পুরুষ এককে দুই তরুণ অ্যান্ডি মারে আর নোভাক জোকোভিচের শিরোপা লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত হার মানেন ব্রিটেনের মারেই। হারের জন্য প্রাথমিক ভাবে ক্লান্তিকে দুষলেও পরে অবশ্য তিনি বলেন ‘জোকো’ জিতেছেন যোগ্য প্রতিপক্ষ হিসেবেই। তবে সামনেই তাকাতে চান তিনি, ‘আমার অবশ্যই খারাপ লাগার মতো কারণ আছে। গত কয়েক মাসে আমি আমার সেরা খেলাটাই খেলেছি। আমি জানি, নিজের প্রথম শিরোপা জেতার পরে টানা দ্বিতীয় (গ্রান্ড) স্ল্যাম কেউ জিততে পারেনি। তবে আমি খুব কাছেই পৌঁছে গিয়েছিলাম। আর আমি জানি এটাই শেষ নয়।’
মারে আরো বলেন, ‘অনেক সুযোগ পেয়েও আমি সেই সুযোগকে সঠিক ভাবে কাজে লাগাতে পারিনি, আর এটাই এখন আমার জন্য সবচেয়ে বড় হতাশা। শেষ সেটে আমার জন্য ফিরে আসা খুব দরকার ছিল। তবে সেটা আমি করতে পারিনি। আর জোকোভিচ নিজের সেরা ফর্মে ছিলেন। আর এই অবস্থায় তার সাথে মানিয়ে ভালো খেলা যে কোনো টেনিস খেলোয়াড়ের জন্য বড় এক পরীক্ষা।’ আর টানা তৃতীয় অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতে ইতিহাসে নাম লেখানো সার্বিয়ান জোকোভিচ মেলবোর্ন পার্ককে মানছেন পয়মন্ত হিসেবে, ‘অবশ্যই এটা আমার প্রিয় গ্রান্ড স্ল্যাম। আরো একবার এখানে শিরোপা জেতাটা নি:সন্দেহে দারুণ ব্যাপার। এই কোর্টটাকে দারুণভাবে ভালবেসে ফেলেছি আমি।’
জোকোভিচ মারের ব্যাপারে প্রশংসা করে বলেন, ‘গত কয়েক বছরে আমরা দুইজন যে কয়টি ম্যাচ খেলেছি তার প্রতিটিই ছিল দারুণ একেকটি ম্যাচ। সত্যিই মারের বিপক্ষে কঠিন। আর তার বিপক্ষে ম্যাচ গুলোতে সব সময়ই প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখার মতো হয়।’
জোকোভিচ বলেন, ‘আমি ম্যাচে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ছিলাম। বিশেষ করে তৃতীয় ও চতুর্থ সেটে আমি অনেক বেশি দ্রুততার সাথে খেলেছি। আর টানা তিনবার জয় সত্যি অনেক আনন্দের। এর ফলে এই বছরের বাকিটা সময় আরো আত্মবিশ্বাসের সাথে খেলতে পারবো বলে আমি আশা করছি।’
শুধু জোকোভিচ নন এই টুর্নামেন্ট নি:সন্দেহে মন ভরিয়েছে খেলোয়াড়দেরও। কারণ প্রায় ৩ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলারের প্রাইজমানি পুরস্কার দেয়া হয়েছে খেলোয়াড়দের মাঝে। যে কোনো গ্রান্ড স্ল্যামের জন্য যা সর্বোচ্চ। পুরুষ ও মহিলা এককের চ্যাম্পিয়নরা পেয়েছেন প্রায় ২৫ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার করে। আর আয়োজকদেরও নিশ্চয়ই মন খারাপ হয়নি। ১৫ দিনে প্রায় সাত লাখ দর্শক কোর্টে এসে উপভোগ করেছেন তাদের প্রিয় খেলোয়াড়দের টেনিস যুদ্ধ।
