পারিশ্রমিক না পাওয়ার কারণে বিদ্রোহ করেছেন মোহামেডান স্পোর্টিং লিমিটেডের খেলোয়াড়রা। কয়েক মাসের বেতন বন্ধ থাকায় গতকাল শনিবার নিয়মিত অনুশীলনে যেতে অস্বীকৃতি জানান ফুটবলাররা। চেয়ারম্যান ওবায়দুল করিম ও অ্যাডমিস্ট্রেশন ইনচার্জ লোকমান ভুঁইয়ার নেতৃত্বাধীন মোহামেডানের নতুন কমিটির অধীনে স্থানীয় খেলোয়াড়দের বিদ্রোহ এটাই প্রথম।
বিকেল তিনটায় মোহামেডান খেলোয়াড়দের অনুশীলনে যাওয়ার কথা থাকলেও তারা যাননি। ক্লাবেই শুয়ে-বসে সময় কাটান। খেলোয়াড়দের অসন্তোষের কারণ চুক্তি অনুযায়ী পারিশ্রমিক পাচ্ছেন না তারা। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক মোহামেডানের এক ফুটবলার বলেন,‘অধিকাংশ খেলোয়াড় তাদের চুক্তির মাত্র ৩০-৪০ শতাংশ টাকা পেয়েছেন। এছাড়া মাসিক ভিত্তিতে ফুটবলাদের পারিশ্রমিক পরিশোধের কথা থাকলেও সেটা করছেন না ক্লাব কর্মকর্তারা। এ কারণেই আমরা আজ নির্ধারিত অনুশীলন থেকে বিরত ছিলাম। তবে সকালে ফুটবলাররা নিজেদের মতো করে অনুশীলন করেছেন।’
খেলোয়াড়দের অনুশীলনে যোগ না দেয়ার বিষয়ে মোহামেডান কোচ সাইফুল বারী টিটু বলেন,‘আজকে বিকেল তিনটায় অনুশীলন ছিলো। কিন্তু কোনো খেলোয়াড় আসেনি। আমি এর বেশি কিছু জানি না।’ অন্যদিকে দলের অধিনায়ক মতিউর মুন্না বলেন, ‘আজ সকালে আমরা প্র্যাকটিস করেছি। বিকেলে প্র্যাকটিস ছিল কি না আমাদের জানা নেই।’
ক্লাব কর্মকর্তাদের দ্বন্দ্ব এবং পরিচালনা পর্ষদে প্রকৃত ফুটবলপ্রেমী না থাকায় ঘরোয়া ফুটবলে দিন দিন পিছিয়ে পড়ছে মোহামেডান। গত কয়েক মৌসুম ধরেই ভালো দল গড়তে পারছে না মোহামেডান। শিরোপা লড়াইয়েও থাকতে পারছে না ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি। খেলোয়াড় ও কোচদেরও অসন্তোষ নতুন নয়। গত মৌসুমে দেশি ও বিদেশি খেলোয়াড়দের বকেয়া টাকার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করতে হয়েছিলো মোহামেডানের সাবেক নাইজেরিয়ান খেলোয়াড় ও কোচ এমেকা ইউজিগোকে। যদিও এমেকা ইউজিগো’র নেতৃত্বে নড়বড়ে একটি দল নিয়েও লিগে শেষ পর্যন্ত তৃতীয় হয়েছিলো মোহামেডান।
চলতি মৌসুমে অবস্থা আরো খারাপ মতিঝিলের ক্লাবটির। চলতি মৌসুমে প্রথম লেগ শেষে আট ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে দলটি। যদিও মৌসুমের শুরুতে ভাল কিছুরই ইঙ্গিত দিয়েছিলো মোহামেডান। তৃতীয় রাউন্ডের খেলায় মৌসুমের সবচেয়ে শক্তিশালী শেখ রাসেলের বিপক্ষে দুর্দান্ত এক জয়ও তুলে নেয় তারা। কিন্তু প্রথম লেগের শেষদিকে খেই হারায় তারা। ষষ্ঠ ও সপ্তম রাউন্ডে আবাহনী ও মুক্তিযোদ্ধার বিপক্ষে হার মানে কোচ সাইফুল বারী টিটুর দল। ৫ জানুয়ারি গোপালগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধার বিপক্ষে মৌসুমের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হেরেছিল মোহামেডান। ১-৪ গোলের ওই হারের পেছনেও ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত পাচ্ছে মোহামেডান।
সেদিকে ইঙ্গিত করে ক্লাব পরিচালক ও মেম্বার ইনচার্জ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন লোকমান হোসেন বলেন, ‘হঠাত্ শুনলাম খেলোয়াড়রা অনুশীলন বন্ধ করে দিয়েছে। তারা তো এটা করতে পারে না। আবাহনী, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, মোহামেডানের পর দল গড়েছে মুক্তিযোদ্ধা। মৌসুমের সবচেয়ে বড় দলকে (শেখ রাসেল) আমরা ৩-১ গোলে হারিয়েছে। অথচ সেই দলটি কী করে মুক্তিযোদ্ধার কাছে ৪-১ গোলে হারে এটা আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা একটি তদন্ত কমিটি করেছি। তদন্ত চলাকালীন খেলোয়াড়দের এক মাসের বেতন বন্ধ রেখেছি। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিব।’ -বাংলা নিউজ
