শূন্য থেকে শুরু

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০১৩, ১৯:৫০
গিটার আর ড্রামের জগতে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো একটি ব্যান্ডের নাম শূন্য। যারা সময়ের শূন্যতাকে পূর্ণ করতে চায় গান দিয়ে। তারা এ প্রচেষ্টায় পাচ্ছে শ্রোতাদেরও সমর্থন। তাদের এগিয়ে চলার গল্প নিয়ে লিখেছেন মুহম্মদ কবীর শূন্যের মান নেই, আছে অভিমান আর হাহাকার। জীবনের এই গাণিতিক অনুভূতিকে গানে অনুবাদ করার প্রত্যয় নিয়ে তাদের পথ চলার শুরু। যদিও এ অন্তহীন যাত্রার সূচনায় তারা গিটারের তারে আঙ্গুল রেখেছিলেন স্রেফ ভালোবাসা নিয়ে। তখনও ভাবেননি এই ভালোবাসার টানে পাড়ি দিতে হবে বহুদূর। আজ অবশ্য পিছু ফিরে তাকানোর অবকাশ নেই এমিল ও শাকেরের। গানের সুরই তাদের বন্ধুত্বে বেঁধেছিল। দুই বন্ধু মিলে সেই শুরু থেকেই ছিলেন গানের অনুশীলনে। প্র্যাকটিস চলত কখনও ঘরে কখনও খোলা ময়দানে। গাইতে গাইতেই দুই বন্ধু মিলে গড়ে নিলেন ব্যান্ড। এটা ২০০৭ সালের কথা। অল্প কিছুদিন পর গাওয়ার জন্য গাওয়া পাল্টে অ্যালবামে গান করার তাগিদে রূপ নিল। এবার ভালোভাবে কাজ শুরু করেন তারা। চলতে থাকে গান বাছাই। দু’জন মিলে সারাদিন নতুন গান বাঁধায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তাদের প্রথম সুযোগটা এলো ২০০৮ সালে। তাদের ব্যান্ডের প্রথম গান ‘প্রত্যাশা’ প্রকাশিত হয় ফুয়াদের ‘বন্য’ অ্যালবামে। প্রথম গানটিই শ্রোতাদের আনুকূল্য পায়। শূন্য নামটি ঠাঁই পেয়ে যায় ব্যান্ডপ্রেমীদের পছন্দের তালিকায়। ব্যান্ডের নাম শূন্য নিয়ে তারা বলেন, ‘খুব চিন্তাভাবনা করে ব্যান্ডের নাম রাখা হয়নি। আমরা চাইছিলাম ছোট ও সহজবোধ্য একটি শব্দ, যা প্রথমবার শুনেই মানুষের মনে গেঁথে যাবে। তখনই ‘শূন্য’ শব্দটি আমাদের টেনে নিল। হয়তো এর কারণ আমরা শূন্য থেকে শুরু করেছিলাম বলেই।’ প্রথম গানের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে এবার একক অ্যালবামে নিজেদের প্রকাশ করতে চাইল শূন্য। এ সময় ব্যান্ডে যোগ দেয় বেজ গিটারিস্ট মাইকেল ও ড্রামার লাবিব। শূন্য এবার পূর্ণরূপ পেল। পুরোদমে শুরু করে দিল অ্যালবামের কাজ। এরই মাঝে নানা কনসার্ট মাতিয়ে বেড়ালো শূন্য। এই কনসার্টগুলোই তাদের সাহস জোগাল। ২০০৮ সালের মাঝামাঝি শূন্যের প্রথম একক অ্যালবাম ‘নতুন স্রোত’ প্রকাশ পায়। নতুন ব্যান্ড হওয়ায় কোনো কোম্পানি তাদের পাশে এসে দাঁড়ায়নি। তাই বলে থেমে থাকেনি শূন্য। নিজেরাই তৈরি করে নেন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান মেরুন মিউজিক। এর ব্যানারেই অ্যালবামটি শ্রোতাদের হাতে উঠে আসে। এই অভিজ্ঞতা নিয়ে গিটারিস্ট শাকেরের বয়ান, ‘প্রথম অ্যালবাম বলে নানা রকম সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। নিজের উদ্যোগেই ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের দোকানে দোকানে অ্যালবাম পৌঁছে দিয়েছি। বিশ্বাস ছিল শ্রোতাদের সাড়া পাবই।’ শূন্যের এই প্রচেষ্টা ও স্বপ্ন বিফলে যায়নি। শ্রোতারা তাদের বিমুখ করেনি। এই অ্যালবামের ‘স্রোত’, ‘বেদনা’, ‘শেষ বিকেল’ ও ‘কেউ জানে না’ শিরোনামের গানগুলো শ্রোতাপ্রিয়তা পায়। এরই মাঝে তিনটি মিক্সড অ্যালবামে তিনটি গান প্রকাশ পায়। ‘মিক্সডটেক’ অ্যালবামে ‘গোধূলির ওপারে’, ‘রং’ অ্যালবামে ‘স্বপ্নঘুড়ি’ এবং ‘দ্য রক’ অ্যালবামে ‘শেষ বিকেল’ গানগুলো তাদেরকে সামনে এগিয়ে দেয়। গানে নিজেদের অনুভূতিগুলোকে সহজ ভঙ্গিমায় প্রকাশ করে শূন্য হয়ে ওঠে তরুণদের প্রিয় ব্যান্ড। নিজেদের গানকে তারা কী চোখে দেখেন তা নিয়ে এমিল বললেন, ‘আমরা আসলে নিজেদের ভালোলাগা থেকেই গান করি। গানগুলোকে কেউ সফট রক কেউ মেলো রক বলে। এটা শ্রোতারা দু’ভাবেই নিতে পারেন।’ শ্রোতাদের উত্সাহ পেয়েই শূন্য এরপর আরও দুটি অ্যালবাম প্রকাশ করে। যাদের শিরোনাম ‘শত আশা’ ও ‘গড়ব বাংলাদেশ’। এই অ্যালবামগুলোর গানও শ্রোতাদের আপ্লুত করে। যার প্রমাণ পাওয়া যায় বিভিন্ন কনসার্টে শূন্যের চাহিদা দেখে। কনসার্টের মাঝেই শূন্য তার পূর্ণতা খুঁজে পায়। তাই বলে শুধু কনসার্ট নিয়েই শূন্য এখন ব্যস্ত আছে তা নয়। তারা পরবর্তী অ্যালবাম নিয়েও জোরেশোরে প্রস্তুতি চালাচ্ছেন। ইতোমধ্যে তিন-চারটি গানও হয়ে গেছে। যদিও এখনও এ অ্যালবামের শিরোনাম ঠিক করা হয়নি। তবে এরই মাঝে শূন্য গান নিয়ে প্রথমবারের মতো বিদেশের মাটিতে পা রাখতে যাচ্ছে বলে জানালেন এর ভোকাল এমিল। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি লন্ডনের ইউসিএল বিশ্ববিদ্যালয় মাতাবেন তারা। এভাবেই একদিন শূন্যের কণ্ঠে উচ্চারিত বাংলা গান সারাবিশ্বে ছড়িয়ে যাবে... শূন্য ধন্য করবে আমাদের— এ আশা করাই যায়। শূন্যের লাইনআপ ভোকাল :এমিল গিটার :শাকের বেজ গিটার :মাইকেল ড্রামস :লাবিব