সহযোগিতায় বিতর্কে আগ্রহী আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই এই সংগঠনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। সংগঠনটি সামনের দিনে তাদের চলার পথ সুন্দর করতে ওইদিন অনেক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সবার পরামর্শ অনুসারে সংগঠনের নাম রাখা হয়-‘শহীদ সোহরাওয়াদী হল বিতর্ক পাঠশালা’। নাম প্রকাশের সাথে সাথে প্রতি রবিবার চলতে থাকে তাদের অনুশীলন বিতর্ক। এর আগে এসব বিষয় শহীদ সোহরাওয়াদী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আল-আমিন ও রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের মানুয়ার কায়সার ও মানিক সরকারের আহ্বানে ২০১০ সালের ২৭ ডিসেম্বর এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে হলের সকল শিক্ষার্থীকে অবহিত করা হয়। এভাবে সংগঠনের পথচলা শুরু। কোন রাজনৈতিক কার্যকলাপকে বাদ রেখে এই বিতর্ক পাঠশালা নিরপেক্ষ ভাবে চলতে চলতে এবার তিন বছরে পা রেখেছে। এ পাঠশালায় প্রথম থেকেই প্রতি মাসে সমন্বয়ক ও যুগ্ম সমন্বয়ক নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম পরিচালিত করছে। এখন প্রতি রবিবার আসলেই বিতর্ক করা ও দেখার জন্য হল এবং হলের বাহিরের শিক্ষার্থীদের মাঝে অন্য রকম অনুভূতি দেখা যায়। এবছরের জানুয়ারি মাসে সংগঠনটি তিন বছরে পা রাখে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। বছরের প্রথম দিনে গোটা ক্যাম্পাসকে জানিয়ে দেয় বিতর্ক পাঠশালার কথা। এখানে প্রত্যেক বিতার্কিক তার নিজ নিজ অবস্থান থেকে একজন সংগঠক হিসেবে গড়ে উঠছে যা উন্নয়নশীল দেশে প্রান্তিক পর্যায় থেকে সাংস্কৃতিক নেতৃত্ব বিকাশের দক্ষতা অর্জনের জন্য অত্যন্ত জরুরী। বিতর্ক পাঠশালা সৃষ্টি থেকে এ বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখছে। ফলে সংগঠনটি প্রথমে সনাতনী তারপর একটি বড় পরিসরে সংসদীয় বিতর্ক কর্মশালা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সংসদীয় বিতর্কে প্রবেশ করেছে। পরবর্তীতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান এর সংগঠকরা। বিতর্ক পাঠশালা বিতর্ককে হলের সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য কর্মশালা, বিতার্কিক সংগ্রহ সপ্তাহসহ নানা আয়োজন করে থাকে। আগামী বছরগুলোতেও পুরাতন বছরকে পুঁজি করে বারোয়ারী বিতর্ক, জুটি বিতর্ক, প্লানচেইট বিতর্কসহ আরো নতুন নতুন পদক্ষেপের মাধ্যমে সৃজনশীল এই শিল্পকে হলের সকলের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছেন তারা। হলের বিতার্কিক আলমগীর হোসেন, আখতারুজ্জামান রনি, বুলবুল আহম্মেদ ফাহিম বলেন, ‘সাংগঠনিকভাবে বিতর্ক চর্চার এমন সফল উদ্যোগ হলে এটিই প্রথম। বিতর্ক ব্যক্তির মানস গঠনে, বুদ্ধিবৃত্তিক কায়া গঠনে তথা প্রগতিশীল, যুক্তিবাদী সমাজ ও প্রকৃত মানুষ গড়ে তুলতে যে সফল প্রয়াস চালায় তার যথাযথ অনুশীলন এ সংগঠনটি করছে।’