হলিউড

আর্গো

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০১৩, ১৮:৫৩
হলিউডের দুটি প্রধান পুরস্কারের ধরনটা বেশ অন্যরকম। একদিকে অ্যাকাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্স, অর্থাত্, হলিউড চলচ্চিত্র জগত, যারা অস্কার পুরস্কার প্রদান করে। অন্যদিকে হলিউডে বিদেশি সংবাদ মাধ্যমের সংগঠন আয়োজিত ‘গোল্ডেন গ্লোব’ পুরস্কার। সম্প্রতি বেন অ্যাফ্লেকের ‘আর্গো’ নামের সিনেমাটি গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার পেয়েছে। বেন অ্যাফ্লেকের স্বপ্নের ‘আর্গো’ নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম ‘আর্গো’ ছবিটি দুটি গোল্ডেন গ্লোব জেতে, পাশাপাশি আবার চারটি অস্কারেরও মনোনয়ন পেয়েছে। ১৯৭৯ সালের পণবন্দি সংকটের সময় ছ’জন মার্কিন কূটনীতিককে উদ্ধার করে সিআইএ’র এজেন্টরা। সেই কাহিনীর চিত্ররূপ এবার গোল্ডেন গ্লোব মাতিয়েছে। ছবিতে সত্যের ঠিক অপলাপ নয়, সত্যকে মনোরঞ্জনের খাতিরে কিছুটা কেটেছেঁটে, সাজিয়ে-গুছিয়ে নেওয়া হয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। যেমন ছবির চরম মুহূর্তে, অর্থাত্ ক্লাইম্যাক্সে, ইরানি গার্ডরা কূটনীতিকদের বিমানটির পাশ দিয়ে গাড়িতে করে দৌড়াচ্ছে, বিমানটার আকাশে ওড়া আটকাবার জন্য—বাস্তবে যা কোনোদিন ঘটেনি। সিনেমাটিতে সিআইএ এজেন্ট টোনি মেন্ডেজ, যার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন বেন অ্যাফ্লেক স্বয়ং। সিআইএ’র অতি গোপন ফন্দি এবং সেই সঙ্গে ছবির কাহিনি হলো, আটক কূটনীতিকরা ভান করছেন, তারা হলিউডের একটি ফিল্ম ক্রু-র অঙ্গ, একটি সায়েন্স ফিকশন ছবি তোলার জন্য তেহরানে এসেছেন। চিত্রনাট্যের কল্যাণে পরে কূটনীতিকদের দুটি দলে ভাগ করা হয়নি, সকলকে রাষ্ট্রদূত টেইলরের বাড়িতেই রাখা হয়েছে। পরে কূটনীতিকদের বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়ার পথে বাজারে ক্ষিপ্ত জনতার দৃশ্য, বিমানবন্দরে গাড়ির দৌড় ইত্যাদি, এ সবই উত্তেজনা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে। এমন রোমাঞ্চকর সব ঘটনার মধ্য দিয়েই এগিয়ে চলে সিনেমার গল্প। বেন অ্যাফ্লেকের মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল অস্কারের মনোনায়নের তালিকার ঘোষণা শুনে। তাতে সাত সাতটি বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছে আর্গো। খবরটা খুশির কিন্তু তার পরেও তার মন খারাপ। কারণ, সেরা ছবি, সেরা পার্শ্বঅভিনেতা, চিত্রনাট্য (উপন্যাস অবলম্বনে), সংগীত, শব্দ সম্পাদনা, শব্দ মিশ্রণ এবং চলচ্চিত্র সম্পাদনা বিভাগে মনোনয়ন পাওয়াটা প্রযোজক অ্যাফ্লেকের জন্য খুশির খবর হলেও পরিচালক অ্যাফ্লেক ঠাঁই পাননি সেরা পরিচালকের পাঁচজনের তালিকায়! অনেকের মতে সেরা পরিচালকের পুরস্কারটা ঠিক হয়েই আছে। লিঙ্কনের জন্য আরও একটি অস্কার বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন স্টিভেন স্পিলবার্গ। অবশ্য বাদ সাধতে পারেন মনোনীত বাকি চারজন—অ্যাং লি (লাইফ অব পাই), ডেভিড ও. রাসেল (সিলভার লাইনিংস প্লেবুক), মাইকেল হ্যানেকে (আমর) এবং বেন জিটলিনের (বিস্টস অব সাউদার্ন ওয়াইল্ড)। তবে এই তালিকায় অ্যাফ্লেকের ঠাঁই পাওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন অনেকেই। এ নিয়ে একটা বিতর্ক বেশ জমে উঠেছে। বিশেষ করে অ্যাফ্লেক যখন ‘আর্গো’র জন্য সেরা পরিচালকের পুরস্কার গত সপ্তাহে জিতে নিলেন গোল্ডেন গ্লোব। গোল্ডেন গ্লোব এবার চমক উপহার দিয়েছে আরেক জায়গায়। সর্বোচ্চ সাতটি বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছিল লিঙ্কন। কিন্তু পুরস্কার জিতেছে মোটে একটি। আব্রাহাম লিঙ্কনের ভূমিকায় অভিনয় করে ড্রামা বিভাগের সেরা অভিনেতার পুরস্কার জিতেছেন ড্যানিয়েল ডে-লুইস। অ্যাফ্লেক নিজেও খানিকটা চমকে গেছেন গোল্ডেন গ্লোব জিতে। মাত্রই এর তিন দিন আগে অস্কারের মনোনয়ন তালিকা দেখে আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে প্রথমবারের মতো গোল্ডেন গ্লোবে সেরা পরিচালকের পুরস্কার জেতার রোমাঞ্চে অ্যাফ্লেক ভুলেই গিয়েছিলেন কাকে কাকে ধন্যবাদ জানানো উচিত। ভুলে গিয়েছিলেন দুই প্রযোজক জর্জ ক্লুনি ও গ্রান্ট হেসলভের নাম। স্পিলবার্গ আর অ্যাংলির মতো পরিচালককে হারিয়ে এই পুরস্কার জেতার আনন্দ যে অন্য রকম, সেটা অবশ্য বলতে ভোলেননি, ‘পুরস্কার যেটাই হোক না কেন, যখন আপনার নাম এই নামগুলোর (মনোনীত অন্যান্য পরিচালক) পাশে বসবে, সেটাই হবে আপনার জীবনের অবিশ্বাস্য একটা ব্যাপার।’