একজন বাবার গল্প

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:২১
টেস্ট ক্রিকেট তো দূরে থাক; কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটই এই কাণ্ড আগে দেখেনি—বাবা-ছেলের এক সঙ্গে মাঠে নামা! তবে সেই ঘটনাই ঘটতে পারে চন্দরপল পরিবারের ক্ষেত্রে। একদিকে বাবা শিবনারায়ণ চন্দরপল এখনও আছেন দারুণ ফর্মে। সর্বশেষ দুই টেস্টেই ডাবল সেঞ্চুরি ও দেড় শতাধিক রানের দুই ইনিংস খেলেছেন। ছেলে ত্যাগনারায়ণ আবার ঘরোয়া ক্রিকেটে আছেন দারুণ ফর্মে। সর্বশেষ তিন ম্যাচে দুই সেঞ্চুরি করে চলে এসেছেন গায়না দলে। অপেক্ষা করছেন প্রথম শ্রেণীর অভিষেকের। মানে স্বাভাবিক গতিতে সব চলছে, জাতীয় দলে দুই জনের দেখা হওয়া অসম্ভব কিছু না। সেটা হলেও ভবিষ্যতের কথা। আপাতত বাংলাদেশে থাকা বাবা শিবনারায়ণের মনটা একটু খারাপ হওয়ার কথা। কারণ ১৬ বছর বয়সী ছেলের প্রথম শ্রেণীর অভিষেকটা মাঠে বসে দেখতে পারবেন না। বিপিএলে সিলেটের হয়ে খেলতে তিনি এখন চট্টগ্রামে। নিজের শুভকামনা নিশ্চয়ই ছেলের সঙ্গে থাকবে। আর পৃথিবী জুড়ে মানুষের শুভ কামনাও থাকবে যে, ত্যাগনারায়ণ যেন সত্যিই ভবিষ্যতের শিবনারায়ণ হিসেবে আবির্ভূত হন। যদিও গতকাল সংবাদ সম্মেলনে শিবনারায়ণ বলে দিলেন, ‘ও ব্যাটিং ভালোই করে। তবে মোটেও আমার মতো ব্যাট করে না। ওর নিজস্ব স্টাইল আছে।’ ছেলের এই প্রথম শ্রেণীর অভিষেকে শিব স্বাভাবিকভাবেই আর দশ জন বাবার মতোই উত্ফুল্ল। কিন্তু ব্যাটসম্যান হিসেবে যেমন, জীবনযাপনেও দেখা যাচ্ছে একইরকম সংযত। সোজা বলে দিলেন, এখনও তার ছেলের অনেক কিছু শিখতে হবে। বেশ কড়া করেই বললেন, ‘১৬ বছর বয়সে ফার্স্ট ক্লাসে ডাক পাওয়া ভালো ব্যাপার। কিন্তু এটা বড় কিছু না। এখান থেকে বেরিয়ে সামনে যেতে গেলে তাকে অনেক পরিশ্রম করতে হবে। আমি ওকে বলেছি, তোমার শেখার সবে শুরু। প্রতিটা বিভাগে, প্রতিটা টেকনিক্যাল ব্যাপারে অনেক শেখার আর পরিশ্রমের আছে। হঠাত্ করে একদিন বড় কিছু হওয়ার কোনো উপায় নেই। তাকে পরিশ্রম করতেই হবে।’ দেখা যাচ্ছে, বাবা হিসেবে বেশ কঠোর মানুষ শিব। নিজেও ১৮ বছর বয়সে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট শুরু করেছিলেন। তাই বাচ্চাদের মনস্তত্ত্ব ভালোই বোঝেন। সেই সঙ্গে বোঝেন তারকা বাবার ছেলের জন্য চ্যালেঞ্জটা আসলে কতো কঠিন। তিনি নৈতিকভাবে ছেলেদের চাপ দিয়ে ক্রিকেটার বানানোর পক্ষে নন। তবে একটা সুবিধাও দেখেন তিনি, ‘প্রথম কথা হল, বাচ্চাটার আদৌ এই খেলার প্রতি ভালোবাসা আছে কি না; দেখতে হবে। তা না থাকলে জোর করে ক্রিকেটার বানালে কিচ্ছু হবে না। আর ভালোবাসা থাকলে একটা সুবিধা আছে, ওকে বেসিক শেখার জন্য খুব বেশি কষ্ট করতে হবে না। এরকম বাবারা নিজের অভিজ্ঞতাটাই ছেলেকে দিলে সে এক ধাপ এগিয়ে যায়। তবে আসল কাজটা তো পরিশ্রম আর শেখার। সেটা ওকেই করতে হবে।’ সবশেষে চন্দরপল কোনোভাবেই চান না তার ছেলে শিবনারায়ণ চন্দরপলের নামে পরিচিত হোক। এমনকি বাবার কপি করতেও নিষেধ করে দিয়ে এসেছেন, ‘আমি বাড়ি থেকে আসার আগেই বলেছি, বড় দলে ডাক পাবে এখন। মাঠে যাও, ভালো ক্রিকেট খেলো। তবে শিবনারায়ণ হওয়ার চেষ্টা করো না। সেটা পারবে না। তুমি হয়তো আমার চেয়েও ভালো ক্রিকেটার হবে। তবে সেটা ত্যাগনারায়ণই হবে। মাঠে গিয়ে নিজের খেলাই খেলবে, অন্য কারোটা নয়।’ এই বাবার ছেলের বড় না হয়ে উপায় আছে!