অভিজাত শপিংমলে অভিযানে নেমেছে এনবিআর

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:২০
রাজধানীর বিভিন্ন শপিংমলে অভিযান পরিচালনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এসব শপিংমলে দোকানের সংখ্যা ও কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেবে এনবিআর। ইতিমধ্যে রাজধানীর নয়া পল্টনে ব্যস্ততম শপিং সেন্টার পলওয়েল মার্কেটে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এনবিআর সদস্য (কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) এম এ কাদের সরকারের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। পর্যায়ক্রমে রাজধানীর অন্যান্য সপিং সেন্টারেও এ অভিযান পরিচালনা করা হবে। এছাড়া কোম্পানি, বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে। এনবিআর সূত্র জানায়, করযোগ্য আয় থাকা সত্ত্বেও বেশিরভাগ ব্যবসায়ীর টিআইএন নেই। রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকা ব্যবসা করলেও টিআইএন নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন না তারা। ফলে প্রতি বছর করের আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছেন লাখ লাখ করযোগ্য ব্যবসায়ী। কর অঞ্চল-১৫’র আওতাধীন পলওয়েল মার্কেটে দোকানের সংখ্যা চার শতাধিক হলেও টিআইএনধারী দোকানের সংখ্যা মাত্র ২২৫টি। তাই যেসব দোকানের টিআইএন নেই সেগুলোকে চিহ্নিত করে দ্রুত করজালের আওতায় আনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের কমিশনারকে। একইসঙ্গে কর অঞ্চলগুলোর সব ধরনের রেজিস্ট্রার সঠিক নিয়মে সংরক্ষণ করারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে এনবিআর সদস্য (কর প্রশাসন ও পরিচালনা) এমএ কাদের সরকার বলেন, করজাল বিস্তৃত করতেই এই উদ্যোগ। দোকানের সামনে দৃশ্যমান স্থানে করদাতা শনাক্তকরণ নাম্বার (টিআইএন) ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশনা দেয়া আছে। সেটা পরিপালন করা হচ্ছে কিনা—তাও সরেজমিন যাচাই করা হচ্ছে। অভ্যস্তরীণ উত্স থেকে কর আদায় বাড়ানোর নির্দেশনা রয়েছে। যারা লাখ লাখ টাকা ব্যবসা করছেন তারা দেশের করের বিধান অনুযায়ী কর দিবেন এটাই স্বাভাবিক। দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশে এই সংস্কৃতি এখনো গড়ে ওঠেনি। এজন্য এনবিআরের দুর্বলতাও স্বীকার করেন তিনি। এনবিআর সূত্র জানায়, এনবিআর অভ্যন্তরীণ জরিপের মাধ্যমে করদাতা শনাক্তকরণের জন্য দেশের প্রত্যেক কর অঞ্চলের সংশ্লিষ্ট কর কমিশনারকে তার অধিক্ষেত্রাধীন জরিপ সংশ্লিষ্ট এলাকার এনজিও, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানি, সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ওইসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তাদের তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ওইসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে করযোগ্য নতুন করদাতা খুঁজে বের করা হবে। এদিকে দেশব্যাপী স্পট অ্যাসেসমেন্ট কার্যক্রমও শুরু করেছে এনবিআর। যেখানে সম্ভাব্য করদাতা সেখানেই স্পট অ্যাসেসমেন্ট কার্যক্রম চালানো হবে। এছাড়া বাড়ির মালিকদের আরো বেশি পরিমাণে করের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে এনবিআর। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর কমিশনারদের নির্দেশনাও দিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন। এ লক্ষ্যে একক বা যৌথ মালিকানাধীন ফ্ল্যাটের বা বাড়ির মালিকদের সম্পর্কে পিডিবি (ঢাকা), বিআরটিএ, রাজউক, ডেসকো, ডিপিডিসি, সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট জায়গা থেকে তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চলতি ২০১২-১৩ অর্থ বছর ৩৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা আয়কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে এনবিআর। গত ছয় মাসে উল্লিখিত সময় ১৩ হাজার ১৫ কোটি টাকার আয়কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১২ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে রয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা। তবে গত ২০১১-১২ অর্থ বছরের একই সময়ের তুলনায় আদায় বেড়েছে ২৯ শতাংশ। এর ওপর অর্থমন্ত্রী নতুন করে আরো ৮ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রায় যুক্ত করতে মৌখিকভাবে নির্দেশ দিয়েছেন বলে এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান। এর একটি অংশ আয়করের সাথে যুক্ত হলে লক্ষ্যমাত্রা আরো বেড়ে যাবে। এই অবস্থায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আয়কর অনুবিভাগকে আরো গতিশীল হতে হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।