টরেন্টিনো আনচেইন্ড

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০১৩, ১৯:৫২
মুক্তির সাথে সাথেই সাড়া ফেলে দিয়েছে সিনেমাটি। এই ধরনের সিনেমার ক্ষেত্রে পরিচালকের নামটিই যথেষ্ট সিনেমাটি কেমন তা জানার জন্য। মুভিপ্রেমীদের জন্য আরও একটি উপহার, ‘জ্যাঙ্গো আনচেইন্ড’ নিয়ে হাজির হলেন কোয়েন্টিন টরেন্টিনো। সবার প্রিয় পরিচালক ও তার সিনেমার গল্পটি নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম কোয়েন্টিন জেরোম টরেন্টিনো একাধারে একজন মার্কিন চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, চিত্রনাট্য লেখক এবং অভিনেতা। ১৯৬৩ সালের ২৭ মার্চ জন্ম নেওয়া এই মীন রাশির জাতকের জন্মস্থান যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি রাজ্যের নক্সভিলে। অনেকের কাছে তিনি ‘কিউ’ নামেও পরিচিত। ১৯৯১ সালের জানুয়ারিতে ‘রিজর্ভার ডগস’ নামক চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তার ব্যাপক পরিচিতি সৃষ্টি হলেও আসলে তার পরিচালনা এবং অভিনয় জীবনের শুরু ১৯৮৭ সালে ‘মাই বেস্ট ফ্রেন্ডস বার্থডে’ ছবির মাধ্যমে। এর প্রায় তিন বছর পরে ‘পাল্প ফিকশন’-এর মতো স্বকীয়তায় ভাস্বর অন্যধারার ছবি নির্মাণ করেন। ছবিটি যে জনপ্রিয় ছিল তা নয়, এই ছবিটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে পুরস্কারের জন্য অস্কার মনোনয়নও পায়। ভায়োলেন্স বা সহিংসতাকে নান্দনিকভাবে মাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন। ম্যাগাজিন আর্টিস্ট অব এক্সট্রিম ভায়োলেন্সের ভাষ্যমতে, ‘ভায়োলেন্স ইজ ওয়ান অব দ্য মোস্ট ফান থিংস টু ওয়াচ।’ ভায়োলেন্সকে এক্সপ্রেসিভ আর্ট হিসেবে স্পষ্ট রূপায়ণ করেছেন যা অবয়বগতভাবেই মাধুর্যমণ্ডিত। তার অফবিটের এবং স্যাটিয়ারিক্যাল মুভিগুলোতে ক্রোনলজিক্যাল অর্ডারের কিছু ঘটনার স্তরবিচ্ছেদ ঘটিয়ে উপস্থাপন করার টেকনিক তিনি অ্যাপ্লাই করেন। ‘পাল্প ফিকশন’, ‘রিজর্ভার ডগস’, ‘ইনগ্লোরিয়াস বাস্টার্ডস’, ‘ফ্রম ড্যান্স টিল ডাউন’, ‘জ্যাকি ব্রাউন’ মুভিগুলো তার স্বকীয়তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। অনেকেই এই পরিচালককে ম্যাগপাইয়ের সাথে তুলনা করেন। ম্যাগপাই এমন একটা পাখি যে কিনা তার খাবার সংগ্রহ কিংবা আবাস নির্মাণে অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দেয়। এখান থেকে কিছু খড়কুটো তো আরেক জায়গা থেকে কোনো উজ্জ্বল বস্তু অথবা কোনো পতঙ্গের শুককীট সবই সে প্রয়োজনে ব্যবহার করে। টরেন্টিনোকে কালচারাল ম্যাগপাই বলা যায়। তার মুভির আরেকটি বিশেষত্ব হলো পপ মিউজিকের ব্যবহার এবং লংসিকোয়েন্স ও অবশ্যই এক্সেপশনাল, বুদ্ধিদীপ্ত ও শার্প ডায়লগ, যেমন ‘ইনগ্লোরিয়াস বাস্টার্ডস’-এ ব্র্যাড পিটের ডায়লগ ছিল ‘আই থিঙ্ক দিস মাইট যাস্ট বি মাই বেস্ট মাস্টারপিস’। ২০১২-তে মুক্তি পায় তার নতুন সিনেমা, ‘জ্যাঙ্গো আনচেইন্ড’। ‘জ্যাঙ্গো আনচেইন্ড’ ছবিটি সম্পর্কে একটি নামই বলা যথেষ্ট, কোয়ান্টিন টরেন্টিনো। এই বিখ্যাত পরিচালক স্প্যাগেটি ওয়েস্টার্নের ভীষণ ভক্ত। এমন একটি ছবি নির্মাণের ইচ্ছাও তার বহুদিনের। অনেক কিছুরই সংমিশ্রণ ঘটিয়েছেন টরেন্টিনো তার ওয়েস্টার্নে। ছবির কাহিনী আমেরিকায় তখন দাস প্রথা চলছে। ছবিতে এক জার্মান দন্ত চিকিত্সক ও বাউন্টি হান্টার হিসেবে অভিনয় করছেন ক্রিস্টোফার। আর প্রথমবারের মতো নেতিবাচক চরিত্রে দেখা যাবে লিওনার্দো ডিকাপ্রিওকে। ছবিতে কৃষ্ণাঙ্গ দাসদের প্রতি নিষ্ঠুর এক র্যাঞ্চার হিসেবেই দেখা যাবে তাকে। যিনি তার বাড়ির পুরুষ দাসদের নিজেদের মধ্যে লড়াই এবং মেয়েদের পতিতাবৃত্তিতে নামিয়ে অর্থ উপার্জন করেন। স্যামুয়েল এল জ্যাকসন অভিনয় করেছেন লিওনার্দোর দাসদের নিয়ন্ত্রক হিসেবে। এক পালিয়ে যাওয়া দাস, এক জার্মান বাউন্টি হান্টার এবং এক নির্দয় দাস ব্যবসায়ী নিয়েই এগিয়ে চলে সিনেমার গল্প। কিছুদিন আগে শোনা গিয়েছিল কোয়ান্টিন টরেন্টিনোর ‘জ্যাঙ্গো আনচেইন্ড’ ছবির মূল চরিত্র জ্যাঙ্গো হতে চেয়েছিলেন উইল স্মিথ। তার পেছনে আরও লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন শন কম্বস, ফিফটি সেন্ট, অ্যাকনসহ আরও কয়েকজন কৃষ্ণাঙ্গ তারকা। টরেন্টিনোর প্রথম পছন্দও ছিলেন উইল স্মিথ। দুজনে ছবি নিয়ে আলোচনাও করেছেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ছবির অতিরিক্ত সহিংসতার ব্যবহার কমানোয় টরেন্টিনোকে রাজি করাতে না পেরে সরে আসেন উইল স্মিথ। আর তার বদলে জ্যাঙ্গো হয়েছেন ‘কালাটরেল’ তারকা জমি ফক্স। এনবিসি চ্যানেলের সঙ্গে ‘টমিজ লিটল গার্ল’ নামের একটি মাফিয়া ড্রামা সিরিজ করার বিষয়ে অনেকটাই এগিয়েছিলেন জেমি। গত বছরেরই শেষ দিকে সিরিজের শুটিং শুরু হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু তার বদলে তিনি ‘জ্যাঙ্গো আনচেইন্ড’ ছবির শুটিং করেন। টরেন্টিনোর উল্লেখযোগ্য কাজ রিজারভয়ার ডগস (১৯৯২) পাল্প ফিকশন (১৯৯৪) কিল বিল ১ (২০০৩) কিল বিল ২ (২০০৪) ডেথ প্রুফ (২০০৭) ইনগ্লোরিয়াস বাস্টার্ডস (২০০৮) জ্যাঙ্গো আনচেইন্ড (২০১২)