একসময় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের পরই দেশের সবচেয়ে ঐতিহ্যপূর্ণ ক্রিকেট স্টেডিয়াম ছিল চট্টগ্রামের এই এম এ আজিজ স্টেডিয়াম। সেই স্টেডিয়ামই আট বছর ধরে ক্রিকেট উত্সব থেকে ছিল বঞ্চিত। অবশেষে দীর্ঘ আট বছর পর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের (বিপিএল) মধ্য দিয়ে আবার ক্রিকেট ফিরল এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে। সেই সঙ্গে বিপিএলের চলতি আসর অবশেষে দর্শকের প্রাণ ফিরে পেল। দর্শক নিয়ে যে হাহাকার চলছিল, বিপিএলে তা ঘুচিয়ে দিয়ে কানায় কানায় ভরে উঠল স্টেডিয়াম।
এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের ক্রিকেট ঐতিহ্য অনেক সমৃদ্ধ। ১৯৭৯ সালে জাভেদ মিয়াদাদের নেতৃত্বে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের প্রথম সফর শুরু হয় এই স্টেডিয়ামে। কিন্তু বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাথে ম্যাচ চলাকালীন সময় মাঠে অনাকাঙ্খিত একটি ঘটনায় ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়ে যায়। এরপর আরো নয় বছর অপেক্ষায় ছিল এমএ আজিজ স্টেডিয়াম। অবশেষে ১৯৮৮ সালের উইলস এশিয়া কাপ ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজিত হয় এই স্টেডিয়ামে। ভারত-বাংলাদেশ সেদিনের ম্যাচ দিয়ে দর্শকের যে জোয়ার শুরু হয়েছিল, কাল প্রমাণিত হল; সে ঐতিহ্য এখনও ধরে রেখেছে স্টেডিয়ামটি।
এই ধারাবাহিকতায় একই বছর এমএ আজিজ স্টেডিয়ামকে দেয়া হয় টেস্ট ভেন্যুর মর্যাদা। ঢাকার পর বাংলাদেশে চট্টগ্রাম এম এ আজিজ স্টেডিয়ামকেই দেয়া হয় এই মর্যাদা। ২০০০ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যস্ত রাখা ছিল এই স্টেডিয়াম। ২০০৫ সালে দেশের ঐতিহাসিক প্রথম টেস্ট জয় আসে এই ভেন্যু থেকে। কিন্তু ওই সিরিজ থেকেই শেষ হয়ে যায় স্টেডিয়ামের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ততা।
চট্টগ্রামে এরপরও ক্রিকেটের বড় বড় আসর বসেছে, বিশ্বকাপের খেলা হয়েছে, টেস্ট হয়েছে; কিন্তু সবই হয়েছে নতুন তৈরি হওয়া জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। একটু একটু করে যেন হারিয়ে যেতে বসেছিল এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের ক্রিকেট সম্পৃক্ততা। অবশেষে সেই সম্পর্ক ফিরল কাল।
একটা ধারণা ছিল বিপিএলের এবার যেমনটা হচ্ছে, এমএ আজিজ স্টেডিয়ামেও তেমন শূন্য পড়ে রইবে গ্যালারি। কিন্তু ধারণা মিথ্যায় পরিণত হয়ে বিপিএল আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্টেডিয়াম পেল আবার পরিপূর্ণতা। বিপিএল’র সূচনা দিনে এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের গ্যালারি ছিল একেবারে টইটুম্বুর। ব্যাংক ও বিভিন্ন কাউন্টার টিকেট না পেয়ে অনেক দর্শককে চড়া দামে কালো বাজারীদের হাত থেকে টিকেট কিনে ম্যাচ উপভোগ করতে হয়েছে। চড়া দামে ক্রয় করেও দর্শকেরা আনন্দিত।
