আধুনিক যুগের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা তৃতীয় অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতলেন নোভাক জকোভিচ। বছরের প্রথম গ্রান্ডস্ল্যাম জয়ের পথে জকোভিচ গতকাল রবিবার মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ৬-৭ (৭-২), ৭-৬ (৭-৩), ৬-৩, ৬-২ গেমে ব্রিটেনের অ্যান্ডি মারেকে হারান।
জকোভিচের সামনে ছিল টানা তৃতীয় অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ের লক্ষ্য, মারের দৃষ্টি গত বছরের সাফল্যকে পুঁজি করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার। শেষ পর্যন্ত জয় হয়েছে সার্বিয়ান জকোভিচেরই। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের গত আসরের শিরোপা জেতায় স্বাভাবিকভাবেই তিনি ছিলেন টুর্নামেন্টের এক নাম্বার বাছাই। শুরু থেকেই খেলেছেন টপ ফেভারিটের মতোই। চতুর্থ রাউন্ডে এক বার পা পিছলাতে গিয়েও বেঁচে যাওয়া ‘জকো’কে এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।
অন্যদিকে আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি ছিল না ফাইনালে তার প্রতিপক্ষ ব্রিটেনের অ্যান্ডি মারেরও। সেমিফাইনালে রেকর্ড ১৭ বারের গ্রান্ডস্ল্যাম একক জয়ী সুইস মহাতারকা ফেদেরারকে পাঁচ সেটের মহাকাব্যিক এক লড়াইয়ে হারিয়ে তুঙ্গস্পর্শী আত্মবিশ্বাস নিয়েই ফাইনালে পৌঁছান তিনি। সঙ্গে ছিল গত বছরের ইউএস ওপেন জয়ের সুখস্মৃতিও। ফ্লাশিং মিডোতে সেই ফাইনালে এই সার্বিয়ান প্রতিপক্ষকে হারিয়েই ব্রিটিশদের দীর্ঘ ৭৬ বছরের গ্রান্ডস্ল্যাম আক্ষেপ ঘোচান তিনি। এরপরে অলিম্পিকের স্বর্ণ তার জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে দেয় আরেক ধাপ। তাই তার পক্ষে বাজি ধরার লোকেরও অভাব ছিল না। তবে এসবের কিছুই শেষ পর্যন্ত কাজে আসেনি কাল।
ইউএস ওপেনে হারলেও মেলবোর্ন পার্কে জকোভিচের র্যাকেট সব সময়ই দুর্বার। ক্যারিয়ারের ছয়টি গ্রান্ডস্ল্যামের চারটিই যে জিতেছেন এখানে। ব্যতিক্রম ঘটেনি গতকালও। দারুণ সব স্ট্রোকের পাশাপাশি কোর্টের প্রতিটি কোণায় তার শক্তিশালী বিচরণ সবাইকে আরেকবার জানিয়ে দেয় এত সহজে অস্ট্রেলিয়ার রাজত্ব ছাড়ছেন না তিনি। দ্বিতীয় সেটে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে সবাইকে বুঝিয়ে দেন টাইব্রেকারে প্রথম সেটের হার এতটুকু চিড় ধরাতে পারেনি তার চোয়ালবদ্ধ মানসিকতায়। ৭-৬ (৭-৩),৬-৩ গেমে দ্বিতীয় আর তৃতীয় সেট জয়ের পরে অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায় মেলবোর্ন পার্কে সার্বিয়টির টানা ২১তম জয় তুলে নেয়া যে স্রেফ সময়ের ব্যাপার। এরপরে চতুর্থ সেট ৬-২ গেমে জিতে জকোভিচ নাম লেখান ইতিহাসে। নিজের ষষ্ঠ গ্রান্ডস্ল্যাম শিরোপার পাশাপাশি টেনিসের ৪৫ বছরের ওপেন হিসেবে অভিহিত আধুনিক যুগের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে জিতে নেন টানা তৃতীয় অস্ট্রেলিয়ান ওপেন শিরোপা। ওপেন যুগের আগে এই কৃতিত্ব দেখিয়েছেন মাত্র দুজন-জ্যাক ক্রফোর্ড এবং অন্যজন কিংবদন্তী রয় এমারসন।
মারে-জকোভিচের বন্ধুত্ব নিয়ে ম্যাচের আগে বেশ আলাপ-আলোচনা হলেও তিন ঘণ্টা চল্লিশ মিনিটের এ ম্যাচে দু’জনের শারীরিক ভাষাই বলে দিচ্ছিল বন্ধুত্বটা কোর্টের বাইরেই রেখে এসেছেন তারা। তবে ম্যাচ শেষে আবারো পুরনো বন্ধুত্বেই ফিরে গেছেন উভয়ে। পরাজিত মারে অভিনন্দন জানাতেও ভুল করেননি নিজের অদ্ভুত কাণ্ড-কীর্তির জন্য জোকার নামে পরিচিত জকোভিচকে। মারে বলেন, ‘এখানে তার (জকোভিচ) রেকর্ড আসলেই অবিশ্বাস্য। তার কীর্তির জন্য তাকে অভিনন্দন।’ আর শিরোপা জয়ের আনন্দে ভেসে যাওয়া রড লেবার এরেনার রাজার উচ্ছ্বাস ছিল অনুমিতই, ‘এটা (অস্ট্রেলিয়ান ওপেন) অবশ্যই আমার সবচে প্রিয় গ্রান্ডস্ল্যাম। আরো একবার এ শিরোপাটা জেতার অনুভূতি আসলেই অদ্ভুত। কোর্টটাকে দারুণ পছন্দ করি আমি।’
