চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতকে ৩.৬৯ পেয়ে প্রথম হয়েছে নাসিমুল আহসান। স্নাতকে এটি এখন পর্যন্ত বিভাগের সর্বোচ্চ জিপিএ। মেধাবী এ ছেলেটার জীবনটা নানা উত্থান-পতনে ভরা। এসএসসিতে খুব ভালো না করতে পারায় মন খারাপ ছিল তার।
কারণ মাদারীপুর উপজেলার শিবচরে মাধ্যমিকে পড়াশোনা করার সময় স্কুলে যে কখনো প্রথম ছাড়া দ্বিতীয় হননি তিনি। প্রত্যাশা তাই ছিল একটু ওপরে। জীবনের প্রথম এবং সবচেয়ে বড় পরীক্ষায় তাই ফলাফল আশানুরূপ না হওয়ায় কলেজে ভর্তি হলেও মন ছিল না পড়ার টেবিলে। তাই খেলাধুলা ও আড্ডা দিয়েই সময় পার করতে থাকে আহসান। ক্রিকেট সবচেয়ে পছন্দের খেলা হলেও ফুটবলসহ অন্যান্য খেলাতেও পারদর্শী এই ছেলেটি।
তবে আহসানের বাবা আবদুল কাদের হাওলাদার ও মা নাছিমা আকতার হাল ছাড়েননি। ছেলেকে সবসময় বোঝাতেন তারা। এইচএসসিতে ভালো ফল করে আহসান। পরে ভর্তি হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। তবে নতুন পরিবেশে এসে সবার সঙ্গে মিশে যায় ছেলেটা। হতাশা কাটিয়ে পড়াশোনা শুরু করে দেয়। তখনো ভাবেনি, সে হবে সেরাদের সেরা। প্রথম বর্ষে পেয়ে গেল জিপিএ ৩.৭৮। যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে এক বর্ষে সর্বোচ্চ জিপিএ এর রেকর্ড এটি।
ভবিষত্ পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে আহসান বলেন, ‘গণমাধ্যম গবেষক হতে চাই। ইচ্ছে আছে উচ্চ শিক্ষার্থে বিদেশ গমনের।’
ভালো ফল কীভাবে সম্ভব—এমন প্রশ্নের জবাবে আহসান বলেন, ‘শিক্ষকদের লেকচার অনুসরণ করা আর নিজে নোট করার অভ্যাস গড়ে তোলা। ভালো রেজাল্ট করতে সারাদিন পড়ার দরকার হয় না। নিয়মিত এক-দুই ঘণ্টা বইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেই যথেষ্ট। তবে অবশ্যই বুঝে পড়া দরকার।’
বর্তমানে বিভিন্ন ছোট কাগজ ও জাতীয় দৈনিকে লেখালেখি করে সময় কাটে নাসিমুল আহসানের।
