সমুদ্রপথের নিরাপত্তা জোরদারে নেয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:০৬
সমুদ্র পথে চোরাচালান রোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত কল্পে নৌবাহিনীর টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি চলছে। সমন্বয়সহ আভিযানিক কার্যক্রম আরো জোরদার করা হবে। ২০১৬ সাল নাগাদ নৌবাহিনীতে অত্যাধুনিক যুদ্ধ জাহাজ সাব মেরিন যুক্ত হচ্ছে। গতকাল সোমবার নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল মুহাম্মদ ফরিদ হাবিব দায়িত্ব গ্রহণের পর একান্ত সাক্ষাত্কারে এ কথা বলেন। তিনি পূর্বতন নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল জহির উদ্দিন আহমেদের স্থলাভিষিক্ত হলেন। ভাইস এডমিরাল মুহম্মদ ফরিদ হাবিব ১৩তম নৌবাহিনীর প্রধান। আকাশ, জল ও স্থল পথে চোরাচালান, মানব পাচার, নৌ ও জাহাজ ডাকাতি এবং জেলেদের বনদস্যুদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য নৗবাহিনী এক হাজার সদস্য নিয়ে বিশেষ দল ‘সোয়াত’ গঠন করা হয়েছে। এ দলটি আমেরিকা থেকে বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত। তারা সকল কমান্ডো। এ দলটি এক বছর যাবত্ সমুদ্র এলাকায় তাত্ক্ষণিক নিরাপত্তা কাজে নিয়োজিত রয়েছে। সমুদ্র পথে অবৈধ অস্ত্র, মানব পাচারের অন্যতম রুট বাংলাদেশ সীমান্ত। এ বিষয়টি মাথায় রেখে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সমন্বয় ২৪ ঘণ্টা টহলসহ নিরাপত্তা কাজে নিয়োজিত। নৌ প্রধান বলেন, উপকূলবাসীর জীবিকা নির্বাহের প্রধান পেশা মাছ শিকার। সম্পদ ও জনবলের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও দিন-রাত নৌ বাহিনী ডাকাত ও বনদস্যুদের হাত থেকে অসহায় জেলেদের নিরাপত্তা দিয়ে আসছেন। এ কার্যক্রম আরো বৃদ্ধি করা হবে। জাহাজ ও হেলিকপ্টারযোগে নৌ-টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টা, প্রশংসনীয় পররাষ্ট্রনীতি ও কূটনৈতিক তত্পরতায় ইতিমধ্যে বাংলাদেশ বিশাল সমুদ্র এলাকা জয় করেছে। সমুদ্রের প্রায় সাতশ কিলোমিটার উপকূলীয় এলাকায় শুধু চারটি জাহাজ নিয়ে নৌবাহিনী ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা টহল দিচ্ছে। সার্বিক নিরাপত্তা ও সম্পদ রক্ষায় তথা দেশের আর্থিক উন্নয়নে নৌবাহিনীকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। জলসীমার সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত কল্পে নৌবাহিনীকে আধুনিকায়ন ও শক্তিশালী করার বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। গত চার বছরে দুইটি মেরিটাইম হেলিকপ্টার, আমেরিকা থেকে একটি ও চায়না থেকে দুইটি যুদ্ধ জাহাজ ক্রয় করা হয়েছে। প্রায় ১৬টি যুদ্ধ জাহাজ নৌবাহিনীতে সংযোজন হয়েছে। একমাত্রিক থেকে প্রায় চতুর্থ মাত্রিক উন্নত করেছে বর্তমান সরকার। দুইটি সাব মেরিন সংযুক্ত করার প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত। চলছে উন্নততর প্রশিক্ষণ বলে নৌ প্রধান জানান। এর আগে গতকাল বিকাল ৩টায় নৌ প্রধানের কার্যালয়ে নবনিযুক্ত নৌ প্রধান ভাইস এডমিরাল মুহাম্মদ ফরিদ হাবিব কমান্ড হস্তান্তর ও গ্রহণ বইতে স্বাক্ষর করেন। তিনি বিদায়ী নৌ প্রধান ভাইস এডমিরাল জহির উদ্দিনের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কমান্ড গ্রহণ করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে নৌ সদর দফতরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারগণ, সারাদেশ থেকে আগত সকল নৌ-আঞ্চলিক অধিনায়কগণসহ ঊর্ধ্বতন নৌ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। বিদায়ী নৌ প্রধান শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শাহাদাত্ বরণকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। সেখানে পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করন। পরে বিদায়ী নৌ প্রধান সদর দফতরে পৌঁছালে নৌবাহিনীর একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। নৌবাহিনীর ঐতিহ্য অনুযায়ী সাঁজোয়া যানে স্ট্রীট লাইনিং-এর মাধ্যমে বিদায়ী নৌ প্রধানকে বিদায় জানানো হয়।