প্রতি অর্থবছরের শুরুতে কার্যক্রম বাস্তবায়নে মনযোগ না থাকলেও শেষ দিকে এসে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী খাতে বরাদ্দকৃত বাজেটের অর্থ খরচ করার প্রবণতা বেড়ে যায়। ফলে এই খাতের প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হয় এবং হুড়োহুড়ি করে ব্যয়ের কারণে বাস্তবায়নের মান বজায় রাখা সম্ভব হয় না। সারা বছর নির্দিষ্টহারে এই খাতের ব্যয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে এই খাতের জন্য বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। তিনি বলেন, সময় বেঁধে দিয়ে তা বাস্তবায়নে যথাযথ তদারকি করতে পারলে বছরব্যাপী এই খাতের বরাদ্দকৃত অর্থ নির্দিষ্টহারে ব্যয় করা সম্ভব।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বেসরকারি সংস্থা সমুন্নয় আয়োজিত বাজেট বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচী : ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেট ভাবনা শীর্ষক এ বাজেট শুনানিতে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব রঞ্জিত কুমার বিশ্বাস। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচী বাস্তবায়নের সাথে জড়িত বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা এতে তাদের মতামত তুলে ধরেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সমুন্নয়-এর সমন্বয়কারী দিলরুবা ইয়াসমিন চৌধুরী।
ইব্রাহিম খালেদ বলেন, চলতি অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় ৯৬টি কার্যক্রম নেয়া হয়েছে। এই কার্যক্রমকে যৌক্তিকীকরণ করা প্রয়োজন। রঞ্জিত কুমার বিশ্বাস বলেন, নির্দিষ্ট অঞ্চলের উপকারভোগীর জন্য কোটা প্রথা রাখার বিষয়টি সরকারের নীতিগত বিষয়। সমাজের দলিত, হরিজন, বেদে ও হিজড়া সম্প্রদায়ের জন্য সরকার চলতি বছরের বাজেটে বরাদ্দ রেখেছে। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সমুন্নয়-এর সিনিয়র রিসার্স ফেলো ড. মাহফুজ কবির, উন্নয়ন সমন্বয়-এর জাহিদুর রহমান, বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার আবুল বাশার প্রমুখ।
