বিসিবির সংশোধিত গঠনতন্ত্র অবৈধ ঘোষণা

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৪৩
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সংশোধনী গঠনতন্ত্র অবৈধ বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। গতকাল রবিবার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি আব্দুর রবের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। সংশোধিত গঠনতন্ত্র অবৈধ ঘোষণা করায় বিসিবির কার্যক্রম এখন চলবে ২০০৮ সালে অনুমোদিত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী। সেই গঠতন্ত্র অনুযায়ীই বিসিবির আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কাল হাইকোর্টের এই রায়ে অবশ্য মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিসিবির এডহক কমিটির সদস্য ইসমাইল হায়দার মল্লিক অবশ্য এ ব্যাপারে কিছু বলতে চাননি। শুধু বললেন, ‘এটি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) দেখবে। যে গঠনতন্ত্র থাকবে, বিসিবির কার্যক্রম সেভাবেই চলবে। যে গঠনতন্ত্রই আসুক না কেন আমাদের কোন সমস্যা নেই।’ সংশোধনী গঠনতন্ত্র অবৈধ ঘোষণা হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে প্রিমিয়ার লিগের সুপার লিগে খেলা দলগুলোর। নতুন সংশোধনীতে সুপার লিগে খেলা ছয় ক্লাব দু’টি করে কাউন্সিলরশীপ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটি অবৈধ হওয়ায় ছয় ক্লাব বাড়তি কোন কাউন্সিলরশীপ পাবে না। হাইকোর্টের এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে অবশ্য ক্লাব সমিতির সভাপতি মনজুর কাদেরও কোন মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত কিছু জানি না। তবে হাইকোর্ট এই রায় দিলে সুপ্রিম কোর্ট রয়েছে। অন্য কোন পথ রয়েছে। আমরা বিষয়টির সম্বন্ধে জানি, তারপরও এ বিষয়ে কথা বলা যাবে। আগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী শুধু ক্লাবগুলোর কাউন্সিলরশীপ নয়, বাদ হয়ে যাবে সভাপতি পদের নির্বাচনও। এছাড়া জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা থেকে ক্রিকেটার আসার পথও বন্ধ হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার এসেসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত পাল বলেন, ‘আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে তো কিছু বলা সম্ভব নয়। আমরা আদালতের রায়ের ব্যাপারে শ্রদ্ধাশীল। তবে বিসিবির ভূমিকার দিকেও আমরা চেয়ে থাকবো। তারা কি পদক্ষেপ নেয়, সেটার উপর নির্ভর করবে সবকিছু। আমরা নিজেরাও বসে চিন্তা-ভাবনা করবো। এরপর সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে’। বিসিবির সাবেক পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোবাশ্বের হোসেন এবং জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক পরিষদের সভাপতি ইউসুফ জামিল বাবু গত বছর ১৩ ডিসেম্বর বিসিবির সংশোধনী গঠনতন্ত্রের বিপক্ষে আদালতে রুল জারি করেন। এতদিন শুনানি শেষে কাল হাইকোর্ট এই রায় দিয়েছে। বিসিবির সংশোধনী গঠনতন্ত্র প্রসঙ্গে জামিল বাবু বলেছেন, ‘যে প্রক্রিয়ায় গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন করা হয়েছে তা সঠিক নয়। বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুমোদন ক্ষেত্রে সবাইকে বাদ দেয়া হয়েছে’। ঢাকা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও বিসিবির সাবেক পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদোয়ান বলেন, ‘আমরা ইজিএমে (বিশেষ সাধারণ সভা) যেটা অনুমোদন করেছি সেটাই থাকবে। কিন্তু বিসিবির নতুন কমিটি সেটাকে পাস কাটিয়ে নতুন করে সংশোধন এনেছে। হাইকোর্টের এই রায় ক্রিকেটের জয়’। বিসিবির এডহক কমিটির মেয়াদ শেষ হবে ২৬ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচনের মাত্র এক মাস আগে হাইকোর্টের এরকম একটি সিদ্ধান্তের ফলে বিসিবি ক্ষতিগ্রস্ত হবে কিনা এমন প্রশ্নে এডহক কমিটির সদস্য মল্লিক বলেন, ‘নির্বাচন হবে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী। এনএসসি যে গঠনতন্ত্র পাঠাবে সেটার উপর ভিত্তি করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে’। ২০০৮ সালের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিসিবির নির্বাচন হলে সভাপতি পদে নির্বাচন হবে কাউন্সিলরদের ভোটে। বিসিবির ১৭০ জন কাউন্সিলদের মধ্য থেকে একজন সভাপতি পদের জন্য দাঁড়াতে পারবেন। কাউন্সিলরদের ভোটেই তিনি সভাপতি নির্বাচিত হতে পারবেন। এছাড়া জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি শুধু কাউন্সিলর হতে পারবেন বলে নতুন সংশোধিত গঠনতন্ত্রে উল্লেখ ছিল তা বাতিল হয়ে এখন জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ পরিষদের সদস্য হতে পারবেন বিসিবির কাউন্সিলর।