ফাইনালে মুখোমুখি

আজারেঙ্কা ও লি না

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:১৭
২০১১ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে উঠেও শেষ হাসি হাসতে পারেননি। ওই বছরই ফ্রেঞ্চ ওপেন জিতে প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের স্বাদ পেয়েছিলেন। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে আর তেমন কিছু করতেও পারেননি। এবার সেই চীনের লি নার সামনে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনেই দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের সুযোগ এসে গেছে। গতকাল রুশ তারকা মারিয়া শারাপোভাকে হতচকিত করে দিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের মহিলা এককের ফাইনালে উঠেছেন চাইনিজ লি না। শনিবারের ফাইনালে তার প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বেলারুশ তারকা ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কা। মেলবোর্নের রড লেভার এরিনাতে প্রথম সেমিফাইনালে এশিয়ার প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী লি ৬-২, ৬-২ গেমে সরাসরি সেটে উড়িয়ে দেন চারবারের মেজর চ্যাম্পিয়ন শারাপোভাকে। ২০১১ সালে ফ্রেঞ্চ ওপেন জয়ের মাধ্যমে প্রথম কোন এশিয়ান খেলোয়াড় হিসাবে লি শুধুমাত্র শিরোপাই জিতেছিলেন। আর এখন বিশ্বের ছয় নম্বর এই তারকার সামনে আরেকটি ইতিহাস গড়ার হাতছানি। আজকের এই ম্যাচটি ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে উচ্ছ্বসিত লি ম্যাচ শেষে বলেছেন, ‘২০ বছরের খেলোয়াড়ী জীবন কাটানোর পরে এই ধরনের ঘটনা আমার জীবনে প্রথম ঘটলো। ম্যাচের শুরুতে আমি বেশ নার্ভাস ছিলাম। তবে আমি আরেকবার সেমিফাইনালে উঠতে পেরে খুশি। আজকের ম্যাচে আমি জেতার জন্যই মাঠে নেমেছিলাম। ম্যাচের আগে জানতাম না আজ কি হবে। আমি অন্য ম্যাচগুলোর মতোই কোর্টে এসেছিলাম এবং মনে করেছি আমাকে কিছু একটা করতে হবে।’ লি যখন শারাপোভার বিপক্ষে দারুণ এক জয় দিয়ে ফাইনালে উঠে গেছেন তখন অপর সেমিফাইনালের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আজারেঙ্কা এবং কোয়ার্টার ফাইনালে সেরেনা উইলিয়ামসকে পরাজিত করে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করা ১৯ বছর বয়সী মার্কিন তরুণী স্লোয়ানে স্টিফেন্স। কিন্তু এই ম্যাচে বিশ্বের এক নম্বর তারকা আজারেঙ্কা বেশ নাটকীয়তার জন্ম দেয়ায় তা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্রথম সেটে ৬-১ গেমে জেতার পরে দ্বিতীয় সেটে যখন পাঁচটি ম্যাচ পয়েন্ট নিয়ে সেট জয়ের অপেক্ষা করছিলেন আজারেঙ্কা তখনই ব্রেক পয়েন্ট অর্জন করে ম্যাচে ফিরে আসেন স্টিফেন্স। কিন্তু ঐ সময় আজারেঙ্কা চিকিত্সার কারণে ১০ মিনিট মেডিক্যাল টাইম আউট নেন। যখন তিনি কোর্টে ফিরে আসেন তখন স্টিফেন্স ম্যাচে টিকে থাকার জন্য সার্ভিস করতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিন্তু গেমটি ব্রেক করে বেলারুস তারকা ৬-৪ সেট জিতে ফাইনাল নিশ্চিত করেন। স্টিফেন্স অবশ্য ম্যাচ শেষে হতাশাই প্রকাশ করেছেন, ‘ম্যাচটিতে আমি পরাজিত হইনি, কিন্তু যে সময়টা ম্যাচ বন্ধ ছিল ঐ সময়টাতেই আমি মূলত পিছিয়ে পড়ি। একারণেই আমি বেশি হতাশ’। স্টিফেন্সের মতোই হতাশ হওয়ার কথা শারাপোভার। সেমিফাইনালের আগ পর্যন্ত এবারের টুর্নামেন্টে মাত্র ৯টি গেম হেরে রেকর্ড গড়ে দুরন্ত ফর্মে ছিলেন। কিন্তু ক্যারিয়ারে এর আগে আটবারের মুখোমুখিতে মাত্র চারবার জয়ী হওয়া লি না আজকের ম্যাচে একটু বেশিই আগ্রাসী ছিলেন। লি নার কাছে হেরে না গেলে শারাপোভার সামনে সুযোগ ছিল কিছু রেকর্ডের খাতায় নাম তোলার। চারবারের মেজর টুর্নামেন্ট জয়ী শারাপোভার সামনে দ্বিতীয়বার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনজয়সহ বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানে ফিরে আসার সুযোগ ছিল। কিন্তু লি এসব কোনকিছুই হতে দেননি। নতুন কোচ কার্লোস রডরিগুয়েজের অধীনে মৌসুমের বিরতিতে নিজের ফিটনেস অনুশীলনের দারুণ এক ফল পেয়েছেন চাইনিজ এই শীর্ষ তারকা। ম্যাচ শেষে শারাপোভা নিজেও স্বীকার করেছেন আজকের ম্যাচে তার থেকে লি অনেক বেশি আগ্রাসী ও আত্মবিশ্বাসী ছিল। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও লি’র হাতেই ছিল। তার তুলনায় আমাকে সব সময়ই রক্ষণাত্মক কৌশল অবলম্বন করতে হয়েছে।