কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে যা যা ঘটলো, তাতে রিয়াল মাদ্রিদের জন্য ড্র করাটাও কঠিন একটা ব্যাপার হয়ে পড়েছিল। ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে কোপা দেল রের ফিরতি লেগের কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্যাবিও কোয়েনট্রাও ও এ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া লালকার্ড দেখলেন এবং ইনজুরিতে পড়ে মাঠ ছাড়তে হল ইকার ক্যাসিয়াসকে। তারপরও ১-১ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়লো রিয়াল। তাতেও রিয়াল খুব অখুশি হয়নি। কারণ প্রথম লেগে ২-০ গোলে এগিয়ে থাকায় দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১ জয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে হোসে মরিনহোর দল।
ম্যাচের ১৭ মিনিটেই ইনজুরিতে পড়ে মাঠ ছাড়তে হয় রিয়ালের অধিনায়ক ক্যাসিয়াসকে। আলভারো আরবেলোয়া বল ক্লিয়ার করতে গেলে দুর্ঘটনাবশত ক্যাসিয়াসের হাতে লাগলে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তারকা এই গোলরক্ষক। তখনই তার পরিবর্তে মাঠে নেমেছিলেন আদান।
এরপরও রিয়াল ভ্যালেন্সিয়ার ওপর চাপ ধরে রেখেছিল। প্রধমার্ধ শেষ হবার আগের মিনিটে ফ্রেঞ্চম্যান করিম বেনজেমা গোল করে রিয়ালকে এগিয়ে দেন। দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হওয়ার পর ৫২ মিনিটে মিডফিল্ডার টিনো কোস্টার নিচু ফ্রি-কিক রিয়ালের রিজার্ভ গোলরক্ষক এ্যান্টোনিও আদানকে হতবাক করে জালে জড়ালে ভ্যালেন্সিয়া ম্যাচে সমতা আনে।
কিন্তু ৫১ মিনিটে কোয়েন্ট্রাও হ্যান্ডবলের কারণে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পেলে রিয়াল প্রথমে ১০ জনের দলে পরিণত হয়। আর ম্যাচ শেষের দুই মিনিট আগে ভ্যালেন্সিয়া ডিফেন্ডার জোয়াও পেরেইরাকে বাজেভাবে আঘাত করায় ডি মারিয়া লালকার্ড পেলে ৯ জনের দল নিয়েই বাকি সময়টা মাঠে ছিল মেস্তালায় সফরকারী রিয়াল।
শেষ চারে রিয়ালের প্রতিপক্ষ বার্সেলোনা এবং মালাগার মধ্যে জয়ী দল। কোয়ার্টার ফাইনালে অপরদিকের ম্যাচগুলোতে আলভারো নেগরেডোর জোড়া গোলে সেভিয়া দ্বিতীয় লেগে নয়জনের রিয়াল জারাগোজাকে ৪-০ গোলে পরাজিত করে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে। প্রথম লেগের ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র ছিল। স্প্যানিশ স্ট্রাইকার নেগরেডো হেড এবং পেনাল্টি থেকে ৩৬ ও ৬৭ মিনিটে গোল দুটি করেন। প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে সেভিয়ার ক্রোয়েশিয়ান রিক্রুট ইখান রাকিটিস দ্বিতীয় এবং ম্যাচ শেষে ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে স্প্যানিশ স্ট্রাইকার মানু ডেল মোরাল চতুর্থ গোল করলে বড় জয় পায় সেভিয়া। ২৬ মিনিটে জারাগোজার ডিফেন্ডার হোসে ফার্নান্দেজ সরাসরি লালকার্ড এবং ৬৬ মিনিটে মিডফিল্ডার ফ্রান গঞ্জালেস দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পেলে সফরকারীরা নয়জনের দলে পরিণত হয়।
