মু খো মু খি
ক্যারিয়ারে খুব একটা উত্থান-পতন না থাকলেও নিজের অবস্থানে একেবারে অনড় রয়েছেন রূপম। একইভাবে ক্যারিয়ারে গান নিয়েই নিরন্তর চেষ্টা করে চলেছেন রুপম। সর্বশেষ নিজের সলো ‘জনম জনম’ অ্যালবামটিও বাজারে ব্যপক সমাদৃত হয়। নিজের বর্তমান ব্যস্ততা ও ক্যারিয়ার নিয়ে বিনোদন প্রতিদিন-এর মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন সরলা সৈয়দ
এখনকার অডিও অ্যালবামের এই মন্দা বাজারে নিজের গান নিয়ে টিকে আছেন কীভাবে?
চলচ্চিত্রের গান নিয়ে। আর আমরা যারা স্টেজে গাইতে পারি, তাদের জন্য গানটা প্রফেশন হিসেবে নিতে কোনো টেনশন নেই। টেনশন তো করবে ওরা, যারা গাইতে পারে না।
কিন্তু সফটওয়্যার-নির্ভর শিল্পীরাই তো বাজার চলতি হিসেবে টিকে আছে—
খুব বেশিদিন টিকে থাকতে পারবে না। ঝরে পড়তেই হবে। লক্ষ করে দেখবেন অনেকেই ঝরে গেছে। যেমন আমি গত কয়েকমাস টানা চলচ্চিত্রের গান করছি। কারণ আমি প্লে-ব্যাকে প্রতিষ্ঠিত অনেক আগে থেকে। অনেক বড় বড় মিউজিক ডিরেক্টর কাম শিল্পীদের মাঝে কিছুদিন চলচ্চিত্রের গানের জোয়ার চলছিল, কিন্তু ওরা কি বেশিদিন টিকতে পেরেছে! কই সেই দুয়েকটি ঝড়ে বক মারার মতো গান হিট হওয়ার পর তো থেমে গেছে। তাই অধিকাংশ চলচ্চিত্র প্রডিউসারেরা এখন আমাদের দিকে ফিরেছে। মার্কেটে ভালো গেয়ে টিকে থাকব আমরাই।
তাহলে আগামীতে সলো অ্যালবাম নিয়ে ভাবছেন না। শুধুই চলচ্চিত্রের গান নিয়েই থাকবেন—
না ঠিক তা নয়। তবে আপাতত চলচ্চিত্রের গানেই ব্যস্ত রয়েছি। নিজের মতো করে গান করার জন্যই ঘরোয়া স্টুডিও দিয়েছি। সেখানে নিজের ইচ্ছেমতো গান বাঁধছি। এ বছর ভালো কিছু গান উপহার দিতে পারব।
কিন্তু ছবি প্রযোজকেরা কিছুটা বাজেট বাড়াতে পারলেইতো আর আপনাদের ডাকছে না। ভারতীয় শিল্পীদের দিয়ে গাওয়াচ্ছে। আপনারা থাকছেন তাদের দৃষ্টিতে কম বাজেটে সহজলভ্য শিল্পী হিসেবে?
সেটাও বেশি দিন টিকবে না। কারণ ওই লাখ টাকা দিয়ে গাওয়ানোর পর সেই শিল্পীকে যখন টিভিতে মানুষ দেখে না। তখন গানটি মরে যায়। এমনকি মরেও গেছে অনেক গান। আপনি এমন কোনো উদাহরণ দেখাতে পারবেন যে, ভারতীয় শিল্পীরা আমাদের দেশের গান গেয়ে হিট করাতে পেরেছে। চলচ্চিত্রের গানে আমরাই থাকব। আমরা দীর্ঘদিন ছিলাম।
আগামীর ব্যস্ততা প্রসঙ্গে বলুন। আপনি তো নিয়মিত বিভিন্ন ঘরোয়া অনুষ্ঠানেও গান। সে ক্ষেত্রে কি এখন হিন্দি গান গাওয়া কমেছে আপনার?
না, এটা কোনো নেতিবাচক বিষয় নয় বলে আমি মনে করি। এই যে দুই বাংলার যৌথ চলচ্চিত্র তৈরির খবর পাওয়া যাচ্ছে। তাতে কিন্তু আমাদেরই জয়জয়কার হবে। আমাদেরই কাজ বাড়বে। আমি মনে করি গানের ক্ষেত্রে এখনও আমরা পাশের যেকোনো দেশের চেয়ে এগিয়ে। কিন্তু আমদের প্রমোশন কম। সুযোগ কম। তাই মেধার বিকাশটা দেখাতে পারছি না। আপনি চিন্তা করে দেখুন, এতগুলো চ্যানেল হলো একটিও ভালো মানের মিউজিক চ্যানেল কেউ শুরু করল না। অথচ এই বাংলাদেশ নাকি সুরের দেশ। যেখানে গানের কোনো প্লাটফর্ম নেই।
তবে রিয়েলিটি শো যে এতগুলো হচ্ছে। এগুলোকে আপনি অস্বীকার করেন?
রিয়েলিটি শোগুলো গানের অনুষ্ঠান না, বাণিজ্যিক অনুষ্ঠান। কারণ এখানে গানের চর্চা হয় না। এসএমএস বাণিজ্য হয় কিংবা টিআরপিতে ইমোশনালভাবে দর্শক ধরে রাখার বাণিজ্য হয়।
