নারী নির্যাতন রোধে আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগের তাগিদ

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:১৭
‘নারী নির্যাতন-ধর্ষণ, গণধর্ষণ, করণীয় ও প্রতিরোধের উপায়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেছেন, আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে উদ্যোগ নিয়ে নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তারা বলেছেন, পাশাপাশি নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে স্বরাষ্ট্র, মহিলা ও শিশু বিষয়ক, শিক্ষা, শিল্প ও আইন মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে জরুরি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করাতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে নারীর উপর সহিংস ঘটনায় উদ্বোগ প্রকাশ করে মঙ্গলবার ‘ব্র্যাক’ আয়োজিত মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক ড. মাহবুব হাসানের সভাপতিত্বে ৫০টি সংগঠন ও ৬০জন বিশিষ্ট নাগরিক, শিক্ষাবিদ, গবেষক, মানবাধিকার ও গণমাধ্যমকর্মী বক্তব্য রাখেন। নারী নির্যাতন প্রতিরোধ প্রকল্পের পরিচালক ড. আবুল হোসেন বলেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি হেল্প লাইন নম্বর আছে এই নম্বরে ফোন করে সহযোগিতা চাইলে আমরা ৭ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে সহযোগিতা দিতে পারি। তিনি হেল্প লাইন নম্বরটা আবারও সকলের সহযোগিতার জন্য জানান-১০৯২১। অধ্যাপক রওশন আরা বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, শতকরা ৯০ ভাগ নারী কোন না কোন সময়ে যৌন হয়রানির শিকার হন। সেটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র এবং শিক্ষকদের দ্বারা। তিনি বলেন, শিক্ষক ও ছাত্ররা যখন ইউনিভার্সিটিতে আসেন তখন তাদের নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সচেতনমূলক ওরিয়েনটেশন ক্লাস হওয়া দরকার। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের চেয়ারপারসন ড. হামিদা হোসেন বলেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে কমিটি গঠন করে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। এই সামাজিক বিপর্যয় ঠেকাতে আমাদের একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন। মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, ধর্ষণ ও গণধর্ষণের মতো জঘন্য ঘটনা ঘটিয়েও আসামিরা পার পেয়ে যাচ্ছে। মূলত সুষ্ঠু বিচার না পাওয়ার কারণে ধর্ষকরা বেশি উত্সাহিত হচ্ছে। গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা একটি সামাজিক দুর্যোগে পরিণত হয়েছে। এই দুর্যোগ আমরা কিভাবে মোকাবিলা করবো সেটাই বড় বিষয়। তিনি বলেন, অপরাধীর শাস্তি পাওয়ার খবর মিডিয়াতে ফলাও করে প্রচার করতে হবে। একই সঙ্গে নারী নির্যাতনের বিষয়ে পুলিশকেও সোচ্চার হতে হবে। সাংবাদিক সানাউল্লাহ লাভলু বলেন, যেখানেই নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটবে সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা এখনো বদলায়নি। যার কারণে হয়তো ধর্ষণের শিকার নারীর কথা ‘ধর্ষিতা’ বলে কোন কোন গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়। যার কারণে গণমাধ্যমের নীতি-নির্ধারণী পর্যায় থেকে শুরু করে সচেতনতা বাড়াতে তাদের সঙ্গে কাজ করা দরকার বলে মনে করেন তিনি। মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ডা. আবদুন নূর তুষার বলেন, এসব নির্যাতনের বিরুদ্ধে একটা গাইডলাইন তৈরি করা প্রয়োজন। আর ধর্ষণের ক্ষেত্রে ডাক্তারের সার্টিফিকেটের একটা ফর্ম থাকাও প্রয়োজন বলে জানান তিনি। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের অ্যাডভোকেট নাজরানা ইয়াসমিন হীরা বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতিত প্রতিবন্ধী নারীদের নিয়ে কাজ করছি, কিন্তু তাদের কোন ধরনের সহযোগিতা করতে পারছি না। ইউএনডিপি’র ফৌজিয়া খন্দকার বলেন, অর্থনৈতিকভাবে নারীরা প্রান্তিক অবস্থানে থাকার কারণে তারা নির্যাতনের শিকার হন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমরা এখনো যথাযথ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারিনি। কারণ এখনো নারী নির্যাতনের ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল কিংবা শামসুন্নাহার হলের মেয়েদের একযোগে রাস্তায় নামতে দেখি না। ইয়ুথ ফোরামের জুবায়ের আহমেদ নারী নির্যাতন প্রতিরোধের প্রতিটি পদক্ষেপে বেশি করে তরুণদের অন্তর্ভুক্ত করার আহবান জানান। বক্তারা দ্রুততম সময়ে ভুক্তভোগীদের সব রকম সহায়তা দেয়া এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান। মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, অধ্যাপক হান্নানা বেগম, দি হাঙ্গার প্রজেক্টের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. বদিউল আলম মজুমদার, মুক্তিযোদ্ধা শিরীন বানু মিথিল, নারী প্রগতি সংঘের পরিচালক ওমর তারেক চৌধুরী, আইসিডিডিআরবি’র গবেষক ড. রুচিরা তাবাসসুম, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ শাহীন ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ঈষাণী চক্রবর্তী, জোবায়দা নাসরীন, মানবাধিকারকর্মী ইলিরা দেওয়ান, নারী পক্ষের রীতা দাস, ব্লাষ্ট্রের রুবিনা নাজ, নিজেরা করি’র রুমি সুলতানা, অক্সফামের হাসিনা জামান, একশন এইডের কাকলী দাস, মহিলা আইনজীবী সমিতির মাহবুবা বেগম জাগো ফাউন্ডেশনের করভি রাফসান প্রমুখ। সভায় দুইজন স্কুল ছাত্রী চন্দনা রানী বর্মণ ও সীমা খান বক্তব্য রাখেন।