যৌনপল্লীর শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:০৬
যৌনকর্মীদের শিশুদের শিক্ষা ক্ষেত্রে মূলধারায় সম্পৃক্ত করার আহবান জানিয়েছেন যৌনকর্মীদের শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিয়ে কাজ করা কর্মকর্তারা। তারা বলেছেন, জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকার দেশের সকল শিশুর শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথা থাকলেও এখনো দেশের যৌনকর্মীদের শিশুরা এ অধিকার থেকে বঞ্চিত। ওই শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে জরুরী ভিত্তিতে সরকারের প্রতি চাপ সৃষ্টি করতে হবে। সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে একশন এইড আয়োজিত ‘যৌনকর্মীদের সন্তানদের মূলধারার শিক্ষা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত এবং সুরক্ষা’ বিষয়ক অভিজ্ঞতা বিনিময় সভায় বক্তারা এ কথা বলেন। সভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় পাঠ্যক্রম এবং পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের প্রাক্তন পরিচালক ড. সিদ্দিকুর রহমান। আরো বক্তব্য রাখেন ইউনিসেফের শিক্ষা বিষয়ক কার্যক্রমের প্রধান নবেন্দ্র দাহাল। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ‘লিবারেশন এন্ড এমপাওয়ারমেন্ট, এ্যাটেইনিং ডিগনিটি এন্ড রাইটস ফর সেক্স ওয়ার্কার্স এন্ড দেয়ার চাইল্ড ইন বাংলাদেশ’ (এলইএডিআর) প্রকল্পের ব্যবস্থাপক হেলেনা ব্যালেস্টার বন। সভা পরিচালনা করেন একশন এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবীর। সভায় যৌনকর্মীর শিশুদের অধিকার বিষয়ক একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। সভায় ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, রাতারাতি কোন কিছুর পরিবর্তন সম্ভব নয়। আগে ওইসব শিশুর অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে, এর পাশাপাশি তাদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, এবার মাধ্যমিক পর্যায়ে নতুন বইগুলোতে আমরা নৈতিক শিক্ষার উপর গুরুত্ব দিয়ে পাঠ্য বইগুলো সাজিয়েছি। এতে করে আশা করা যাচ্ছে শিশুদের মধ্যে বৈষম্য দূর হবে। ফারাহ কবীর বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গীকারের অভাব এবং রক্ষণশীল সমাজ ব্যবস্থার কারণে যৌনকর্মী ও তাদের সন্তানরা এক ধরনের বিচ্ছিন্ন অবস্থায় বসবাস করছে। দেশের যৌনপল্লীগুলো চিহ্নিত করে সেখানকার শিশুদের শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি বলেন, সেক্স ওয়ার্কার্স এন্ড দেয়ার চিলড্রেন ইন বাংলাদেশ এসেসিং রিস্ক এন্ড ভালনারিবিলিটিস’ বিষয়ক গবেষণায় দেখা গেছে যৌনকর্মীদের প্রায় ২০ হাজার শিশু ১৮টি নিবন্ধনকৃত লাল এলাকা চিহ্নিত যৌনপল্লীতে ভয়াবহ ঝুঁকিতে বেড়ে উঠছে। সেখানকার অধিকাংশ মেয়ে শিশু ১২ বছরের আগেই ওই পেশায় জড়িয়ে পড়তে বাধ্য হয়। এসব শিশু তাদের মৌলিক অধিকারগুলো থেকে বঞ্চিত। গবেষণায় আরো বলা হয়েছে, যৌনকর্মীদের সন্তানদের জীবনমানের উন্নয়ন এবং সময়ের মূল ধারায় সম্পৃক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষা একটি বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। শিক্ষা ছাড়া এই শিশুদের মুক্তি কোনভাবেই সম্ভব নয়; তাই তাদের শিক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।