শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

ঘুরে এলাম পাহাড়ে

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০১৩, ১৭:৪৪
কয়েকদিন পরেই শিক্ষা সফর। প্রস্তুতিও চলতে থাকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবকিছুই স্থগিত করা হলো। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী শিক্ষা সফরে যাওয়া হবে না শুনে মন খারাপ হলো ব্যাচের সব শিক্ষার্থীর। চার বছরের অনার্স-এর শিক্ষাজীবন শেষে এমনটি ঘটেছিল গত বছর। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ৮ম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বিলম্বেই শিক্ষা সফরে যাবার নতুন সময়সূচি পেল। একবছর পরে সময় নির্ধারণ করায় আনন্দ সেই পূর্বের মতোই। তখন সেই আগের মতোই খুনসুটি। কোন কোন শিক্ষক যাচ্ছেন এবার, টি-শার্ট কোথায় বানাবে, ব্যানারে কী লিখতে হবে— এমন নানান বিষয়ে চলতে থাকে চিন্তা-ভাবনা। ৩ জানুয়ারি ক্যাম্পাস থেকে পাবর্ত্য তিন জেলার উদ্দেশ্যে যাত্রা। সব প্রস্তুতি শেষ করে ওই দিন রাতে ছুটলো চট্টগ্রামগামী ট্রেনটি। ব্যাচের সাথে ছিলেন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. হিমাদ্রী শেখর রায় ও সহকারী অধ্যাপক মো. সেকান্দার আলী। ট্রেন ছাড়ার পরেই কারো কারো মুখে শোনা গেল আনন্দের গান। একটু পরে কোরাস কণ্ঠে যোবায়ের, সাকি, ইশতিয়াক, মাসুদ, পলাশ, নিতু, মাহবুবা, শোভা, সারা, তানভীর, কাওছারসহ সবার মুখেই শোনা গেল গান। কী যে আনন্দ সবার চোখে-মুখে! গভীর রাত অবধি চলতে থাকলো শিক্ষার্থীদের বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস। কেউ কেউ মুঠোফোনে ফেইসবুকে যাত্রাকালীন ছবি আপডেট করলো। অন্য বন্ধুদের জানিয়ে দিলো আমরা এখন চট্টগ্রামের দিকে ছুটছি। ৫ জানুয়ারি কক্সবাজার থেকে সেন্ট মার্টিনের দিকে। নদীর মাঝে যাত্রা পথে সাদা রঙের সী গাল পাখিগুলো উড়ে এসে লঞ্চের পেছনে পেছনে ছুটছে। পাখিরাও যেন আনন্দ করছে ওদের মতো করে। হঠাত্ করেই দূর থেকে ঢেউ চলে আসে সশব্দে নিকটে, একদম লঞ্চের কাছাকাছি। ঢেউয়ের উত্থাল-পতন দেখতে অনেক আনন্দদায়ক। জানা গেল, প্রায় ১৬ বর্গকিলোমিটার জুড়ে সেন্টমার্টিন দ্বীপে মূল আকর্ষণ প্রবাল পাথরের মেলা, সমুগ্রতীরে সারি সারি নারিকেল গাছ, দিগন্তে হারিয়ে যাওয়া সমুদ্রের নীল জলরাশি। এ দ্বীপ নারিকেল জিঞ্জিরা নামেও পরিচিত। এছাড়াও এখানের আছে ঐতিহ্য শামুক, কড়ি, কাঁকড়া, প্যারাবন, সাগরলতা, কেয়া, আকন্দ, নিশিন্দা, বালিয়ারি ও কাছিম। রাতে এ দ্বীপটির সৌন্দর্য বেড়ে যায় বহুগুণ। সেন্টমার্টিনের একেবারে শেষ প্রান্তে ছেড়াদ্বীপে যাওয়া। এক সময় এ জায়গাটি মূল দ্বীপ হতে বিচ্ছিন্ন থাকলেও কালের আবর্তে বর্তমানে মূল দ্বীপের সাথে প্রায় মিলে গেছে। এখানে রয়েছে কেয়াবন। বাকিটা শুধু প্রবাল আর প্রবাল। জীবনের ডাইরিতে যুক্ত হলো আরও কিছু স্মৃতি। এমনটি শোনা গেল নিতু, শোভা, সারা, মাহবুবা-ওদের মুখে। সবারই কথা বাংলাদেশের অপরূপ সৌন্দর্য দেখার জন্য অনেক ঘুরতে হবে। জানা যাবে ইতিহাস, ঐহিত্য আর দেখা যাবে দেশের মায়াবি রূপ। জীবনে সুযোগ পেলেই বেরিয়ে যাবে ভ্রমণে, জানবে বাংলাদেশকে এমনই ইচ্ছা জাগলো সবার।