কাল থেকে চট্টগ্রামে বিপিএলের খেলা শুরু

সবাইকে তাক লাগিয়ে শীর্ষে সিলেট

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৪৮
সিলেট রয়েলস ঢাকা ও খুলনা ভেন্যুতে খেলার পর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ওঠার সুবাদে আগামীকাল সোমবার বাড়তি আত্মবিশ্বাস নিয়ে চট্টগ্রামে খেলতে নামবে। দুর্দান্তভাবে শুরু করা ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস দ্বিতীয় পর্বের শেষ খেলায় গত শুক্রবার সিলেটের কাছে সাত উইকেটে হেরে টানা তিন জয়ের পর এবারের বিপিএলে প্রথমবারের মতো হারের তেঁতো স্বাদ নেয়। অন্যদিকে টানা তিন ম্যাচ হারার পর নিজেদের মাঠে চমত্কারভাবে ঘুরে দাঁড়ায় খুলনা। কিন্তু অবস্থান বদলাতে পারেনি বিপিএলের বাকি তিন দল চিটাগাং কিংস, বরিশাল বার্নার্স ও দুরন্ত রাজশাহী। এই তিন দল একটি করে ম্যাচ জেতায় পেয়েছে দুই পয়েন্ট করে। মাঝে দুইদিন বিরতির পর চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে আগামীকাল সোমবার থেকে বিপিএলের তৃতীয় পর্ব শুরু হবে। স্বাগতিক চিটাগাং কিংস শীর্ষ দল সিলেটের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলবে। দিনের অন্য ম্যাচে মুখোমুখি হবে বরিশাল ও রাজশাহী। টিকিটের উচ্চ মূল্যের কারণে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল ও ইভেন্ট ম্যানেজম্যান্ট প্রতিষ্ঠান ‘গেম অন স্পোর্টস’ মাঠে দর্শক আনতে পারেনি। এমনকি টিকিটের দাম কমানোর পরও খুলনা ভেন্যুতে দর্শক উপস্থিতি ছিল সামান্যই। মাঠে দর্শক না এলেও এবারের বিপিএলে একের পর এক চমক দেখাচ্ছে সিলেট রয়েলস, যারা গত আসরে অষ্টম ম্যাচে গিয়ে জয়ের দেখা পেয়েছিল। এবার তারা টানা চার জয়ে আট পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে। সিলেটকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জাতীয় দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। তার সতীর্থদের মধ্যে জিম্বাবুয়ের হ্যামিল্টন মাসাকাজ্জা, এল্টন চিগুম্বুরা, আয়ারল্যান্ডের পল স্টারলিং, আফগানিস্তানের মোহাম্মদ নবি ও অস্ট্রেলিয়ার ডার্ক ন্যানেস হলেন সিলেটের তুরুপের তাস। গতবারের চ্যাম্পিয়ন ঢাকার প্রধান অস্ত্র সাকিব আল হাসান, মোহাম্মদ আশরাফুল, মাশরাফি বিন মুর্তজা, ইংল্যান্ডের লুক রাইট, জোসুয়া কোব, ড্যারেন স্টিভেন ও দক্ষিণ আফ্রিকান আলফোনসো থমাসদের উড়িয়ে দিয়েছেন এরাই। অবশ্য এখনো প্রতিটি দলের আটটি করে ম্যাচ বাকি। সঙ্গত কারণেই সামনের খেলাগুলোয় বর্তমান হিসাব-নিকাশ পাল্টে যেতে পারে। গত আসরের তুলনায় এবারের চিত্রটি ভিন্ন। বিপিএলের প্রথম আসরে শুরু থেকে বিদেশিদের দাপটে নিষ্প্রভ ছিলেন স্থানীয় ক্রিকেটাররা। এবারের আসরে আবার স্থানীয়দের দাপটে বিদেশিদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বিপিএলের ১৪টি খেলা শেষে এক সেঞ্চুরিসহ খুলনার শাহরিয়ার নাফীস পাঁচ ম্যাচে করেছেন ২০৯ রান। তবে রান তোলায় শীর্ষস্থানটি দখলে রেখেছেন রংপুর রাইডার্সের নাসির হোসেন। দু’টি ফিফটিসহ তার রান ২১২। ফিল্ডিংয়েও বিদেশিদের তুলনায় এগিয়ে আছেন স্থানীয়রা। সিলেটের অধিনায়ক মুশফিক পাঁচটি ক্যাচ, দুটি স্ট্যাম্পিং ও একটি রানআউট করে সংখ্যাটি নিয়ে গেছেন আট-এ। এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ পার্টনারশীপেও বাংলাদেশীদের অবদান সবচেয়ে বেশি। লু ভিনসেন্ট ও নাফীসের ১৯৭ রানের পার্টনারশীপে নাফীসের অবদান ১০২ রান। নাসির ও নেইল ও ব্রেইনের ১১৮ রানের পার্টনারশীপে নাসিরের অবদান ৮০। কেবল উইকেট শিকারে বাইরের ক্রিকেটাররা এগিয়ে। তিন বিদেশি আফগানিস্তানের নবী ও শাপুর জাদরান এবং জিম্বাবুয়ের চিগুম্বুরার ভাণ্ডারে আছে ছয়টি করে উইকেট। স্থানীয়দের মধ্যে আবদুর রাজ্জাকও ছয়টি উইকেট দখল করেছেন। জন্মদিনে দলকে জয় উপহার দিলেন নাফীস এনামুল হক, খুলনা অফিস \ নিজের জন্মদিনে নিজের দল খুলনাকে জয় উপহার দিলেন অধিনায়ক শাহরিয়ার নাফীস। গত শুক্রবার খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে নাফীসের দল খুলনা রংপুর রাইডার্সকে ৯ রানে হারায়। শুক্রবার দিনের অন্য ম্যাচে গতবারের চ্যাম্পিয়ন ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসকে ৭ উইকেটে পরাস্ত করে সিলেট রয়েলস। টানা চার ম্যাচ জিতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে চলে এসেছে সিলেট। আর ঢাকার এটি প্রথম পরাজয়। টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ২৮ রানে স্বাগতিক খুলনা হারিয়ে ফেলে ৪ উইকেট। দলের এই বিপর্যয়ের মুখ থেকে অধিনায়ক নাফীস দলকে টেনে তোলেন। তার হাফ সেঞ্চরি, ড্যানিয়েল হ্যারিসের ৪৮ ও ফরহাদ রেজার ২৪ রানে শেষ পর্যন্ত ১৫০ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে খুলনা। নাফীসের ব্যাট থেকে আসে ৫০ বলে ৫৩ রান। এর আগের দিন বরিশাল বার্নার্সের বিপক্ষে প্রথম সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন খুলনার এই অধিনায়ক। ১৫০ রান তাড়া করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত ৯ রানে হেরে গেছে রংপুর। খুলনার মত শুরুতে তারাও দ্রুত উইকেট খুইয়ে ফেলে। ১৫ রানে পড়ে যায় তিন টপ-ব্যাটসম্যান:ইমরুল কায়েস, টানা দুই ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরিয়ান শামসুর রহমান শুভ, ও’ব্রায়েনকে। আগের চার ম্যাচে রংপুরকে চ্যালেঞ্জিং স্কোর এনে দেয়া নাসির হোসেন শেষ পর্যন্ত দলের ত্রাতা হয়েছিলেন কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি বলে তার ৪৯ বলে করা ৭০ রানের ইনিংসটি বিফলে যায়। তার সাথে সঙ্গ দিয়েছিলেন দিমিত্রি মাসকারেনহাস (১৯)। ৪১ বলে ৪৮ ও বল হাতে এক উইকেট পাওয়ায় ম্যাচ সেরা হয়েছেন খুলনার ড্যানিয়েল হ্যারিস। সংক্ষিপ্ত স্কোর খুলনা রয়েল বেঙ্গলস:১৫০/৭ (শাহরিয়ার নাফীস ৫৩, ড্যানিয়েল হ্যারিস ৩৯*, ফরহাদ রেজা ২৪; দিমিত্রি ৩/২৩, শরীফ ৩/২২)। রংপুর রাইডার্স:১৪১/৭ (নাসির হোসেন ৭০*, দিমিত্রি ১৯, ড্যানজা হায়াত ১৭; জাদরান ৩/১৯)। টানা চতুর্থ জয়ে শীর্ষে সিলেট মুশফিকুর রহিমের অপরাজিত ৭৫ রানে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ঢাকা গ্লাডিয়েটর্সকে ৭ উইকেটে হারিয়ে টানা চতুর্থ জয় তুলে নিলো সিলেট রয়্যালস। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) গত শুক্রবার পাওয়া এই জয়ে আট পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠে আসে গত আসরে সবার নিচে থাকা দলটি। ঢাকার অবশ্য এটাই প্রথম হার। ৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে তারা। খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে টানা চতুর্থবারের মতো টস জিতে ব্যাট করতে নেমে আট উইকেটে ১৫২ রান করে ঢাকা। জবাবে ১৮.৪ ওভারে তিন উইকেটে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় সিলেট রয়্যাল। যদিও আলফানসো টমাসের মারাত্মক বোলিংয়ে ২৩ রানে দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের বিদায়ে সিলেটের শুরুটা ভালো হয়নি। তৃতীয় উইকেটে মমিনুল হকের সঙ্গে অধিনায়ক মুশফিক ৭৫ রানের জুটি গড়ে সিলেটকে জয়ের ভিত গড়ে দেন। ৩৫ বলে ৩৭ রান করেন মমিনুল। দলীয় ১০২ রানে মমিনুলের বিদায়ের পর বাকি কাজটুকু নাজমুল মিলনকে নিয়ে মুশফিক সহজেই সারেন। তিনি ৫০ বলে চার ছক্কা ও তিনটি চারের মারে অপরাজিত থাকেন ৭৫ রানে। মুশফিকই হন ম্যান অব দ্য ম্যাচ। সংক্ষিপ্ত স্কোর ঢাকা গ্লাডিয়েটর্স: ১৫২/৮ (আশরাফুল ৩৮, এনামুল হক ৩০, স্টিভেন ২৯; ন্যানেস ২/২৭, মোহাম্মদ নবী ২/৪০)। সিলেট রয়্যাল: ১৫৭/৩ (মুশফিকুর রহিম অপরাজিত ৭৫, মমিনুল ৩৭, মিলন ২৫; থমাস ২/২৭, সাকলাইন সজিব ১/২০)। দুই ভেন্যুর খেলা শেষে দলগুলোর অবস্থান দল ম্যাচ জয় পরা: পয়েন্ট সিলেট রয়েলস ৪ ৪ ০ ৮ ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস ৪ ৩ ১ ৬ খুলনা রয়েল বেঙ্গলস ৫ ২ ৩ ৪ রংপুর রাইডার্স ৪ ২ ২ ৪ চিটাগা কিংস ৩ ১ ২ ২ বরিশাল বার্নার্স ৪ ১ ৩ ২ দুরন্ত রাজশাহী ৪ ১ ৩ ২