মিউজিক

শীর্ষ সাফল্যের ধারাবাহিকতায় লিংকিন পার্ক

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০১৩, ১৮:৫২
তিন হাইস্কুল পড়ুয়া ছাত্র মাইক শিনোডা, ব্র্যাড ডেলসন এবং রব বুর্ডন। সংগীতের প্রতি ছিল তাদের অগাধ ভালোবাসা। সেই ভালোবাসার ফসলই হলো ‘জেরো’ নামের ব্যান্ডটি, যা আজকের ‘লিংকিন পার্ক’ নামে পরিচিত। ব্যান্ডটির আদ্যোপান্ত জানাচ্ছেন প্রাঞ্জল সেলিম লিংকিন পার্ক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেস শহরে অবস্থিত রক ব্যান্ড। তাদের প্রথম অ্যালবাম ‘হাইব্রিড থিওরি’র জন্য তারা নুমেটাল ধারার ব্যান্ডের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সর্বাধিক ব্যবসাসফল ব্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছেন। ‘হাইব্রিড থিওরি’ সারা পৃথিবীতে প্রায় ১৯ মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে তারা ওয়ার্নার ব্রাদার্স রেকর্ডিং কোম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ। ‘হাইব্রিড থিওরি’ অ্যালবামটিকে আমেরিকান রেকর্ডিং ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন ডায়মন্ড হিসেবে প্রত্যয়ন দেয়। এর পরবর্তী অ্যালবাম ‘মিটিওরা’ ব্যান্ডটির সাফল্য অক্ষুণ্ন রাখে এবং এটি বিলবোর্ড ২০০ চার্টে শীর্ষস্থান দখল করে। এ ছাড়া এই অ্যালবামের প্রচারে লিংকিন পার্ক ব্যাপক দাতব্য কার্যক্রম ও বিভিন্ন দেশে ট্যুরিং করেছিল। ২০০৩ সালে এমটিভি লিংকিন পার্ককে মিউজিক ভিডিও যুগের ষষ্ঠ সেরা ব্যান্ডের স্বীকৃতি দেয়। পাশাপাশি নতুন শতাব্দীর তৃতীয় সেরা ব্যান্ড হিসেবে আখ্যায়িত করে। হাইব্রিড থিওরি (২০০০-২০০২) ২০০০ সালের ৪ অক্টোবরে লিংকিন পার্ক তাদের প্রথম অ্যালবাম ‘হাইব্রিড থিওরি’ প্রকাশ করে। অ্যালবামটি লিংকিন পার্কের দশ বছরের সাধনার ফল। লিংকিন পার্কের জন্য ‘হাইব্রিড থিওরি’ ছিল একটি ব্যাপক সাফল্য। প্রকাশের প্রথম বছরেই এটির ৪.৮ মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়, যা অ্যালবামটিকে ২০০১ সালের সবচেয়ে সফল অ্যালবামের স্বীকৃতি দেয়। এই অ্যালবামের ক্রলিং এবং ওয়ান স্টেপ ক্লোজার লিংকিন পার্ককে ওই বছরের রেডিও প্লে-লিস্টের অন্যতম সফল অল্টারনেটিভ রক ব্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। এ ছাড়া অ্যালবামটির অন্যান্য গান বিভিন্ন সিনেমা যেমন—‘ড্রাকুলা ২০০০’, ‘লিটেল নিকি’, ‘ভ্যালেন্টাইন’-এ প্রদর্শিত হয়। ‘হাইব্রিড থিওরি’ গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডের সেরা হার্ড রকের পুরস্কার জিতে এবং অন্য দুই পুরস্কার, গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড সেরা নতুন শিল্পী ও সেরা রক অ্যালবামের মনোয়ন পায়। এত কম সময়ের মধ্যে লম্বা অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা নিয়ে লিংকিন পার্ক তাদের প্রথম ডিভিডি, ‘ফ্র্যাট পার্টি অ্যাট দ্য প্যাঙ্কেল ফেস্টিভ্যাল’ তৈরি করে, এটি ২০০১ সালের নভেম্বরে প্রকাশ পায়। এরমধ্যে সাবেক বেস গিটারিস্ট ফিনিক্স আবার ব্যান্ডে যোগ দেয় এবং লিংকিন পার্ক ‘রি-অ্যানিমেশন’ নামে একটি রিমিক্স অ্যালবাম প্রকাশ করে। ২০০২ সালে জুলাইয়ের ৩০ তারিখে এই অ্যালবামটি প্রকাশিত হয়। মুক্তির সাথে সাথেই ‘রি-অ্যানিমেশন’ বিলবোর্ডে দ্বিতীয় স্থান দখল করে এবং প্রথম সপ্তাহেই প্রায় ২৭০,০০০ সংখ্যক কপি বিক্রি হয়। মিটিওরা (২০০২-২০০৪) ‘হাইব্রিড থিওরি’ এবং ‘রি-অ্যানিমেশন’-এর ব্যাপক সাফল্যের পর লিংকিন পার্ক অনেকটা সময় ব্যয় করে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে সফর করে। এ সময় তারা নতুন কিছু গানের সরঞ্জাম নিয়ে গান করে। সফরের সময় বাসে অবসর সময়েও তারা গান করত। লিংকিন পার্ক ঘোষণা দেয় যে ২০০২ সালের ডিসেম্বরে তাদের নতুন অ্যালবাম প্রকাশ করতে যাচ্ছে, যার নাম গ্রিসের পাহাড়ি অঞ্চল মিটিওরার নামে রাখা হবে। এই অ্যালবামে তারা নিউ মেটাল রক ধারার গানের বাইরেও অন্যান্য ধারার গান অন্তর্ভুক্ত করে। এখানে জাপানের এক বিশেষ বাঁশির কাজও রয়েছে। লিংকিন পার্কের এই অ্যালবামটি প্রকাশিত হয় ২০০৩ সালের ২৫ মার্চ এবং প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করে। এটি যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার চার্টে শীর্ষস্থান দখল করে। অ্যালবামের ‘সামহোয়্যার আই বিলং’, ‘ব্রেকিং দ্য হ্যাবিট’, ‘ফেইন্ট’ এবং ‘নাম্ব’ গানগুলো রেডিওতে ব্যাপক সাফল্য পায়। অ্যালবামের এই সাফল্য লিংকিন পার্ককে আরেকটি প্রজেক্ট রিভ্যুলুশন করতে উদ্বুদ্ধ করে যেখানে অন্যান্য সংগীত শিল্পীরাও গান করে। ব্যান্ডের লাইনআপ চেস্টার বেনিংটন :ভোকাল মাইক শিনোডা :ভোকাল, রিদম গিটার, কি-বোর্ড, এমসি, বিটস ব্র্যাড ডেলসন :গিটার ফিনিক্স :বেজ গিটার জোসেফ হান :টার্নটেবল, বিটস, ডিজে রব বুর্ডন :ড্রাম।